কালো টাকা ছড়ানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ লিটন-বুলবুলের

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১৮ ৯:৫০:৫১ পিএম
তানজিমুল হক | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী সিটি নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দুই মেয়রপ্রার্থী।

বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেছেন, ভোটের মাঠে কালো টাকা ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ। আর ভোটের তিন দিন আগে থেকে পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তিনি নির্বাচনে থাকবেন না।

আর আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের অভিযোগ, নৌকার গণজোয়ার আঁচ করে বোমাবাজি শুরু করেছে বিএনপি। কালো টাকা ছড়িয়ে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহীতে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র প্রার্থী এ সব অভিযোগ করেন। তাদের এ ধরনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে মতবিনিময় সভা রূপ নেয় একরকম বিতর্ক প্রতিযোগিতায়।

ভোটের মাঠে কালো টাকা ও পোস্টার সন্ত্রাস চলছে- অভিযোগ এনে  বিএনপির মেয়রপ্রার্থী বুলবুল বলেন, সরকার দলীয় লোকদের দাপটে ভোট উৎসব নয়, যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন নিজের নিরাপত্তা নিয়েও। তবে সভার প্রধান অতিথি নির্বাচন কমিশনার (ইসি) শাহাদত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, রাজশাহী সিটি নির্বাচন হবে ইতিহাসে স্মরণীয়।

সভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন। তিনি লিটনের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে বিষোদগার করেন। বলেন, ‘‘রাজশাহীতে পোস্টার সন্ত্রাস চলছে। আমার পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে পাশের ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হচ্ছে। এটি কোনো নির্বাচনের পরিস্থিতি নয়, এটি যুদ্ধের পরিস্থিতি। কালো টাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী পুরো নগরীকে পোস্টারে পোস্টারে ভরে ফেলেছেন।’’

বক্তব্য দিতে গিয়ে পাল্টা অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘‘কালো টাকা কাদের কাছে আছে, কারা কালো টাকা দিয়ে জ্বালাও-পোড়াও করেছিল, মানুষ পুড়িয়েছিল এবং কারা হাজার হাজার কোটি কালো টাকা ব্যবহার করে দেশের রাজনীতিকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে চেয়েছিল, অবৈধপন্থায় সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিল, তা মানুষ জানে।’’

নগরীতে প্রার্থীদের পোস্টার ও ফেস্টুনের ছড়াছড়ি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, শহরের অনেক স্থানে প্রার্থীদের ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ পোস্টার-ফেস্টুন আছে। এগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। কেবল নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট মাপেরই পোস্টার দিয়ে ভোটের প্রচারণা চালানো যাবে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজশাহীর নির্বাচনি অবস্থা ভালো আছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেই জন্য নির্বাচন কমিশন সজাগ রয়েছে। সচিবের আশা, তারা সফল ভোটের রেকর্ড গড়তে করতে প্রস্তুতি শেষ করেছেন।

জেলা কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাকযুদ্ধ শেষে মঞ্চ থেকে নেমে কোলাকুলি করেন মেয়র প্রার্থী লিটন ও বুলবুল। সোফায় বসেনও পাশাপাশি। অনুষ্ঠানে নির্বাচনের অন্য মেয়রপ্রার্থী এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান।



রাইজিংবিডি/রাজশাহী/১৮ জুলাই ২০১৮/তানজিমুল হক/বকুল

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ঘুরে দাঁড়াতে চায় জিম্বাবুয়ে

২০১৮-১০-২৩ ৪:১৭:২৫ পিএম

অজয়-সাইফের সঙ্গে সালমান!

২০১৮-১০-২৩ ৪:১৫:০৬ পিএম

অব্যাহতি পেলেন সেলিম ওসমান

২০১৮-১০-২৩ ৩:২৬:২৬ পিএম