সুষ্ঠু নির্বাচনের এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে

প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৩ ৭:২৬:০৫ পিএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

বহুল আলোচিত রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে ৯৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে তৃতীয় স্থান লাভ করেছেন বিএনপি প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা। এছাড়া কমিশনার পদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জাসদের প্রার্থীও নির্বাচিত হয়েছেন। রংপুর সিটির  নবনির্বাচিত মেয়রকে আমরা অভিনন্দন জানাই।

এবার রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে দলীয় প্রতীকে। এই সিটিতে প্রথম নির্বাচনে মোস্তাফিজার রহমানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। কিন্তু এবার তার বিপরীত ঘটনা ঘটলো। প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এবার অন্যরকম আমেজ ছিল। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ, ভোটারদের বিপুলভাবে কেন্দ্রে হাজির হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দান ছিল লক্ষ্যনীয়। ভোটার উপস্থিতি ৭৪ শতাংশের বেশি। অবাধ পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। কোথাও বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। ভোটের ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও ছিল স্বচ্ছ। সব বিবেচনাতেই রসিক নির্বাচন ছিল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

এবার রংপুর সিটি নির্বাচন নানা দিক থেকে ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত হয়ে উঠেছিল নানা কারণে। দেশবাসীর আস্থা অর্জনে নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে রংপুর সিটিতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আগামী বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে এটি ছিল নির্বাচন কমিশনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে বলা যায়, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার প্রথম এসিড টেস্টে নির্বাচন কমিশন উত্তীর্ণ হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে রংপুর সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠান দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

বিচ্ছিন্নভাবে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে বলা যায়, এ নির্বাচন ছিল সবার প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ হারলেও গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। রংপুরের নবনির্বাচিত মেয়র বলেছেন, তিনি সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন। রংপুরকে বদলে দেবেন।

তবে রংপুর সিটির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও দক্ষতার যে উদাহরণ তৈরি করেছে, এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করাটা জরুরি। এই নির্বাচনে সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সামনের নির্বাচনগুলোতেও সংশ্লিষ্ট সবার একইরকম ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা থাকা প্রয়োজন। নির্বাচনী ব্যবস্থায় আস্থা ফিরে পাওয়ার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করে, তাহলে যে কোনো নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। আগামীতে কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন রয়েছে। রংপুরের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হবে, এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ ডিসেম্বর ২০১৭/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ভারতীয় টেস্ট দলে নতুন মুখ পন্ত

২০১৮-০৭-১৮ ৮:১৩:৫০ পিএম

যেভাবে জানা যাবে এইচএসসির ফল

২০১৮-০৭-১৮ ৮:০৪:২৩ পিএম

সমালোচকদের অসুস্থ বললেন ট্রাম্প

২০১৮-০৭-১৮ ৭:৫৩:৫৫ পিএম

রেজ্জাকুলের শেষ, পিন্টুর শুরু

২০১৮-০৭-১৮ ৭:৫১:৫৯ পিএম