ন্যাশনাল সাসটেইনিবিলিটি রিপোর্টিং চালুর পরামর্শ

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৮ ৩:৩১:১৯ পিএম
নাসির উদ্দিন | রাইজিংবিডি.কম

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বাংলাদেশের শিল্পায়নে স্থায়িত্ব এবং ব্যবসায়ে নৈতিকতার চর্চা জোরদারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ‘ন্যাশনাল সাসটেইনিবিলিটি রিপোর্টিং’ চালুর পরামর্শ দিয়েছেন টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্ক দূতাবাসের সহায়তায় নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এনসিসিআই) আয়োজিত ‘আজকের স্থায়িত্ব, আগামী দিনের উন্নত ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ পরামর্শ দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিল্পকারখানায় প্রচলিত ধ্যান-ধারণা ও বিজনেস প্র্যাকটিস পরিবর্তন করে কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই উৎপাদনশীলতা এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব।

এ লক্ষ্যে তারা সরকারি পৃষ্ঠাপোষকতায় শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার তাগিদ দেন। 

এনসিসিআইর প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত চারলোটা স্কালাইটার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্ট্রাপ পিটারসেন এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিডসেল ব্লেকেন প্রমুখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, নরডিক অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশের চমৎকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক ক্রমেই উন্নয়ন সহযোগী থেকে বাণিজ্যক অংশীদারত্বে রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে নরডিকভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, হাইটেক সামগ্রী, আইটি পণ্য ও সেবা রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। 

শিল্পমন্ত্রী বলেন, টেকসই বিজনেস প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করেই বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এদেশের অনেক কারখানা ইতোমধ্যেই ব্যবসায়িক স্থায়ীত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কারখানাগুলো বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানিসাশ্রয়ী রং, রাসায়নিক ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের মতো পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আজকের সেমিনারটি বাংলাদেশে টেকসই বিজনেস প্র্যাকটিস গড়ে তুলতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আমি আশা করছি।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, তৈরি পোশাকখাতে বাংলাদেশের ৬৮টি কারখানা ইতোমধ্যে গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি পেয়েছে। ৩০০টি কারখানা এ স্বীকৃতির তালিকায় রয়েছে। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পে পরিবেশ, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক নৈতিকতার ক্ষেত্রে ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন এসেছে।

 

বক্তারা নরডিক অঞ্চলের দেশগুলোর পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের অন্যান্য শিল্প খাতে গুণগত পরিবর্তন আনারও পরামর্শ দেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ এপ্রিল ২০১৯/নাসির/রফিক

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

২০২২ সাল পর্যন্ত রিয়ালে ন্যাচো

২০১৯-০৫-২২ ১০:০৫:২০ পিএম

ময়লার স্তূপে নবজাতকের লাশ

২০১৯-০৫-২২ ৮:৩৯:২৪ পিএম