ওয়ালটনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৮ ৪:৪৭:৩০ পিএম
হাসান মাহামুদ | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সময় এখন নারীর : উন্নয়নে তারা বদলে যাচ্ছে গ্রাম শহরের কর্মজীবন ধারা’ প্রতিপাদ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ দেশের অন্যতম শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপ দিবসটি পালন করেছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে সকাল থেকেই দেশের অন্যতম বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানে সব বিভাগের কর্মীদের মধ্যে ছিল সাজ সাজ রব। বিশেষ করে নারী কর্মীরা আজ সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে মেতে ছিলেন। কম যান নি প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিরাও। সব দায়িত্ব, কাজের চাপ মুলতবী রেখে উপস্থিত হন অনুষ্ঠানে।

বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ওয়ালটন গ্রুপের কর্পোরেট অফিসে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপযাপনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম, এস এম মাহবুবুল আলম ও এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি। এছাড়া গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম সরকার, ও ইভা রিজওয়ানাসহ ওয়ালটন কর্পোরেট কার্যালয়ের সব নারী সহকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



সকালে কেক কাটার মাধ্যমে দিবস উদযাপন কর্মসূচীর সূচনা হয়। এ সময় একে অন্যকে কেক খাইয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরষ্পর সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়। দেশজুড়ে কর্মীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা আরেক দফা শপথ নেন সহকর্মীদের বন্ধুর চোখে দেখার, পরিবারের সদস্যের চোখে দেখার।

এ সময় ওয়ালটনে নারীদের সুন্দর কর্মক্ষেত্র, নিরাপদ পরিবেশের জন্য ওয়ালটন গ্রুপের প্রশংসা করেন নারী কর্মীরা। তারা এ ধারা সব সময় অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, আজ ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। নারী-পুরুষ সকলের জন্য এক বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব নারী দিবস।

নারী দিবসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ঊনবিংশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের নারী শ্রমিকরা কারখানার মানবেতর পরিবেশ, বেতন বৈষম্য এবং অনির্দিষ্ট শ্রম ঘণ্টার মতো অমানবিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্ক শহরের সুই কারখানার নারী শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ করেন। কারণ ওই সময় ১২ ঘণ্টারও বেশি তাদের কারখানায় খাটতে হতো, কোনো বিশ্রামের অবকাশও ছিল না। তাদের ওপর পুলিশি নির্যাতন নেমে আসে।

১৮৬০ সালে নারী শ্রমিকরা ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’ গঠন করে অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। ১৯০৮ সালে ১৫ হাজারের বেশি নারী শ্রমিক ৮ ঘণ্টা কর্মসময়, ভোটের অধিকার ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে নিউইয়র্কে রাজপথে আন্দোলন করেন। শ্রমিকদের সঙ্গে অন্য নারীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন।



১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে সোশ্যাল ডেমোক্রেট নারী সংগঠন আয়োজিত সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নারীর ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন ক্লারা জেটকিন।

১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ ঘোষণা করে ১৯১১ সাল থেকে দিবসটি পালনের আহ্বান জানান। এই সম্মেলনে ১৭ দেশ থেকে শতাধিক নারী প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। নারী-পুরুষ সমঅধিকারের দাবিতে এরপর থেকেই দিবসটি বিভিন্ন দেশে পালন করা হচ্ছে।

১৯১১ সালের ১৯ মার্চ প্রথম বিভিন্ন দেশে নারী দিবস পালন করা হয়। প্রথমদিকে মূলত বামপন্থীরাই দিবসটি পালন করতেন। ১৯১৪ সালে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্কসহ বেশ কয়েকটি দেশে নারী দিবস পালন করা হয়। ১৯১৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নারী দিবস সাড়ম্বরে পালন করা হয়।

১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ১৯৭৫ সালকে ‘নারী বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘ ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ’ প্রণয়ন করে।

স্বাধীনতাপূর্বকালে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নারী দিবস পালন করা হয় ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় পূর্ব পাকিস্তান মহিলা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নারী দিবস পালন করা হচ্ছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ মার্চ ২০১৮/হাসান/এনএ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বিকেল ইসির সাথে বিএনপির বৈঠক

২০১৮-০৭-২৩ ১:৩৮:২৯ পিএম

ইমরান এইচ সরকারের হাইকোর্টে রিট

২০১৮-০৭-২৩ ১:১১:৩৯ পিএম

এবার বাবার প্রযোজনায় জানভি?

২০১৮-০৭-২৩ ১২:৫৯:৪৫ পিএম

জার্মানির হয়ে আর খেলবেন না ওজিল

২০১৮-০৭-২৩ ১১:১১:২৭ এএম