পবিত্র আশুরা

ত্যাগের মহিমা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২১ ৮:১২:৫১ এএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

১০ মহররম, পবিত্র আশুরা । মুসলিম বিশ্বে দিনটি ত্যাগ ও গভীর শোকের প্রতীক।  তবে শুধু মুসলিম নয়, অন্যান্য আসমানি কিতাবের অনুসারীদের কাছেও এ দিনটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে পৃথিবীর সূচনা হয়েছিল এবং এ দিনেই পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। লাওহে মাহফুজ ও কলম সৃষ্টি হয়েছিল এ দিনে। হিজরি ৬১ সনের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চক্রান্তকারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে কারবালা ময়দানে শহীদ হন। দিনটি একদিকে যেমন শোকের ও বেদনার, অন্যদিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অনন্য উদাহরণ।

আধিপত্যবাদ, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে ইমাম হোসাইনের (রা.) সুমহান আদর্শের জন্য আত্মত্যাগ ও বিয়োগান্তক ঘটনার স্মরণে প্রধানত আশুরা পালিত হয়। মুসলিম উম্মাহ কারবালার ঘটনাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তবে সঙ্গী-সাথিসহ হজরত ইমাম হোসাইনের (রা.) শাহাদতবরণের মর্মান্তিক ঘটনার আগেও এ দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। তাই ১০ মহররম বা আশুরা দিবস খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

হজরত আদম (আ.) এই দিনে পৃথিবীতে আগমন করেন, তার তওবা কবুল হয় এই দিনেই। হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে পরিত্রাণ লাভ করেছিলেন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে নীল নদ পার হয়ে। তাদের পশ্চাদ্ধাবনকারী ফেরাউন সদলবলে নীল নদে ডুবে যায়। এ দিন হজরত নূহ (আ.)-এর নৌকা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পায়। হযরত ইউনূস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান এ দিনে। এমন আরো অনেক তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছে এই ১০ মহররমে।

হিজরি (চান্দ্র) মাসের মধ্যে যে চারটি মাসকে  সম্মানিত বলে কোরআন মজিদ ও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, মহররম মাস তার মধ্যে অন্যতম। মহানবী (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য হিজরি সন গণনার সূচনা হয়।  আশুরা শব্দটি এসেছে আরবি ‘আশরুন’ শব্দ থেকে, যার অর্থ দশম। ইসলামের পরিভাষায় আশুরা বলতে মহররম মাসের ১০ তারিখকে বোঝায়। বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় বিশেষ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ দিবসটি পালন করছে। বাংলাদেশেও এ দিবস পালনে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

আশুরার মূল চেতনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রেরণা, ন্যায়ের সংগ্রাম। সেই সংগ্রামে সাময়িক আঘাত এলেও চূড়ান্ত বিজয় অবধারিত। এটাই মহররমের শিক্ষা। কারবালা প্রান্তরে ইমাম হোসাইন (রা.) নিজের প্রাণ বিসর্জনের মাধ্যমে অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করার যে শিক্ষা আমাদের দিয়ে গেছেন, তা সমুন্নত রাখতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সব রকম লোভ, মোহ ত্যাগ করে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, আদর্শ ও চেতনার বিস্তার ঘটানো। অন্যায়-অবিচার থেকে পৃথিবীকে মুক্ত রাখতে এই ত্যাগের মহিমা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮/আলী নওশের

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

পঞ্চম গোল্ডেন বুটে মেসির ইতিহাস

২০১৮-১২-১৯ ১০:১৬:০৪ এএম

লিগ কাপের শেষ চারে ম্যানসিটি

২০১৮-১২-১৯ ৯:২৬:০৯ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৮-১২-১৯ ৮:৫২:৫১ এএম

ছবিতে আলোচিত ইরানি অভিনেত্রী

২০১৮-১২-১৯ ৮:২২:৫২ এএম