ওহ! হ্যাটট্রিক তো করেছি : মাশরাফি

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৬ ৯:২২:৩২ পিএম
ইয়াসিন | রাইজিংবিডি.কম

চার বলে চার উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: জনি সোম

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ফতুল্লা থেকে : ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। আনন্দ-উচ্ছ্বাসটা ছিল চোখে-মুখেই। ফতুল্লায় তাই আবাহনীর নয়নমণি হয়ে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

প্রথম ৬ ওভারে ২২ রানে উইকেটশূন্য। শুরুর দিকে ব্যাটসম্যানদের রেখেছিলেন চাপে। উইকেট না পেলেও নিজের বোলিং নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় স্পেলে মাশরাফি ফিরেন ‘দুর্ধর্ষ’ রূপে। পরের ৩.৫ ওভারে আরো ২২ রানে ৬ উইকেট। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত তার হাত ধরেই অগ্রণী ব্যাংকে হারায় আবাহনী। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে মাশরাফি মুখোমুখি হলেন গণমাধ্যমের। ম্যাচ নিয়ে কথা বললেন মন খুলে।

প্রশ্ন: প্রথম স্পেল উইকেটশূন্য দ্বিতীয় স্পেলে ৬ উইকেট, কীভাবে ব্যাখা করবেন?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: শুরুতে আমার বোলিং ভালো হচ্ছিল। প্রত্যেক ম্যাচেই ভালো হয়েছে। আমার জন্য নতুন বলে শুরুটা ভালো হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট না পাই, বোলিং ভালো হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বলে একপাশ থেকে চাপ দিয়ে রাখতে হয়। আমার সামনে যে ম্যাচ (আন্তর্জাতিক) আছে তার জন্যও ভালো হচ্ছে। আমার অনুশীলনটা ভালো হচ্ছে। পুরোনো বলে আমার শক্তি যেটা কাটার, আমি আজকেও সেটা চেষ্টা করেছি। শেষের চারটা উইকেটই কাটারে নিয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে আমার অনুশীলনটা হচ্ছে। সেটাই বড় ব্যাপার।

প্রশ্ন: হ্যাটট্রিকটা কতটুকু আনন্দের ছিল?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: ওহ! হ্যাটট্রিক তো করেছি। সত্যি কথা বলতে ওই অনুভূতিটা নেই। ম্যাচ জিততে পেরেছি সেটাই ভালো লাগছে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতেই আমাদের দলে পেস বোলিংয়ে কিছুটা ঘাটতি আছে। গত ম্যাচটা আমরা এই কারণেই হেরেছিলাম। আজকে আমরা বোলিংয়ের জন্য হেরে যাচ্ছিলাম। এবার জিততে পেরে ভালো লাগছে।



প্রশ্ন: আপনি আসার আগ পর্যন্ত আপনাদের বোলিং তো ভালো ছিল না। কিন্তু আপনি আসার পর তো পাল্টে গেল

মাশরাফি বিন মুর্তজা: আমি যখন আসি, তখন ওদের প্রায় আট বা সাড়ে আট করে রান লাগত। তখন ওদের মারতেই হতো। ওই চাপটা ওরা নিতে পারেনি। চাপটা আমার ওপরও ছিল। আমাদের পেস বোলার বারবার ইনজুরি হয়ে যাচ্ছে, এটাও আমার মাথায় ছিল। ভাগ্যক্রমে জায়গামতো বল করে যেতে পেরেছিলাম।

প্রশ্ন: এমন পরিস্থিতিতে একজন বোলারের কী কী বিষয় মাথায় থাকে?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: অনেক চাপ থাকে। ধরেন, একটা থার্ডম্যান ওপরে রেখেছেন। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে চার হয়ে গেলে চাপ বেড়ে যাবে। এসব বাজে চিন্তা কিন্তু আসে। এসব ক্ষেত্রে ভালো বোলিং করলেও হয় না। ভাগ্যটা পক্ষে আসতে হয়। কেননা যেকোনো সময় কানায় লেগে চার হয়ে যেতে পারে। তখন কিছু করার থাকে না। এজন্য এইসব নেতিবাচক চিন্তা না করে উচিত নিজের শক্তির জায়গা মেনেই বোলিং করা। আমার মাথায় নেতিবাচক চিন্তা আসছিল। একবার ভেবেছি থার্ডম্যান পেছনে নিব নাকি? তারপরও ওপরে রেখেই বোলিং করেছি। যদি হয়ে যায় কিছু করার নাই।

প্রশ্ন: আপনি পারছেন কিন্তু অন্যরা পারছে না কেন?
মাশরাফি বিন মুর্তজা:  উইকেটে তো পেস বোলাদের জন্য তেমন কিছু থাকে না। এবার ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব ভালো উইকেট। পুরো লিগেই বড় স্কোর হয়েছে। আজকে মিরপুরে হয়তো হয়নি। খুব ভালো উইকেটে খেলা হচ্ছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা বিশ্বকাপে যেমন উইকেটে খেলা হয়। ওপরে ঘাস থাকবে কিন্তু ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা হচ্ছে। ব্যাটসম্যানদের জন্য রান করা খুব সহজ এখানে। যদিও একটা ম্যাচ খেলেছি। মিরপুরের উইকেটে খেলে ভালো লেগেছে।



প্রশ্ন: এটা কি অভিজ্ঞতার কারণেই
?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: অভিজ্ঞতা আলাদা একটা জিনিস। এর গুরুত্ব অন্যরকম। তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর তো চাপ দিয়ে লাভ নেই। অভিজ্ঞতা সব সময়ই কাজে দেয়।

প্রশ্ন: মাশরাফির সফলতার কারণ?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: আমার ওপর আমার আত্মবিশ্বাস অনেক। আমি নতুন বলে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকি। এটাই আমাকে সাফল্য এনে দিচ্ছে। নতুন বলে যখন আপনি ভালো করতে থাকবেন, তখন নতুন বলের ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের দিকে চলে আসে। একবার ভালো করা শুরু করলে ছন্দ চলে আসে। হয়তো প্রতি ম্যাচে নতুন বলে ভালো হবে না। তবে বেশিরভাগ ম্যাচে ভালো হলে নিজের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে।

প্রশ্ন: ৮ ম্যাচে ২৫ উইকেট। মাশরাফি শেষ পর্যন্ত নিজের উইকেটকে কোথায় নিয়ে যেতে চায়?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: ওইরকম না। আমি লিগের আগে পরিকল্পনা করেছিলাম, এটা আমার জন্য দারুণ সুযোগ জাতীয় দলের প্রস্তুতিটা ঠিকভাবে করার। সবচেয়ে বড় কথা এটা আমার অনুশীলনের জন্য দারুণ সুযোগ। অন্যরা হয়তো টেস্ট খেলছে, টি-টোয়েন্টি খেলছে, আমি হয়তো পারছি না। ১৫টা ম্যাচ খেলে অন্তত সুযোগটিকে আমার কাজে লাগানোর খুব ইচ্ছে ছিল। সুস্থ থাকলে ১৫টা ম্যাচ খেলতে পারব। উইকেট নিয়ে চিন্তা ছিল না। শ্রীলঙ্কা সিরিজ যে ছন্দে শেষ করেছি, ওখান থেকেই যেন পরের টুর্নামেন্টে বা সিরিজে খেলতে পারি; এ চিন্তা নিয়েই ঢাকা লিগ শুরু করেছিলাম। এখনো সেই একই চিন্তা।

প্রশ্ন: ম্যাচটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন। আপনারা জয়ে ফিরলেন এক ম্যাচ পর?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: সেট ব্যাটসম্যান থাকলে ওরা জিতে যেতে পারতে। ওরা যদি শুরুতে আরো একটু ইতিবাচক ব্যাটিং করত তাহলে জেতার সুযোগ থাকত। সেট ব্যাটসম্যান ছিল দুইজন। আমাদের পেস বোলারের ঘাটতি ছিল। আমাদের ম্যাচ হারার ভালো চান্স ছিল। শেষ ওভারে ১৩ রান লাগত। একটা শট বেড়িয়ে গেলেই তো চার হয়ে যেত।



প্রশ্ন: ভয় কি বন্ধু রাজ্জাককে নিয়েও ছিল?

মাশরাফি বিন মুর্তজা: জানতাম ব্যাটে লাগলে বেড়িয়ে যাবে। ওর ব্যাটেও বল লাগছিল।



রাইজিংবিডি/ফতুল্লা/৬ মার্চ ২০১৮/ইয়াসিন/পরাগ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বার্সার রেকর্ড রাজস্ব আয়

২০১৮-০৭-১৭ ৫:০২:১১ পিএম

যে ৮ বিষয় গুগলে খুঁজবেন না

২০১৮-০৭-১৭ ৪:৪৩:৫২ পিএম

শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে ‘সুলতান’

২০১৮-০৭-১৭ ৪:০৩:৪৬ পিএম