খাদ্যে ভেজাল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ: ২০১৭-১১-০৭ ৮:৩২:৩৯ পিএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

দেশে খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল বেড়েই চলেছে। সমগ্র বাংলাদেশ যেন ভেজাল চক্রের বেড়াজালে আটকে গেছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, ভেজালের ভিড়ে এখন আসল চেনাই দায়। কোন খাদ্যে ভেজাল নেই? জীবন রক্ষাকারী ওষুধ থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের পণ্যই ভেজাল হচ্ছে। নিরাপদ খাবার আদৌ আছে কি না- এই প্রশ্নই দেখা দিয়েছে মানুষের মনে।

সম্প্রতি মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে (এনএফএসএল) প্রায় পাঁচশ প্রকারের খাদ্য ও খাদ্য দ্রব্যের নমুনা পরীক্ষায় খাদ্যে ভেজাল পাওয়া গেছে। রাস্তার পাশের খোলা খাবার বিশেষ করে ভেলপুরি, ফুচকা ও ঝালমুড়িতে মিলেছে টাইফয়েড, আমাশয় ও ডায়রিয়ার জীবাণু। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবিলম্বে এই ভেজাল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রিপোটর্টে বলা হয়েছে- ভেলপুরি, ফুচকা ও ঝালমুড়িতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কৃত্রিম রঙ ও  ইস্ট তো ব্যবহার হচ্ছেই এছাড়াও সংগৃহীত নমুনায় কলিফর্ম, সালমোনিলা ও ই-কলাই এর মতো মারাত্মক সব জীবাণুর দেখা মিলেছে। ই-কলাই আমাশয়, সালমোনিলা টাইফয়েড ও কলিফর্ম ও মাইকোটক্সিন ডায়রিয়ার জীবাণু। এসব খাদ্যের পরীক্ষায় জীবাণুর মাত্রা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ছিল অনেক বেশি। আর এসব জীবাণু থেকেই শিশুরা আমাশয়, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও জন্ডিসে আক্রান্ত হচ্ছে।

খাদ্যপণ্য রুটিন পরীক্ষার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নুডলস, ঘি, সরিষা ও সয়াবিন তেল, সেমাই প্রভৃতি এবং সবজির মধ্যে ফুলকপি, বেগুন, সীম, কাঁচামরিচ, টমেটোসহ মোট ৪৬৫টি খাবারের গুণগতমান, টেস্টিং সল্ট, পেস্টিসাইড, রঙ, আফলা টক্সিন এর উপস্থিতি ও মাইক্রো-বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়।

ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও সুপার শপ থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ব্রান্ডের ৫৫টি নুডুলসের গুণগত মান পরীক্ষা করে দেখা গেছে ১৪টি নুডলসে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে প্রোটিনের পরিমাণ  অনেক কম। অনেকগুলো ব্র্যান্ডে লেড এর পরিমাণও ছিল নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কম, অনেকগুলো ব্র্যান্ডে লেড এর মাত্রা ছিল একেবারেই শূন্য। একইসঙ্গে এসব নুডলসে পাওয়া গেছে বিভিন্ন মাত্রার টেস্টিং সল্ট যা স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি বয়ে আনে। একইসঙ্গে পরীক্ষা করা তিনটি সাধারণ সেমাই এবং ১০টি লাচ্ছা সেমাইয়ে পাওয়া গেছে মাত্রার চেয়েও কম পরিমাণে প্রোটিন। আয়রনের মাত্রাও কম ছিল সবগুলো নমুনাতে।

ভেজাল খাবার জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দেশে দূরারোগ্য রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে ভেজালমিশ্রিত খাবার খাওয়া। এসব ভেজালের কারবার বন্ধ করা না গেলে জনস্বাস্থ্য আরো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিদিন বিভিন্ন খাদ্য-দ্রব্যের সঙ্গে ভেজাল হিশেবে যেসব রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হচ্ছে সেসব মানব দেহে মারাত্নক বিষক্রিয়া তৈরি করে। তাই ভেজাল মেশানো খাদ্য খাওয়ানোও এক ধরনের স্লো পয়জনিং।
 

খাদ্যে ভেজাল মেশানো একটি গুরুতর অপরাধ হলেও এ বিষয়ে আইন প্রয়োগে তেমন উদ্যোগ দেখা যায় না। মাঝেমধ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অল্পকিছু জরিমানা করা হয়। তাতে কাজের কাজ কিছু হয় বলে মনে হয় না। কেননা কিছুদিন পরই আবার শুরু হয় ভেজালের কারবার। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই অভিযান নিয়মিত করতে হবে এবং আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

ভেজালকারীরা যাতে আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ এবং ভেজালকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে নতুন আইন করে হলেও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৭ নভেম্বর ২০১৭/আলী নওশের

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

অবাঞ্ছিত লোম সমস্যার সমাধান

২০১৮-০৮-১৮ ৯:০৬:০১ পিএম

ফরিদপুরে পশুর হাট জমজমাট

২০১৮-০৮-১৮ ৮:৩১:৩৪ পিএম

দাম বেশি বিক্রি কম

২০১৮-০৮-১৮ ৮:৩০:০১ পিএম

শপথ বাক্যে গড়বড় করলেন ইমরান খান

২০১৮-০৮-১৮ ৮:২৮:৪৬ পিএম

সড়কে প্রাণ গেল ভাই-বোনের

২০১৮-০৮-১৮ ৭:৪৯:৩৩ পিএম

বাংলাদেশ ০-১ ভারত

২০১৮-০৮-১৮ ৭:০৯:৩৫ পিএম