১৯৯৯ বিশ্বকাপ : বাংলাদেশের চমক, অস্ট্রেলিয়ার ‘হ্যাটট্রিকের’ শুরু

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-২৪ ৯:২২:৫৭ এএম
ইয়াসিন | রাইজিংবিডি.কম

ক্রীড়া ডেস্ক: দিন তারিখের হিসেব ফুরিয়ে আর মাত্র কয়েক দিন পরেই মাঠে গড়াবে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯। অংশগ্রহণকারী দশ দলের বেশ কয়েকটি এর মধ্যেই পা রেখেছে আয়োজক ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের মাটিতে। নতুন বিশ্বকাপে উন্মাদনায় ভেসে যাওয়ার আগে একবার ফিরে তাকানো যাক ১৯৯৯ বিশ্বকাপের দিকে।

৯৯’র বিশ্বকাপকে আলাদা করে মনে রাখার মতো ঘটনা কয়েকটি। সর্বপ্রথম আসবে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার নাটকীয় টাই’র কথা। এরপর রানার্সআপ পাকিস্তানের বাংলাদেশের বিপক্ষে হার আর অস্ট্রেলিয়ার ‘হ্যাটট্রিকের’ শুরুর গল্প দিয়েই।

সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ টাই করে মুখোমুখি লড়াইয়ে শেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২১৪ রান তাড়া করে জয়ের জন্য শেষ ওভারে মাত্র ৯ রান লাগত দক্ষিণ আফ্রিকার। বিস্ফোরক ব্যাটিং করা ল্যান্স ক্লুজনার প্রথম দুই বলে দুটো চার মেরে ম্যাচটিকে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে এসেছিলেন। ৪ বলে মাত্র ১ রান লাগত। কিন্তু ওখানেই সব শেষ। চতুর্থ বল ব্যাটে লাগিয়ে পাগলাটে দৌড় দিলেন ক্লুজনার। ডোনাল্ড প্রথমে রান নিতে মানা করেছিলেন, যখন দেখলেন ক্লুজনার অনেকটাই এগিয়ে এসেছেন তখন বাধ্য হয়ে তিনিও দৌড় দিলেন। কিন্তু প্রান্ত বদল করতে পারলেন না। ফলাফল ম্যাচ টাই, মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে অসিরা ফাইনালে।
 


ওই আসরে বিশ্বকাপ অভিষেক বাংলাদেশের। প্রথম আসরেই বাজিমাত আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দলের। পাকিস্তানকে হারিয়ে পুরো বিশ্বকে চমকে দেয় বাংলাদেশ। নর্দাম্পটনে বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করে করেছিল ৯ উইকেটে ২২৩ রান। পাকিস্তান ভালো শুরুর পরও আটকে যায় ১৬১ রানে। বাংলাদেশ ম্যাচ হেতে ৬২ রানে। ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে খালেদ মাহমুদ হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। ওই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ হারিয়েছিল স্কটল্যান্ডকেও। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন মেহরাব হোসেন অপি। ১২৯ বলে করেছিলেন ৬৪ রান।

পাকিস্তান বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ হারলেও তাদেরকে আটকে রাখা যায়নি। গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষে তারা ভালোভাবেই সুপারসিক্সের গন্ডি পেরোয়। সেমিফাইনালে তারা ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। নিউজিল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারিয়ে পেয়ে যায় ফাইনালের টিকিট। কিন্তু ফাইনাল জেতা হয়নি ৯২’র চ্যাম্পিয়নদের।
 


ওই বিশ্বকাপ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ‘হ্যাটট্রিক’ শিরোপার যাত্রা শুরু হয়। গ্রুপ পর্ব ও সুপার সিক্সে সমান ৫ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে স্টিভ ওয়াহর দল। এর সেমিফাইনালে সেই নাটকীয় টাইয়ে কপাল খুলে তাদের। ‍সুপার সিক্সে তারা প্রোটিয়াদের হারিয়েছিল ৫ উইকেটে। সেই জয়ে ফাইনাল ভাগ্য খুলে তাদের। আর লর্ডসে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তানকে দর্শক বানিয়ে শিরোপা জেতে অসিরা। ওই আসরের পর ২০০৩ ও ২০০৭ সালেও বিশ্বকাপের মুকুট জেতে অস্ট্রেলিয়া।

সেবার বিশ্বকাপে রাহুল দ্রাবিড় সর্বোচ্চ ৪৬১ রান করেছিলেন। বল হাতে শেন ওয়ার্ন পেয়েছিলেন ২০ উইকেট।

৯৯’র বিশ্বকাপে আইসিসি'র সদস্যভূক্ত ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ ও ২টি সহযোগী সদস্যদেশ অংশ নেয়। কেনিয়া ও স্কটল্যান্ড যুক্ত হয় বিশ্বকাপে।  ১২টি দল দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বিশ্বকাপ খেলে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় তিনটি দল সুপার সিক্সে লড়াই করে। সেখান থেকে শীর্ষ চার দল খেলে সেমিফাইনাল।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ মে ২০১৯/ইয়াসিন

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ‌্য জব্দ

২০১৯-০৬-২৭ ৫:৩৩:৫৬ পিএম

শিশু ধর্ষণ : ইমামসহ দুজনের সাজা

২০১৯-০৬-২৭ ৫:০৯:৫৫ পিএম

‘বলিউডে বন্ধুত্ব করতে আসিনি’

২০১৯-০৬-২৭ ৪:৪৩:৩১ পিএম