রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন কাম্য

প্রকাশ: ২০১৭-১১-২৭ ২:৪৫:৪৯ পিএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনীর গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার কথা বলা হয়েছে। তবে কত দিনের মধ্যে প্রত্যাবাসন শেষ হবে চুক্তিতে তার উল্লেখ নেই। এ সমঝোতা বিষয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও এর মাধ্যমে মিয়ানমার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার পথে অগ্রসর হয়েছে। এখন তারা যাতে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা যায়, সে দিকে নজর দিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের চুক্তিকে ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর ফলে যাচাই-বাছাই করে মিয়ানমারের নাগরিক এমন লোকদেরই শুধু ফেরত নেবে তারা। এ বিষয়টি দৃশ্যত আপত্তিকর না হলেও এর ফলে সময় ক্ষেপণের যে সুযোগ থাকবে তা অতীত অভিজ্ঞতা থেকে অনুমান করা যায়। যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, ১৯৯২ সালের সমস্যা আর বর্তমান সমস্যা এক নয়। বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে এখানে। সেক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না করে মিয়ানমার যেন তাদের সব নাগরিককেই পর্যায়ক্রমে ফেরত নেয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অবশ্য দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কাজ শুরু করার কথা বলা হলেও তা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর হয় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুবা ভেঙেচুরে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাড়িঘর তৈরির নাম করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সুযোগ নিতে পারে মিয়ানমার। অবশ্য চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় দেশেরই দুই বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন ও ভারতকে এ বিষয়ে অবহিত করেছে বাংলাদেশ এবং রাখাইনে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে থাকার জন্য দেশ দুটি প্রি-ফেব্রিকেটেড বাড়ি সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। এটি ইতিবাচক দিক।

এখন যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আর প্রত্যাবাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব সম্প্রদায়ের পাশাপাশি ভারত ও চীন যাতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে, সেদিকেও বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। কেননা আন্তর্জাতিক চাপ এবং বৃহৎ প্রতিবেশীদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের কাছে। সার্বিক পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি থেকে সেটিই প্রতীয়মান হচ্ছে।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও বিশ্ব সম্পদায়কে নজর দিতে হবে মিয়ানমার সেখানে তাদের নিরাপদে বসবাসের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে কি না। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা তৈরি না হলে তারা ফেরত যেতে চাইবে না কিংবা গেলেও আবার চলে আসবে। রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গিয়ে সেখানে টিকে থাকতে পারবে কিনা, তাদের বসতভিটার বদলে অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হবে কিনা- এমন আতঙ্ক কাজ করছে রোহিঙ্গাদের মনে। এ আতঙ্ক নিরসনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়াসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে।

রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাইয়ের নামে মিয়ানমার যেন সময়ক্ষেপণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করার বিষয়ে মিয়ানমার আন্তরিকতার পরিচয় দেবে। আর রোহিঙ্গা প্রশ্নে বিশ্বসম্প্রদায়ও মিয়ানমারের ওপর চাপ বজায় রাখবে যাতে মিয়ানমার দ্রুত তার নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়। বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায়। আমরা আশা করি রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত এবং আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে মিয়ানমার।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ নভেম্বর ২০১৭/আলী নওশের

   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সপ্তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

সপ্তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

২০১৮-০৫-২৩ ৯:৫৫:৫০ পিএম
খসে পড়ল আরেকটি ধ্রুবতারা

খসে পড়ল আরেকটি ধ্রুবতারা

২০১৮-০৫-২৩ ৯:৫০:০০ পিএম