‘লেখকের টাকায় বই প্রকাশ বন্ধ হওয়া উচিত’

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২০ ৫:৫৯:১৮ পিএম
স্বরলিপি | রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভাষাচিত্রের স্বত্বাধিকারী খন্দকার মনিরুল ইসলাম। জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন দেশের প্রকাশনা শিল্প নিয়ে। একুশে গ্রন্থমেলা, সৃজনশীল বই, বইয়ের বিপণন ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর নিজস্ব ভাবনা রয়েছে। তরুণ প্রকাশক হিসেবে তাঁর সৃজনশীলতা সমাদৃত হয়েছে। তরুণ লেখকদের নিয়েও রয়েছে তাঁর ভিন্নভাবনা। সেই ভাবনাগুলো স্বরলিপির সঙ্গে কথোপকথনে মূর্ত হয়ে উঠেছে। রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো।

স্বরলিপি: একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশকদের স্টল নেয়ার ক্ষেত্রে যে শর্তগুলো থাকে তা কতটা যৌক্তিক মনে করেন?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: বাংলা একাডেমি যে কর্তৃত্ব এখানে করে, প্রকাশকদের আসলে কিছু করার থাকে না। স্টল পেতে প্রকাশকের কতগুলো বই থাকতে হবে তারা নির্ধারণ করে দেয়- এটা হাস্যকর! কারণ ট্রেড লাইসেন্স যেটা আছে, সেটাই যথেষ্ট। আমি প্রকাশক না হলে আমার লাইসেন্স থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। ব্যাপারটি বাণিজ্যমেলার মতো- হাঁড়ি-পাতিল আগে দেখাও, তারপর স্টল নাও। ইদানিং নতুন আরও কয়েকটি শর্ত যোগ হয়েছে- লেখক-প্রকাশক চুক্তিনামা। লেখককে রয়ালিটি দেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। আমি মনে করি, বিষয়টি লেখকদের জন্যও দৃষ্টিকটু। কারণ কোনো একজন লেখকের বই বেশি বিক্রি হয়, সে বেশি টাকা পায়। আবার যে লেখকের বই কম বিক্রি হয়, সে কম পায়। ফলে দেখা গেল একজন পেল এক লাখ টাকা, আরেকজন পেল দুই হাজার টাকা। এটা কি কিছুটা গোপনীয় ব্যাপার নয়?

স্বরলিপি: ফেব্রুয়ারি এলেই লেখক-প্রকাশক উভয় দিক থেকেই তাড়াহুড়ো লক্ষ্য করা যায়। গত বছর মার্চ থেকে জানুয়ারি- আপনার প্রকাশনী থেকে কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: হয়েছে, তবে সংখ্যাটি বেশি নয়। দেশের বইয়ের বাজার মাসকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে লেখক লেখেন, প্রকাশক বই প্রকাশ করেন, সাংবাদিকরাও এই মাসকেন্দ্রিক বইয়ের নিউজ প্রকাশ করেন। এটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য খারাপ। এজন্য সকলেই দায়ী। এখানে বাজার নেই। কলকাতায় যেমন কলেজ স্ট্রিট রয়েছে। সেখানে বই প্রকাশ হলে, কলেজ স্ট্রিটে যদি একটা অনুষ্ঠান করা হয়; অনেকে জমায়েত হবেন। সবাই বিষয়টি জানবে। অথচ এখানে প্রকাশকদের জন্য নির্দিষ্ট মার্কেট নেই।  এখানে যদি পরিবর্তন আনতে হয় তাহলে লেখক, প্রকাশক, সাংবাদিক, পাঠক সবার কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমগুলোতে বিনোদন পাতা থাকে, সাহিত্য পাতাও থাকে। দেখার বিষয় হলো- বুক রিভিউ হয় কয়টা সাহিত্যপাতায়? এগুলো ভাবতে হবে। সবচেয়ে মূল যে সমস্যা- বইয়ের নামে কী ছাপছি? আজকে একটা বই ছাপা হলো, আগামী বছরই কেউ বললো, ‘না, এটা তো পুরোনো জিনিস’। অর্থাৎ বই পুরোনো হয়ে যায়। কোনো পাঠক যদি বলেন- বইটা পুরোনো; তাহলে বুঝতে হবে- সেটা আসলে বই-ই হয়নি। রবীন্দ্রনাথের বই, নজরুলের বই পুনঃমুদ্রণ হচ্ছে। সেগুলো পাঠক বারবার পড়ছেন। অথচ এখন যেসব বই ছাপা হচ্ছে, তা পরের বছরই পুরোনো হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ বইটি পাঠযোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে। এই সমস্যা সমাধানে, আমাদের ভালো বই প্রকাশ করা উচিত। লেখকদের ভালো বই লেখা উচিত এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভালো বই প্রমোট করা উচিত।

স্বরলিপি: সৃজনশীল বইয়ের বিপণন পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশের অনেক প্রকাশক আছেন যাদের নিজস্ব আউটলেট নেই।  আজিজ মার্কেটে আগে বই বিপণনের ভালো জায়গা ছিলো। প্রকাশকরা কিছু সুবিধা সেখানে পেতেন। এখন অবশ্য রাজধানীকেন্দ্রিক কিছু বুকশপ হয়েছে। কিন্তু ওই বুক শপগুলোতে খুব সিলেক্টেড বই থাকে। ধরুন, আমার বইয়ের সংখ্যা পাঁচশ। ‘বেঙ্গল’ হয়তো আমার পঞ্চাশটি বই নেবে। ‘বাতিঘর’ হয়তো বিশটা বই নেবে। যে বইগুলো পাঠকপ্রিয় সেগুলো তারা রাখে। কিন্তু বই প্রমোট করাও এই ধরণের বুকশপের কাজ। লাইব্রেরিয়ান এক সময় কী করতো? এখন আমরা বইয়ের দোকানদার। বইয়ের তো দোকানদার হয় না। বইয়ের দোকানে যে থাকে তার তো ‘লাইব্রেরিয়ান’ হওয়া উচিত। লাইব্রেরিয়ানের কাজ- ভালো বই পড়তে পাঠককে উদ্বুদ্ধ করা। সেই জিনিসটিও নেই। সত্যি বলতে, বাংলাদেশে তেমন কোনো বইয়ের দোকানই নেই। যেগুলোকে আমরা ‘বইয়ের দোকান’ বলছি সেগুলো হচ্ছে টেক্সট বুক, গাইড বই বিক্রির দোকান।

স্বরলিপি: আপনি সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশনা সমিতির অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক। প্রকাশনার মানোন্নয়নে আপনারা কতটা ভূমিকা রাখতে পারছেন?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: আমরা যে নির্বাচন করেছিলাম, মেনোফেস্টোতে এই বিষয়গুলো ছিলো- বিভাগীয় শহরগুলোতে লাইব্রেরি, বুকশপ, বুকমার্কেট হোক এটা আমরা চাই। আমরা চেষ্টা করছি। সরকারের সহযোগিতায় এটা করা সম্ভব। এই সরকার বইবান্ধব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই একজন লেখক। বড় বড় অনেক মন্ত্রী-সচিব লেখক আছেন। ফলে আমরা আশাবাদী। আমরা সমিতিগতভাবে চেষ্টা করছি বুক প্রমোশনের জন্য কাজ করবো। নতুন কিছু একটা করবো যা আগে হয়নি। নিজেদের উদ্যোগে কিছু বইমেলা করবো। গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা তখন প্রয়োজন হবে।

স্বরলিপি: বাংলা একাডেমি কীভাবে আরো প্রকাশকবান্ধব হতে পারে? আপনার প্রত্যাশা কী?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: আমি প্রতিবছর কলকাতার আন্তর্জাতিক বইমেলায় যাই। কারণ ওদের বইমেলার যে পাঠকপ্রিয়তা, যে আয়োজনপ্রিয়তা; আয়োজনপ্রিয়তা বলতে বোঝাচ্ছি, আপনি যখন কলকাতা সিটিতে প্রবেশ করবেন বিভিন্ন জায়গা থেকেই বুঝতে পারবেন শহরে বইমেলা হচ্ছে। ওখানকার সিটি কর্পোরেশন, পুলিশপ্রশাসন বিশাল বিলবোর্ড দিয়ে শহরজুড়ে বইমেলার একটা আবেশ তৈরি করে। বিভিন্ন লোকেশন থেকে তীরচিহ্ন দেয়া আছে ‘বইমেলা এইদিকে’। বইমেলার জন্য স্পেশাল বাস সার্ভিসও ছিলো। সেখানে রাষ্ট্র বইমেলার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। বিভিন্ন চ্যানেলে বইমেলার বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। বইমেলা চত্বরে অন্তত গেইট আছে সাতটা। এবং সেগুলো বিশাল! পাঠকের জন্যও রয়েছে নানাবিধ সুবিধা। ওদের যে স্টল বিন্যাস, কোনো প্রকাশক বলে না- তার স্টল খারাপ জায়গায় পড়েছে। তার কারণ, সব পাশেই গেইট আছে। আমাদের এখানে এক গেইট দিয়ে ঢোকা যাবে, আরেক গেইট দিয়ে বের হতে হবে। কালীমন্দির গেইট দিয়ে ঢোকা যাবে না, আবার বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে ঢুকবেন, বের হতে হবে আরেক দিক দিয়ে। টিএসসি’র ওদিকে একটা গেইট আছে, আর কোনো গেইট নাই। তার মানে, পশ্চিমপাশের স্টলগুলোতে যারা ইনভেস্ট করেছে তারা সেই টাকা তুলতে পারবেন না। এখানে যেসব প্রকাশক অল ইন অল না তারা প্রকাশনার পাশাপাশি অন্য কিছু করে। আমি নিজেও অন্য কিছু করি জীবিকা নির্বাহের জন্য। সেরকম অনেক প্রকাশক গতবছরও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবছরও হবেন;  শুধুমাত্র বাংলা একাডেমির ব্যবস্থাপনার জন্য। এই ব্যবস্থাপনা আসলে হয় না। এটা আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে হবে। বর্তমান মহাপরিচালক আমাদেরই একজন- ওয়েল বিহ্যাভ। এর আগে যিনি ছিলেন তাকে অনেকে ভয় পেত। নতুন মহাপরিচালকের সঙ্গে মার্চেই আমরা মিটিং করব। বইমেলাটাকে আসলে চেঞ্জ করতে হবে। সেটা সম্ভব। প্রকৃত প্রকাশক ছাড়া, অনেক অপ্রকাশক, ভুঁইফোড় কিছু লোকজন প্রতিবছর স্টল পাচ্ছে- এটাকে যদি ঠেকানো যায় আরকি! এখানে গণমাধ্যমকর্মীদেরও অনেক সহযোগিতার ব্যাপার রয়েছে। তারা এই প্রশ্নটা তুলতে পারে।

স্বরলিপি: বাংলা একাডেমির বাইরে বইমেলার আয়োজন হতে পারে না?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: নূর মোহাম্মদ তালুকদার নামে একজন ছিলেন। তিনি থাকাকালীন পাবলিক লাইব্রেরিকেন্দ্রীক অনেক বইমেলা হয়েছে। ওখানে আমরা চমৎকার সব বইমেলার আয়োজন করেছিলাম। ইদানিং পাবলিক লাইব্রেরি সেটা অনুৎসাহিত করছে। কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে লাইব্রেরির ডিসটার্ব হচ্ছে। কিন্তু কেবলমাত্র পাবলিক লাইব্রেরিতে না, সারা বাংলাদেশেই লাইব্রেরি আছে, শিল্পকলা একাডেমি আছে, শিশু একাডেমি আছে; সমস্ত জায়গাগুলোতে যদি মেলার আয়োজন করা যায়, তাহলে বইমেলা কেবল ফেব্রুয়ারির বলয়ে থাকবে না। আমরা সভা-সেমিনারে বিভিন্ন সময় বলি, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বই পড়া দরকার। এগুলো আসলেই সেমিনারের ভাষা, সারা বছর বইমেলার কিছুই হয় না।

স্বরলিপি: রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বছরজুড়ে বই কেনে- এ ক্ষেত্রে বই নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হয় বলে মনে করেন?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: এ প্রসঙ্গে আমি আমার জায়গা থেকে বলছি- এটা হাস্যকর। সরকার বা সংগঠন বই কেনে না, তারা আসলে লেখক কেনে। অর্থাৎ বইয়ের তালিকা হয় লেখকের নাম অনুযায়ী। আপনি যখন বই কিনবেন তখন সিরিয়াল নম্বর কেমন হওয়া উচিত- সিরিয়াল নম্বর এক. একটা বইয়ের নাম। দুই. বইয়ের নাম। তিন. বইয়ের নাম। কিন্তু এখানে যে তালিকা হয়, সিরিয়াল নম্বর এক. সেলিনা হোসেন। সিরিয়াল নম্বর দুই. হাসান আজিজুল হক। সিরিয়াল নম্বর তিন. নির্মলেন্দু গুণ। বইয়ের নাম এই নামগুলোর পাশে থাকে। সুতরাং বড় বড় যতো লেখক আছে তাদের বই কেনা হয়। আমি নিজেই এর সাক্ষী। সিরিয়ালে ওরা লেখকদের টিক চিহ্ন দেন। অর্থাৎ নতুন কোনো লেখক, নতুন কোনো বিষয়, নতুন কোনো ভালো বই; সেগুলো কেনা থেকে প্রতিবছরই তারা বিরত থাকছে। এখানে একটা সিন্ডিকেট থাকে। বড় বড় প্রকাশকদের কোটা থাকে। লেখকদেরও কোটা থাকে।

স্বরলিপি: এমন কোনো বিষয় রয়েছে বর্তমান প্রকাশনায়, যে বিষয়টি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: লেখকের টাকা নিয়ে অনেক বই প্রকাশ হয়। একে বলে ‘ভ্যানিটি পাবলিকেশন’। এই ধরণের পাবলিকেশনের জন্মই হয়, লেখকের টাকায় বই প্রকাশের জন্য। এই বিষয়গুলো যদি সমালোচকদের নজরে আসে, তাহলে আলোচনা হবে এবং বন্ধ হবে। লেখকের টাকায় বই প্রকাশ অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত।

স্বরলিপি: আপনার প্রকাশনা ‘ভাষাচিত্র’ সম্পর্কে জানতে চাই। আপনি পাণ্ডুলিপি নির্বাচন থেকে শুরু করে ছাপা হওয়া- কী ধরণের পদ্ধতি অনুসরণ করেন?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: আমাদের নিয়োগকৃত পাণ্ডুলিপি সম্পাদক নেই। কিন্তু আমাদের গ্রুপ অব রাইটারস; যারা সিনিয়র, তারা  প্রথমত পাণ্ডুলিপি  দেখেন। আন-অফিসিয়ালি আমরা তাদের ‘এডিটর’ বলি। এবার আমরা এমন চারটি বই করছি যাদের পাণ্ডুলিপি প্রায় এক বছর আগে জমা পড়েছিল। চাণক্য বাড়ৈ তরুণ লেখক। তার বই প্রকাশ করেছি এবছর। এই পাণ্ডুলিপি একবছর আগে পাওয়া। আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই রাইটারকে প্রমোট করা যায়। চিনুয়া আচেবের নির্বাচিত ছোটগল্প আমরা এবার প্রকাশ করলাম। মনে হয়েছে, এই বইটা সারা জীবনের বই। এই বইটি রিপ্রিন্ট হবে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি বই প্রকাশ করেছি যেগুলো রিপ্রিন্ট হবে। অথচ এই পাণ্ডুলিপি আমাদের কাছে দীর্ঘদিন জমা ছিলো। আমরা সময় নিয়েছি, লেখকও সময় দিয়েছেন। কিন্তু অনেক সময় পাণ্ডুলিপি পড়ে আমরা যদি বলি, এই এই জায়গায় পরিবর্তন প্রয়োজন। তখন দেখা যায় লেখক পাণ্ডুলিপি ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তারপর একমাসের মধ্যে অন্য জায়গা থেকে বই ছেপে আমাকে এককপি দিয়ে যায়। অর্থাৎ সে তার টাকায় বইটা ছেপেছে- এটা দেখায়। এখানে পেশাদারিত্বের এই জায়গাগুলো হাস্যকর। পাবলিশার লেখকের অভিভাবক, এই বিষয়টা মানতে হবে। মানতে পারলেই মঙ্গল। এটাও ঠিক দেশে সেরকম পাবলিশারও থাকতে হবে।

স্বরলিপি: সাদাত হোসাইনের একাধিক বইয়ের প্রকাশক ‘ভাষাচিত্র’। বলা যায়, তার লেখক-যাত্রা এই প্রকাশনী থেকে। এবার এখান থেকে তার কি বই বের করছেন?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: ইদানিং শুধু সে নয়, তরুণ লেখকদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে- খুব দ্রুত তারা বড় হতে চায়; এই প্রবণতা ওদের মধ্যে কাজ করে। প্রকাশক একজন লেখকের অভিভাবক। তাকে শেলটার দেয়। ধীরে ধীরে একটা গাছের মতো বড় করে। তারপর গাছটি বড় হয়, সবুজ পাতা ছড়ায়। তো, সাদাত হোসাইন সাত/আট বছর পরে, তার এখন অনেক ফ্যান ফলোয়ার। তার কাছে এখন মনে হয়েছে, প্রকাশক লেখককে নার্সিং করেন না, লেখকই প্রকাশককে নার্সিং করে। তার যেহেতু এখন অনেক পরিচিতি, সে ভাবছে- প্রকাশক তার মাধ্যমে পরিচিত হচ্ছে। জনপ্রিয়তার মোহ থেকে তার এই বোধদয় হয়েছে। এই বোধদয়ের সঙ্গে ‘ভাষাচিত্র’ যায় না। ভাষাচিত্র অনেক তরুণ লেখকদের নিয়ে কাজ করেছে। তাদের মধ্যে ও হয়তো জনপ্রিয় হয়েছে। তাছাড়া ‘ভাষাচিত্র’র শক্তির জায়গা আরও অনেক আছে। আমাদের অনুবাদের বই, কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর বিক্রি হয়। তথ্য-প্রযুক্তি, চলচ্চিত্রের বইও। রুদ্র আরিফ, উদিসা ইসলাম, তাপস রায়, রুবাইয়াৎ আহমেদ, শাহাদাত রুমনের সঙ্গে আমরা কাজ করছি। সাদাত হোসাইন আমাদের এথিক্সের সঙ্গে কিছু প্রবলেম তৈরি করে ফেলেছিল। ফলে কাজ করা সম্ভব হয়নি। সে অনেক বড় হয়ে গেছে। বড় লেখকদের সঙ্গে ‘ভাষাচিত্র’ যায় না। এখন আমাকে বলুন তো- এই প্রশ্নটি কেন করলেন?

স্বরলিপি: ‘রকমারি’র বই বিক্রির তালিকায় দেখলাম, সাদাত হোসাইনের বেশ কয়েকটি বই।বইগুলোর প্রকাশক ‘ভাষাচিত্র’। তাই জানতে চাওয়া।
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: শুনুন, সাদাত হোসাইন চায় ‘ভাষাচিত্র’র সাইনবোর্ডের উপরে বিশাল একটা ছবি থাকবে। কারণ, হুমায়ূন আহমেদের ছবি থাকে অন্যপ্রকাশে। সুতরাং তারও এখন ছবি লাগবে। একজন অভিভাবক হিসেবে গত দুই-তিন বছরে যা যা করার, সেটা আমি করেছি। কিন্তু তার আসলে ছবি লাগবেই। এবার তার স্টলে বিশাল ছবি টানানো হয়েছে। স্টলের সাইনবোর্ডের একেবারে উপরে, লোগোরও উপরে- এগুলো হাস্যকর!জনপ্রিয়তার মোহ তার মধ্যে এসেছে, এভাবে চলতে থাকলে আমাদের খারাপ লাগবে যদি ছেলেটার মেধা নষ্ট হয়ে যায়।

স্বরলিপি: আপনি অনেক তরুণের বই প্রকাশ করেছেন। কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে- এই সময়ে এসে আপনার উপলব্ধি কী?
খন্দকার মনিরুল ইসলাম: আমারও অনেক ভুলভ্রান্তি আছে। আমি অনেক স্বপ্ন দেখি প্রকাশনা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে। যদিও আমি সেভাবে করতে পারছি না। আমি বলি, সিক্সটি পার্সেন্ট বই পাবলিশ করা আমার ভুল হয়েছে কিন্তু কিছু করার নেই।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/তারা

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

কুড়িগ্রামে বিরল বনরুই উদ্ধার

২০১৯-০৫-২৪ ৭:৪৩:৫২ পিএম

১৯তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

২০১৯-০৫-২৪ ৭:২৯:০৬ পিএম