অশুভ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ২০১৯-০৫-১০ ৮:৫৯:৫৬ এএম
আলী নওশের | রাইজিংবিডি.কম

মাহে রমজান। বেশি বেশি এবাদত ও সংযম সাধনার মাস এটি। কিন্তু দেখা যায় এই সংযমের মাস শুরু হতে না হতেই কেউ কেউ অসংযমী আচরণ বা কাজ করছেন। কারসাজি কিংবা অসাধু তৎপরতায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে ভুক্তভোগি সাধারণ মানুষে। বিশেষতঃ এতে সমস্যায় পড়েন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। দেখা যায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম কেউ মানছেন না। বিশেষ করে মাংস বিক্রেতারা। উন্নত বিশ্বে যেকোনো উৎসবের আগে পণ্যের দাম কমানো হয়। অথচ আমাদের দেশে তার উল্টো পরিস্থিতি।

রোজার মাসে গরুর মাংসের দাম ৫২৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু বিক্রেতারা মানছেন না সেই দাম। রোজার প্রথম দিন ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা দামে গরুর মাংস বিক্রি হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে পত্র-পত্রিকায়। তবে রোজা শুরুর আগেই ৫৫০ টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে। কৌশলে আগেই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রোজা শুরুর পর দাম আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু গরুর মাংস নয়, দেশি মুরগি, ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। দেশি মুরগির কেজি ৫৫০ টাকা। আর ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। বেড়েছে সব ধরনের মাছের দামও। নিত্যপণ্য শসা, কাঁচা মরিচ এবং শাকসবজির দামও বেড়েছে। করলার কেজি ৮০ টাকা, বেগুনের দাম ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, পেপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে মসুর, অ্যাংকর ও খেসারির ডালের দামও।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর অতি মুনাফালোভী মনোভাব অনেকাংশে দায়ী। পাশাপাশি অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। অনেক বছর ধরেই এই সিন্ডিকেটের কথা বলা হচ্ছে। কিন্ত  অদৃশ্য কারণে তা ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। আবার দেখা গেছে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলেও বাংলাদেশের বাজারে তার উল্টো পরিস্থিতি। বাজারে এক মাস আগেও প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। অথচ বিশ্ববাজারে কমেছে চিনির দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে আগে প্রতি টন চিনি বিক্রি হতো ২৯০ মার্কিন ডলারে। আর গত মার্চ থেকে তা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ মার্কিন ডলারে।

প্রতিবারের মতো এবারও পণ্যের দাম লিখে প্রকাশ্য স্থানে টাঙিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ নির্দেশনা কোথাও কোথাও মেনে চলা হলেও নির্ধারণ করে দেওয়া দরে তা বিক্রি হচ্ছে না। রমজান শুরুর আগে বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়। অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করা হয়। এবারও রমজান মাস শুরুর আগেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজার স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে পণ্যের চড়া দাম।

পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অনেকেরই অভিযোগ- রমজান মাসে চাঁদাবাজদের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধেও পণ্যবাহী যানবাহনের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ শোনা যায়। এটি বন্ধ করতে হবে। বাজারে সরকারি সংস্থার নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধ করার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ব্যবসায়ীরা যেন এমন অভিযোগ করতে না পারেন যে চাঁদাবাজির কারণে তারা পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

রমজান উপলক্ষে কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ সুযোগে বাড়তি আয়ের জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী। রোজায় নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে এসব অশুভ চক্রের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন কারসাজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে না পারেন, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। পণ্য মজুদ করে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারেন সে জন্য বেশি করে নজরদারি প্রয়োজন। আমাদের প্রত্যাশা, পবিত্র রমজান মাসের যে সংযমী চেতনা সে বিষয়ে সবাই আন্তরিক থাকবেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ মে ২০১৯/আলী নওশের

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

দেশের সংরক্ষিত বন ১৮ লাখ একর

২০১৯-০৬-১৭ ৯:৩৪:৫০ পিএম

সাকিবের ৬০০০

২০১৯-০৬-১৭ ৯:০৮:৩৩ পিএম

আবেদন পড়ে থাকে মাসব্যাপী!

২০১৯-০৬-১৭ ৮:১৬:৫৩ পিএম

যুবক হত্যায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

২০১৯-০৬-১৭ ৭:৫১:১৯ পিএম