সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিন

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৯ ৮:৩১:১১ এএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

উচ্চ শিক্ষালাভে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক বা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার রোডম্যাপ তৈরির লক্ষ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এ কমিটিকে। এটি অবশ্যই একটি ভাল উদ্যোগ।

বস্তুতঃ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা হচ্ছিল অনেকদিন আগে থেকেই। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা এবং এমনকি রাষ্ট্রপতিও এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যায়নি। যতদূর জানা যায়, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাগ্রহের কারণেই বিষয়টি আলোর মুখ দেখছিল না। তাদের অনাগ্রহের কারণ হিসেবে বলা হয়, বিদ্যমান ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে বড় অঙ্কের অর্থ আয় হয় তা বন্ধ হয়ে যাবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিলে। আবার ভর্তি বাণিজ্য ও কোচিং-গাইড বাণিজ্যের জন্য অনেকেই গুচ্ছ পদ্ধতির বিরোধিতা করেন।

দেখা গেছে বিদ্যমান পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদাভাবে ফরম কিনতে হয় এবং আলাদাভাবে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে তাদের সময়, পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় বেশি হয়। শিক্ষার্থীদের মনের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। তারা নিরাপত্তাহীনতায়ও ভোগে। কিন্তু গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। তাদের দুর্ভোগ  লাঘব হবে অনেকাংশে। কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হবে না। পাশাপাশি গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হলে অনৈতিক ব্যবসা নিরুৎসাহিত হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে গুচ্ছ পদ্ধতি।

বর্তমানে শুধু মেডিক্যাল কলেজগুলোতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু আছে। এর আগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধীনে বিআইটি খুলনা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে (বর্তমানে কুয়েট, চুয়েট ও রুয়েট) একযোগে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। এছাড়া সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও পরে তা বাতিল হয়ে যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, আপাতত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা শুরু হলেও পরে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার  সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এটি অবশ্যই একটি ভালো সিদ্ধান্ত। আশা করা হচ্ছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে।

আমরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এখন এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রত্যাশা, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। পরবর্তী সময়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে আমরা আশা করি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৯ জানুয়ারি ২০১৮/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সাহিত্য সংবাদ

২০১৮-০৯-২১ ৯:২১:২৩ এএম

নতুন লড়াইয়ে পুরনো উত্তাপ

২০১৮-০৯-২১ ৮:৩৭:২৯ এএম

ছবিতে অনুর রূপের ঝলক

২০১৮-০৯-২১ ৮:৩৬:০০ এএম