মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০৩ ৭:৪৩:৫৩ পিএম
মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন | রাইজিংবিডি.কম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী বলেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করতে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁও সভাকক্ষে ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার কথা সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুই অনুধাবন করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে যে শিক্ষা কমিশন হয়েছিল সেখানে কর্মমুখী শিক্ষার কথা বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক দূর এগিয়ে যেত। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই কাজটি এখন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক সমস্যা। জঙ্গিবাদ দমনে সরকার সাফল্য অর্জন করেছে। শেখ হাসিনার সরকার দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে মাদক ও জঙ্গিবাদ। পশ্চিমা শক্তিগুলো ইসলাম ও জঙ্গিবাদকে এক সাথে করার চেষ্টা করছে। কিন্ত ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিশ্বে যত বড় বড় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে সেখানে মুসলমানদের অংশগ্রহণ ছিল না। মদিনা সনদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

তিনি আরো বলেন, প্রকৃত ইসলামী শিক্ষা যেটি মহানবী (সা.) দিয়ে গেছেন সেটি ছেলে-মেয়েদের শিখাতে হবে। ফিতনা সৃষ্টিকারি শিক্ষা বাদ দিতে হবে। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা যদি ছড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থা ও মাদ্রাসার শিক্ষার এত উন্নয়ন হয়েছে যা অন্য কোনো সরকারের আমলে হয়নি। প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা পূরণের পাশাপাশি জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করে মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে হবে।

তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার, অশান্তি দূর করা সম্ভব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, দ্বীনি শিক্ষা মজবুত করতে পারলে বাংলাদেশের আলেম-ওলামা বিশ্ব শান্তির ঢাল হতে পারবে। তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) সারা জগতের জন্য রহমত হিসেবে এসেছেন। তিনি মদিনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে আসেননি। খোলাফায়ে রাশেদীন কেউ ইসলামিক স্টেট কিংবা মুসলিম স্টেট করেননি। তাই ইসলামিক স্টেট ও মুসলিম স্টেটের নামে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ইসলামের সাথে প্রকৃত ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভেইজি দেহনবি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম ছায়েফ উল্যা, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ন চন্দ্র সাহা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নর সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা কাফীলুদ্দীন সরকার ও বিশিষ্ট আলেম আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ এপ্রিল ২০১৮/নঈমুদ্দীন/সাইফ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে কোহলির

২০১৮-০৯-২১ ৮:০২:১৯ পিএম

১৬ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি

২০১৮-০৯-২১ ৬:১৮:০৭ পিএম