প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৫ ৯:২৩:১৪ পিএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

১৯৭৫ সাল থেকে এলডিসির তালিকায় থাকা বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের ইকোনমিক ও সোশ্যাল কাউন্সিল এ বছরের মার্চে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে। বাংলাদেশের সম্ভাবনা এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল।

কেননা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে ২০২১ সালের মধ্যে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে তা বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে। শর্তগুলো হচ্ছে- প্রথমতঃ মাথাপিছু আয় ১২৪২ মার্কিন ডলার; বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার। দ্বিতীয়ত: দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া; বাংলাদেশ এটি ৭০ শতাংশে উন্নীত করেছে। তৃতীয়ত: অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর না হওয়ার মাত্রা ৩০ শতাংশের নিচে থাকা; বাংলাদেশে তা ২৬ শতাংশ।

জাতিসংঘ তার সদস্য দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত (এলডিসি), উন্নয়নশীল এবং উন্নত- এ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে এলডিসি। এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ক্ষেত্রে 'মাথাপিছু আয়' অন্যতম মানদণ্ড। এ ছাড়া সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণের জন্য অন্য দুটি মানদণ্ড নিরূপণ করা হয়। বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জুলাই মাসে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আগামী মার্চে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রথম স্বীকৃতি পাবে। ২০২১ সালে দ্বিতীয় পর্যালোচনা করবে সিডিপি। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ উত্তরণকে অনুমোদন দেবে।

কিন্তু উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার পর বাংলাদেশকে কিছু কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। উন্নয়নশীলে উত্তরণ ঘটার পর এ রাষ্ট্রের সামনে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হবে। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে বাণিজ্যে যে অগ্রাধিকার পায় তার সবটুকু পাবে না। আবার বৈদেশিক ঋণে কম সুদ ও নমনীয় শর্তও সীমিত হয়ে আসবে। বাংলাদেশকে তার সক্ষমতা দিয়ে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। যার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশগুলো বাণিজ্যক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। যেমন- শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা, জিএসপি সুবিধা ইত্যাদি। কিন্তু বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এসব সুবিধা আর পাবে না। এজন্য আমাদের সেভাবে প্রস্তুত থাকতে এবং পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে হবে।

এলডিসি না থাকলে অন্যান্য দেশের রফতানিতে বাংলাদেশের এখনকার মতো শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা থাকবে না। এ জন্য বিমসটেক, বিবিআইএনের মতো আঞ্চলিক উদ্যোগের সুবিধা কীভাবে কার্যকরভাবে নেওয়া যায়, তার জন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। কেননা শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা না থাকলে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে।

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় প্রবেশের পর অতিরিক্ত হারে শুল্ক দেয়ার কারণে বাংলাদেশ রফতানি হারাতে পারে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। সুতরাং এসব বিষয় মাথায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশকে প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, রফতানি বাণিজ্যের ওপর একটা চাপ তৈরি হবে এটি সত্য। কিন্তু তা মোকাবেলার সক্ষমতা উদ্যোক্তাদের হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা সরকার এব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিষয়টিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন সংশ্লিষ্টরা।

 

  

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৫ জানুয়ারি ২০১৮/আলী নওশের

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সাহিত্য সংবাদ

২০১৮-০৯-২১ ৯:২১:২৩ এএম

নতুন লড়াইয়ে পুরনো উত্তাপ

২০১৮-০৯-২১ ৮:৩৭:২৯ এএম