রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

বিশ্বসম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২৬ ৬:৫২:৩৪ পিএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনীর নির্মম হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেওয়ার এক বছর পূর্ণ হয়েছে ২৫ আগস্ট। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা নামের একটি সংগঠনের কথিত হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা বলে গত বছরের এই দিনে মিয়ানমার বাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর যে বর্বরতা ও নিপীড়ন শুরু করেছিল, তার ফলে দেশত্যাগে বাধ্য হয় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর আগেও বিভিন্ন অজুহাতে রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা-নির্যাতন হয়েছে এবং দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে তারা।

গত বছরের ২৫ আগস্টের হামলার পর আসা সাত লাখের বেশি শরণার্থীসহ এখন ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থান করছে। খুন, ধর্ষণসহ নানা নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে দলে দলে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ যেভাবে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা প্রায় নজিরবিহীন। তাদের আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্বনেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরানো এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, তার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি এই এক বছরে। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অসহায় ও অনিশ্চিত জীবন পার করছে রোহিঙ্গারা। তাদের দ্রুত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে মানবাধিকারের পক্ষের দেশগুলোকে আরও বেশি সোচ্চার ও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার, প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের ওপর জোর দিয়েছেন। সংকটের শুরুতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও রাখাইন রাজ্যে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠনের ওপর জোর দিয়েছিলেন। গত বছর জাতিসংঘ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন শেখ হাসিনা। তিনি তার ভাষণে কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন চেয়েছেন। আর এ বছরের জুন মাসে জি-সেভেন সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকারের তৎপরতায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার সমঝোতা চুক্তি করেছিল নয় মাস আগে। কিন্তু এখনো প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। কবে শুরু হবে তাও নিশ্চিত নয়। মিয়ানমার বাংলাদেশের সদিচ্ছা কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ- কোনো কিছুকেই গুরুত্ব দিচ্ছে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তারা এখনো পুরনো কৌশলেই আছে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চলছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, যে স্বল্পসংখ্যক রোহিঙ্গা নিজ এলাকায় ফিরে গিয়েছিল, তাদের আবারও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। ফলে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে।

রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, কক্সবাজার ও বান্দরবানের একটি বড় অংশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। সামাজিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান বাড়ছে। রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বাংলাদেশি পরিচয়ে তাদের বিদেশে পাড়ি জমানোর খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ নানা ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও রাশিয়া, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকরভাবে এগিয়ে না আসলে সমস্যার সমাধান হবে না। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের শুধু ফেরত পাঠালেই হবে না; তারা যেন ফিরে গিয়ে নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বাংলাদেশের পর সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গেও মিয়ানমার চুক্তি করেছে। কিন্তু শুধু চুক্তি হলেই হবে না সে অনুযায়ী কাজও করতে হবে। এক্ষেত্রে মিয়ানমার যেন চুক্তি মেনে দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করে সে জন্য বিশ্বসম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ আগস্ট ২০১৮/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

পুরুষের মেনোপজ : যা জানা জরুরি

২০১৮-১০-১৭ ৯:০৩:৫৩ পিএম

সুজি দিয়ে তালের বড়া

২০১৮-১০-১৭ ৮:৫১:১৮ পিএম

মনোবিদের ক্লাসে ক্রিকেটাররা…

২০১৮-১০-১৭ ৮:৩৫:৫৩ পিএম