আইটি নিরাপত্তায় ব্যাংকের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বেড়েছে

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-১০ ৬:৪৩:৩১ পিএম
নাসির উদ্দিন | রাইজিংবিডি.কম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ২০১৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট  (বিআইবিএম)।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে  ‘আইটি অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দেশের ৯০ শতাংশ ব্যাংকে পুরোপুরি আইটি গভার্নেন্স নেই। এর মধ্যে ৮ শতাংশ ব্যাংকে আইটি গভর্নেন্স বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ না নেওয়াসহ ৬০ শতাংশ ব্যাংকে আইটি গভার্নেন্স বাস্তবায়নের কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। এছাড়া আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে ২২ শতাংশ ব্যাংকে। ফলে আইটি অবকাঠামো, নিরাপত্তাসহ অনেক বিষয়ে পিছিয়ে পড়ছে ব্যাংকগুলো।

এ অবস্থা উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইসিটি গাইডলাইন  অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, সারা বিশ্বেই সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ব্যাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এতে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকটি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এরই মধ্যে আইসিটি গাইডলাইন দিয়ে দিয়েছে ব্যাংকগুলোকে। যা বাস্তবায়নের দিকটি তদারকি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি বলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভালোমানের সফটওয়্যার তৈরি করছে। এগুলো ব্যাংক ব্যবহারে উদ্যোগ নিতে পারে। এরই মধ্যে দেশের ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশ দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেছে। বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহারে খরচের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় অনেক ঝামেলা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন ডেপুটি গভর্নর নাজনিন সুলতানা বলেন, যোগযোগের অভাবে এক ব্যাংকের সমস্যা অন্যরা জানতে পারছে না। ফলে একই দুর্ঘটনা অন্য ব্যাংকেও ঘটছে। নিজেদের মধ্যে সমস্যাগুলো আলোচনা করলে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। এছাড়াও আইটি নিরাপত্তায় অভিজ্ঞ জনশক্তি তৈরি অত্যন্ত জরুরি। এখন ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা এবং গ্রাহক পর্যায়েও সচেতনতা সৃষ্টির সময় এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক একেএম ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার প্রকৌশলী তৈরি হয়েছে। তাদের একটু প্রশিক্ষণ দিলেই দেশের কাজে লাগানো সম্ভব। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের আইটি বিভাগকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের বিদেশে নিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

ডাচ বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং এখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সরাসরি ব্যাংকিং খাতের সাথে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এই প্রতিযোগিতা ঝুঁকি তৈরি করবে। শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের সব জায়গাতেই সাইবার ক্রাইম হচ্ছে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে এই জায়গাতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতে সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে অভিজ্ঞ অডিট কর্মকর্তার প্রয়োজন। অভিজ্ঞ জনশক্তি তৈরিতে নির্দিষ্ট বাজেট থাকা দরকার। কারণ প্রশিক্ষণের জন্য ধার্য বাজেট অপচয় নয় বরং বিনিয়োগ।

সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাঈনুদ্দিন চৌধুরি বলেন, আইটি নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকিং খাত পুরোপুরি অটোমেটেড করতে হবে। এতে ঝুঁকি আরো কমে যাবে।

স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের কান্ট্রি টেকনোলজি ম্যানেজার মনিতুর রহমান বলেন, সাইবার ক্রাইম থেকে বাঁচতে আমরা ক্লাউড সুবিধা নিতে পারি। ক্লাউড সুবিধা গ্রহণ করলে খরচটাও অনেক কমে আসবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক শিহাব উদ্দিন খান।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ এপ্রিল ২০১৮/নাসির/সাইফ

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সাফল্যে রঙিন বছর

২০১৮-১২-১৫ ১০:৫২:৩২ পিএম

যে ২৫ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না

২০১৮-১২-১৫ ৮:৪৬:৫০ পিএম

৩০ ডিসেম্বর ভোটের বিপ্লব হবে : রব

২০১৮-১২-১৫ ৭:৫৯:৫০ পিএম