বিনা মাশুলে ব্যবসা করতে চান ব্যবসায়ীরা : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১১ ৫:৫০:২২ পিএম
কেএমএ হাসনাত | রাইজিংবিডি.কম

বিশেষ প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমাদের দেশের কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ী ছাড়া অধিকাংশ ব্যবসায়ীই সরকারকে ট্যাক্স দিতে চান না। এসব ব্যবসায়ী পারলে বিনা মাশুলেই ব্যবসা করতে চান। এদের লোভটা অনেক বেশি। বিশ্বের কোথাও এমনটি নেই।

রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশন ও বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট আদায় সহজ করার জন্য ৫০ হাজার ইসিআর মেশিন আমদানি করা হচ্ছে। যেসব ব্যবসায়ীরা এসব মেশিন ব্যবহার করবে তাদের ভ্যাটের ওপর ২ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।

এ সময় তিনি এনবিআরকে অনলাইনে ভ্যাট আদায়ে জোরদার করার তাগিদ দিয়ে বলেন, অনলাইন ভ্যাট, আয়কর আদায়ের ব্যবস্থা আছে। তবে কোনটায় এক্সক্লুসিভলি অনলাইন নাই। অনলাইন পেমেন্ট অ্যান্ড রিসিভস-এ সরকার সেভিং হয় ৭৫ শতাংশ। এ বিষয়ে মাস দুয়েকের মধ্যে আপডেট দিতে হবে।

নতুন ভ্যাট আইন দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভেতরে ভেতরে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন কাজ চলছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভ্যাট আইনতো ১৯৯১ সাল থেকেই রয়েছে। সরকার ২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নিজের পয়সা থেকে সরকারকে পয়সা পৃথিবীর কোথাও দিতে চায়না। আমাদের দেশে লোভ একটু বেশি। মাশুল দিয়ে তারা ব্যবসা করতে চান না। তারা কোনো ট্যাক্স দিতে চান না। নতুন আইন ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট করা হয়েছিল। এছাড়া ট্যারিফ ভ্যালু বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে সেটা ঠিকেনি। আগামীতে যখন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে তখন ভ্যাটের হার একের অধিক রাখা হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রথমে এক রেটে ভ্যাট বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেখানে আটটা দশটা রেট রয়েছে। সুতরাং আমি এখন বুঝেছি ভ্যাটে কিছুটা হাই রেট রাখতে হয়, কিছুটা লো রেট রাখতে হয়। সুতরাং আগামীতে যখন নতুন আইন বাস্তবায়ন করা হবে তখন ১৫ শতাংশ একটাতো থাকবেই ১৫ শতাংশের নিচেও একটি রেট থাকবে। অর্থাৎ ভ্যাটের হার এক থাকবে না, দুইটি রেট থাকবে।

চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি বলেন, সবসময় এডিবি বাস্তবায়নে সমস্যা হয়। কিন্তু এবার এডিপির বাস্তবায়ন গত ৬ মাসে ৩৫ শতাংশ হয়েছে, যা খুব ভালো। অনেকেই বলছে বাজেট বাস্তবায়ন ভাল হবে না। তবে আমার বিশ্বাস বাজেট বাস্তবায়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হবে। ৪ লাখ ২৬৬ কোট টাকা থেকে রিভিশন করে ৩ লাখ ৮৫ হাজার করা হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এটা আরো বেড়ে যাবে।

নির্বাচনের বছরের জন্য এ বাস্তবায়ন বেড়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমরা একনেক বৈঠক করি। আমি প্ল্যানিং কমিশনকে বারবার বলেছি আপনার সবসময় বেশি বেশি বরাদ্দ চান কিন্তু টাকাতো খরচ করতে পারেন না। তবে এবার তারা এটা ওভারকাম করতে পেরেছে। অর্থাৎ আমাদের বাস্তবায়ন সক্ষমতা অর্জন করেছে।

রাজস্ব আদায় বিষয়ে মুহিত বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১১ থেকে ১২ শতাংশ কম হবে। কেনো কমছে এ বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন কারণে হয় না। তবে এসব বিষয় ওভারকাম করতে পারবো। এবারের রাজস্ব আদায় গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি হবে।

নতুন কাষ্টমস আইন বাস্তবায়ন বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন কাষ্টমস আইন বহুদিন ধরে কাজ চলছে। আগামী বাজেটে নতুন কাস্টমস আইন উপস্থাপন করা হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ মার্চ ২০১৮/হাসনাত/সাইফ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শিশু বিল পাস

২০১৮-১০-২২ ৯:১২:৩০ পিএম

সিরিজ জিততে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ

২০১৮-১০-২২ ৭:৩৩:৩৫ পিএম