মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ পাবে ৬ ব্যাংক

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৩ ১০:১০:৩৭ পিএম
কেএমএ হাসনাত | রাইজিংবিডি.কম

কেএমএ হাসনাত : আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতিতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দের পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটেও ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে জন্য বরাদ্দ রয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরেও এ খাতে ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্ত পূরণের শর্তে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এর আগে গত ৪ অর্থবছরে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংক বেসিককে। এই ব্যাংককে মোট দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। বরাদ্দের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটিকে দেওয়া হয়েছে তিন হাজার কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়াত্ব ৬ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে  মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ চেয়েছে সোনালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের বৃহত্তম এই ব্যাংকটি মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটিই ‘হল-মার্ক’ কেলেঙ্কারির কারণে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়াত্ব খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক জনতা মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকটিও ‘অ্যাননটেক্স’ নামের একটি অখ্যাত গ্রুপকে নিয়ম নীতি না মেনে ৫ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। আর এ ঋণ দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান থাকাকালে।

দুর্নীতির কারণে আলোচিত অপর ব্যাংক বেসিক ব্যাংকও মূলধন পূরণের জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। এই ব্যাংকটি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন হারিয়েছে। মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য রূপালী ব্যাংকের প্রয়োজন ১২৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বিশেষায়িত ব্যাংক বলে বিবেচিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ৭ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক চেয়েছে ৮০০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ‘মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ’ খাতে বরাদ্দ রয়েছে সাকুল্যে ২ হাজার কোটি টাকা। তাই মন্ত্রণালয় বছরজুড়ে এই পরিমাণ অর্থই তাদের দিতে পারবে। তবে এজন্য ব্যাংকগুলোকে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দিতে হবে।। এই প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে-গত অর্থবছরে মূলধন পুনর্গঠন বাবদ প্রদত্ত অর্থে অর্থ বিভাগ কর্তৃক শর্তাবলী প্রতিপালিত হয়েছে কি-না। ব্যাংকের মূলধন পরিস্থিতি উন্নয়নকল্পে ব্যাংকসমূহ কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলধন পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ার কারণ। ব্যাংকসমূহের সেবার মান বৃদ্ধিকল্পে এবং অটোমেশন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবং ‘ব্যাসেল-থ্রি’ (আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধনের পরিমাণ) অর্জনে ব্যাংকসমূহের বর্তমান অবস্থা কী।

যদি এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায় তবে সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়াত্ব ছয় ব্যাংককে টাকা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সোনালীকে দেওয়া হতে পারে ৪০০ কোটি টাকা। জনতাকে ৪০০ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংককে ৩০০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংককে ৩০০ কোটি  টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে ৪০০ কোটি টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে দেওয়া হবে ১৯৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের সরকারি অংশের পরিশোধিত মূলধনের জন্য দেওয়া হবে আরো ২১ লাখ টাকা।  



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ মার্চ ২০১৮/হাসনাত/সাইফ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

হেরে গেল বাংলাদেশ ‘এ’ দল

২০১৮-০৭-১৯ ৬:৩৭:৩০ পিএম

এক নজরে এইচএসসি ফল

২০১৮-০৭-১৯ ৬:৩২:২৫ পিএম

হুমায়ূন-এর প্রথম প্রহর

২০১৮-০৭-১৯ ৬:২২:২৫ পিএম

সমাবেশের অনুমতি পেল বিএনপি

২০১৮-০৭-১৯ ৫:৫৩:৫২ পিএম

মতিঝিল আইডিয়ালে পাসের হার ৯৮.৯৬

২০১৮-০৭-১৯ ৫:৪২:২০ পিএম