যে কোনো মূল্যে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করুন

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০২ ৯:৪৭:৫৩ পিএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।  ৯ দফা দাবিও জানিয়েছে তারা। তাদের এ আন্দোলন রাজধানীর গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য শহরেও।  দেশে প্রতিদিন অনেক সড়ক দুর্ঘটনা এবং হতাহতের ঘটনা ঘটছে। কম-বেশি প্রতিবাদও হয়েছে। কিন্তু গত ২৯ জুলাইয়ের ঘটনার পর এর প্রতিবাদে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছে, এককথায় তা অভূতপূর্ব।

প্রধানমন্ত্রী পরিবহন নৈরাজ্যের অবসানে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।  গত ৩১ জুলাই ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহনে অব্যবস্থাপনা নিয়ে  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বৈঠকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অবৈধ গাড়িচালকদের ধরতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  পুলিশ ও সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের প্রতি কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে- লাইসেন্সবিহীন কোনো যানবাহন যেন সড়কে চলতে না পারে।  কিন্তু তাতেও রাজপথে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কমেনি।  বস্তুতঃ চালকরা্ সড়কে যে রকম বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ মারছে তা সব সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।  বিভিন্ন সময় এ ক্ষেত্রে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা দূর করার দাবি জানানো হলেও কাজ হয়নি।  ফলে দিয়া-করিমের মৃত্যুর পর ফুঁসে উঠেছে তাদের সহপাঠিসহ অন্য শিক্ষার্থীরা।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাস চালকের লাইসেন্স ছিল না।  বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ইতিমধ্যে ওই পরিবহনের নিবন্ধন সাময়িক বাতিল করার কথা জানিয়েছে।  এই দুটি বাসের একটির ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালের ১৮ মে।  রুট পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ১৯ মে।  ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদও শেষ হয়েছে চলতি বছরের মে মাসে।  অর্থাৎ বাসটি ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট ছাড়াই চলাচল করছিল।

বস্তুতঃ রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানের চিত্রও প্রায় একই রকম।  পরিবহনে কোনোভাবেই শৃঙ্খলা আনা যাচ্ছে না।  কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়ক্কা করে না চালকরা।  আইনগত ব্যবস্থা নিতে গেলেই যানবাহন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি কিংবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।   যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলেছে তারা।  সিটিং সার্ভিসের নামে চলছে চরম নৈরাজ্য।  কিন্তু এভাবে আর কত প্রাণ ঝরবে সড়কে।  সড়কে এভাবে অকাল মৃত্যু আমরা দেখতে চাই না।  যে কোনো মূল্যে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।  আমাদের প্রত্যাশা সরকার এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করবে।  প্রশিক্ষণ এবং লাইসেন্স ছাড়া যেন কেউ গাড়ি চালানোর সুযোগ না পায়, ফিটনেসহীন গাড়ি যেন রাস্তায় নামতে না পারে, চালকরা যেন নিয়ম মেনে গাড়ি চালায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যানবাহনের ফিটনেস জরিপের জন্য কমপক্ষে ১৫ সদস্যের একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।  একইসঙ্গে ওই কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে ফিটনেসবিহীন পরিবহনের তালিকা আদালতে দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  আমরা আশা করবো এ নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

এছাড়া চালক হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের বাধ্যবাধকতা ও গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল গত বছর মার্চ মাসে।  প্রায় দেড় বছর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেই আইনের অনুমোদন দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।  আইনের খসড়া এখন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।  মন্ত্রিসভা এই আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পর তা পাস করতে সংসদে তোলা হবে।  আমাদের প্রত্যাশা দ্রুত এ আইন পাস ও তা বাস্তবায়ন করে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ নেবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ আগস্ট ২০১৮/আলী নওশের

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

পঞ্চম গোল্ডেন বুটে মেসির ইতিহাস

২০১৮-১২-১৯ ১০:১৬:০৪ এএম

লিগ কাপের শেষ চারে ম্যানসিটি

২০১৮-১২-১৯ ৯:২৬:০৯ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৮-১২-১৯ ৮:৫২:৫১ এএম

ছবিতে আলোচিত ইরানি অভিনেত্রী

২০১৮-১২-১৯ ৮:২২:৫২ এএম