জবির ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত অভিযোগে আটক ২

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১১ ৯:০৯:৩৬ পিএম
আশরাফুল ইসলাম আকাশ | রাইজিংবিডি.কম

জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্র্ষে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রক্সি দিয়ে ভর্তি হওয়ার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসে আটক করা হলে তারা ভর্তি জালিয়াতিতে জবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকিব বিন বারির সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

আটক দুই শিক্ষার্থী হলেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ আলমাস আকাশ ও সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

জানা যায়, গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দপ্তরে ভূমি আইন ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এলিন শেখের ভর্তির সময় জমা দেয়া ছবির সাথে ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির মিল না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে সে প্রক্সি  পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির কথা স্বীকার করে। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে পুলিশে দেয় জবি কর্তৃপক্ষ। আদালত তার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ৬ মার্চ একই প্রক্রিয়ায় আরও তিন জন শিক্ষার্থী জালিয়াতির ঘটনা স্বীকার করেন। মামলা করে তাদেরকেও থানায় দেয়া হয়। রোববার রেজিস্ট্রার দপ্তর আরও শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই বাছাইয়ের সময় আরিফ আলমাস আকাশ নামে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর ছবির গরমিল পায়। এরপর আকাশকে প্রক্টর অফিসে এনে জিঞ্জাসাবাদ করা হলে তিনি সমাজকর্ম বিভাগের তৃতীয় বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমানের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানান।

জানা যায়, আকাশ ভর্তি হওয়ার পর বিভাগ ও ডিন অফিস তার তথ্য যাচাইবাছাই করে আইটি দপ্তরের মাধ্যমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় আইডি কার্ড দেয়। তিনি নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করে আসছেন।

আটককৃত আকাশ জানান, তিনি দিনাজপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়ার সময় ওই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে জবিতে ভর্তি হন। এরপর এইচএসসি পরীক্ষা শেষে নোমানের সাথে যোগাযোগ করেন। নোমানও তাকে ভর্তির প্রলোভন দেখায়ন। ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সব ব্যবস্থার আশ্বাস দেন নোমান। পরবর্তী সময়ে ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির মাধ্যমে ৭ম মেধাস্থান লাভ করেন। রেজাল্টের ২ দিন পর কৃষকের ছেলে আকাশ জমি বিক্রি করে ৩ লক্ষ টাকা যোগাড় করে দেন নোমানকে। এই টাকা নোমান তার সিন্ডিকেটের বড়ভাই জবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকিব বিন বারীর কাছে পৌঁছে দেয়।

আটককৃত আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, তার বড় ভাই জবি শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম এবং আকিব বিন বারির কাছে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আকাশকে জবিতে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ছবি সংশোধনীর ঝামেলার কথা বলে সাইফুল ইসলাম, আকিব ও নোমান বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আরো ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

সুত্র জানায়, আকিব বিন বারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে আকিব বিন বারিও ছিলেন। তিনি জালিয়াত চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দুই জনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এদের সাথে আরো দুই জনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদেরকে আটকের চেষ্টা চলছে।’

কোতয়ালি থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, ‘জবি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। এর সাথে সম্পৃক্তদের আটক করা হবে।’

এ বিষয়ে জবি ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা কেন্দ্রের কাছে তার বিষয়ে জানিয়েছি। তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ব্যবস্থা নেবে।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, ‘ছাত্রলীগে অপরাধীদের কোন জায়গা নেই। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশের পেক্ষিতে আকিব বিন বারিকে বহিস্কার করা হবে।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ মার্চ ২০১৮/আশরাফুল/শাহনেওয়াজ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শোডাউন ছাড়া কোনো চমক নেই এরশাদের

২০১৮-১০-২০ ৮:৫৯:২৫ পিএম

রূপসায় হেইয়ো হেইয়ো, পাড়ে করতালি

২০১৮-১০-২০ ৮:৪৮:৫৪ পিএম