পাকিস্তানের ভুলের মাশুল ভারতের রানের পাহাড়

প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১৬ ৮:৩২:১৯ পিএম
আবু হোসেন পরাগ | রাইজিংবিডি.কম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যে জুটি ভাঙতে পারত ৪৭ রানে। সেই জুটিতে এলো ১৩৬ রান! যে ব্যাটসম্যান আউট হতে পারতেন ৩২ রানে। সেই ব্যাটসম্যান করলেন ১৪০ রান!

ইনিংসের সেটি দশম ওভার। ওয়াহাব রিয়াজকে মিড উইকেটে খেলে সিঙ্গেল নিলেন লোকেশ রাহুল। রোহিত শর্মা নিতে চেয়েছিলেন ডাবল। প্রায় অর্ধেক পিচ চলেও এসেছিলেন তিনি। তাকে ফিরিয়ে দেন রাহুল।

ভারত প্রথম উইকেট হারাতে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্চিল তখন। কিন্তু ফখর জামান বল ধরে থ্রোটা করলেন ভুল প্রান্তে। নন স্ট্রাইকে তার করা থ্রোটা ধরে উইকেটকিপারকে দিয়েছিলেন অবশ্য ফিল্ডার। রোহিত ততক্ষণে পৌঁছে গেছেন নিরাপদ স্থানে।

ফখর জামানের মারাত্মক সেই ভুলের মাশুল- উদ্বোধনী জুটির সেঞ্চুরি, রোহিতের নিজের সেঞ্চুরি। আর সবকিছুর যোগফল বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ রান- ৫ উইকেটে ৩৩৬।

বিশ্বকাপে এত রান তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। আবার বিশ্বকাপ ভারতকে কখনো হারাতে পারেনি পাকিস্তান। আজ জিততে হলে পাকিস্তানকে তাই অনেক ইতিহাসই বদলাতে হবে!

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মেঘলা আকাশের নিচে কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগাতে টস জিতে বোলিং নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। তবে মোহাম্মদ আমির ছাড়া পাকিস্তানের বাকি বোলাররা পাত্তাই পাননি। রোহিত শুরু করেছিলেন আক্রমণাত্মক। শিখর ধাওয়ানের চোটে ওপেনিংয়ে উঠে আসা রাহুল ছিলেন কিছুটা সাবধানী।

ভারত প্রথম ১০ ওভারে তোলে ৫৩ রান। এরপর রান তোলার গতি বাড়ে আরো। রোহিত ফিফটি পূর্ণ করেন ৩৪ বলে, রাহুল ৬৯ বলে। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে শতরানের উদ্বোধনী জুটি পায় ভারত। রোহিত-রাহুলের পেছনে পড়ে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে শচীন টেন্ডুলকার ও নবজ্যোত সিং সিধুর ৯০ রানের জুটি।

ফিফটির পর ইনিংস আর বড় বেশি করতে পারেননি রাহুল (৫৭)। তাকে ফিরিয়ে ১৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ওয়াহাব রিয়াজ। রোহিত এরপর চালিয়ে গেছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে সঙ্গী করে। ডানহাতি ওপেনার এই বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় আর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৪তম সেঞ্চুরি তুলে নেন ৮৫ বলে।

যেভাবে খেলছিলেন তাতে রোহিত এই বিশ্বকাপের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করবেন বলেও আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে দেড়শর আগেই তাকে থামান হাসান আলী। স্লোয়ার বল স্কুপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় রোহিতের ১১৩ বলে ১৪ চার ও ৩ ছক্কায় ১৪০ রানের ইনিংসটি।

চারে নেমে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। তবে তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি আমির। ১৯ বলে পান্ডিয়া করেন ২৬ রান। আমির টিকতে দেননি মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও (১)।

এর একটু পরই ম্যানচেস্টারে নামে বৃষ্টি। ৪৬ ওভার ৪ বলে ভারতের সংগ্রহ তখন ৪ উইকেটে ৩০৫। কোহলি ততক্ষণে পেয়ে গেছেন ফিফটি। হাসান আলীকে টানা দুই চার হাঁকানোর পথে শচীন টেন্ডুলকারকে (২৭৬ ইনিংস) ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১১  হাজার রানের রেকর্ডটাও নিজের করে নেন ভারত অধিনায়ক।

বৃষ্টির পর আবার খেলা শুরু হলে বাকি ২০ বলে ৩১ রানের বেশি করতে পারেনি ভারত। আমিরের তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে ৬৫ বলে ৭ চারে ৭৭ রান করেন কোহলি। ১৫ বলে ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন বিজয় শঙ্কর। ভারতের সংগ্রহটা আরো বড় হতে পারত। তবে আমির সেটি হতে দেননি। বাঁহাতি পেসার ১০ ওভারে ৪৭ রানে নেন ৩ উইকেট।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ জুন ২০১৯/পরাগ

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

তুরস্কে বাস উল্টে ১৭ জন নিহত

২০১৯-০৭-১৮ ১০:৩২:৩৭ পিএম

শেষ ম্যাচে হারল বাংলাদেশ

২০১৯-০৭-১৮ ১০:৩০:৪৫ পিএম

২৯৯ রানে পিছিয়ে বিসিবি একাদশ

২০১৯-০৭-১৮ ১০:২২:৪৪ পিএম

জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের আহ্বান

২০১৯-০৭-১৮ ৯:০৩:৫৫ পিএম

সরকার গণতন্ত্র হরণ করেছে : ফখরুল

২০১৯-০৭-১৮ ৮:৩৫:৩৩ পিএম