ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া

সবাইকে সচেতন হতে হবে

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৩ ৩:২৯:০১ পিএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

প্রকৃতি থেকে শীত বিদায় নেওয়ার পর আবহাওয়া উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় মশার উপদ্রব। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। মশার উৎপাত বেড়ে গেছে ব্যাপক হারে। মশার দংশনে চিকুনগুনিয়া,  ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। বিশেষ করে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস দেখা যায়। গত বছর রাজধানী শহরে  মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল চিকুনগুনিয়া।  পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও দেখা যায়। তাই এ বিষয়ে আগেভাগেই সচেতন ও ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।

আশার বিষয় ঢাকা মহানগরে এবার ডেঙ্গু জ্বর ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ডিএসসিসি এবার  মশার উপদ্রব কমাতে দুই সপ্তাহব্যাপী ‘স্পেশাল ক্রাশ প্রোগ্রাম’ কর্মসূচি শুরু করেছে। এ প্রোগ্রামের অধীনে ডিএসসিসির ৫৭ ওয়ার্ডে টানা দুই সপ্তাহ ধরে মশার ওষুধ ছিটানো হবে। নিঃসন্দেহে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

ঢাকা মহানগরে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায় ২০১৬ সালের শেষ দিকে।  এডিস মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া জ্বরে ভুগেছেন রাজধানীর অনেকে। সাধারণতঃ চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যু না হলেও এর ভয়াবহতা ব্যাপক। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রচণ্ড জ্বরের পাশাপাশি শরীরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। আবার জ্বর সেরে যাওয়ার পরও গিঁটে গিঁটে অসহ্য ব্যথা হয়।

চিকুনগুনিয়ার মতো ডেঙ্গুও একটি সংক্রামক ব্যাধি। ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর এবং সেই সঙ্গে শরীরে, বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয়। এ জ্বরে অনেক ক্ষেত্রে  যকৃত আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিসসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়।

এডিস মশা শুধু দিনের বেলায় কামড়ায়। ফলে দিনের বেলায়ই এ রোগে আক্রান্ত হওয়া সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই দিনের বেলা ঘরে যাতে মশা ঢুকতে পারে না সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। জমে থাকা পানিতে এদের বংশ বিস্তার ঘটে বলে সেসব স্থানে মশা নিধক ওষুধ ছিটিয়ে মশা মারতে হবে।  মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ঘুমানোর সময় মশারি টানাতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে অন্য কোনো মশা তাকে কামড়াতে না পারে।

তাই চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া বা ছড়িয়ে পড়া রোধে শুধু ডিএসসিসির উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এজন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে। সতর্ক থাকতে হবে নগরীর বাসিন্দাদেরও। সাধারণত এডিস মশা বাসাবাড়িতে ফুলের টব, টায়ার, ফ্রিজ, এসিতে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। এ ব্যাপারে নগরের প্রত্যেক নাগরিককে সচেতন হতে হবে। ৪/৫ দিন পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশ বিস্তার ঘটে। তাই মশা যাতে বংশ বিস্তার করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রত্যেককে নিজ বাড়ির আঙিনা ও চারপাশও পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। আর কোনো পাত্রে পানি যেন দীর্ঘ সময় জমে না থাকে সে দিকে নজর রাখতে হবে।।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ মার্চ ২০১৮/আলী নওশের

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শোডাউন ছাড়া কোনো চমক নেই এরশাদের

২০১৮-১০-২০ ৮:৫৯:২৫ পিএম

রূপসায় হেইয়ো হেইয়ো, পাড়ে করতালি

২০১৮-১০-২০ ৮:৪৮:৫৪ পিএম