‘মেধাবিকাশ, উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনার উন্মেষ কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়’

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০৪ ৭:৫৮:১০ পিএম
মুহাম্মদ নূরুজ্জামান | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা এবং কেবল সনদ প্রদান মূল উদেশ্য নয়, বরং মেধাবিকাশ, উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনার উন্মেষ, বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা প্রয়োগের শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি বলেন, নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে  যাতে শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত হতে পারে তার দ্বার উন্মোচন করাই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি  বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি এ সব কথা বলেন। 

মো. আবদুল হামিদ বলেন, সুনির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন ও ব্যবহার এবং আবিষ্কার সম্পর্কে নিজস্ব কর্মসূচি থাকতে হবে। পাশাপাশি বিশ্বের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনা করে নিজেদের জন্য যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম এবং উন্নত পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ব্যর্থ হলে তা যুগের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, ইউসিজিসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বমানের শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতি গঠনে প্রকৌশলী শিক্ষার গুরুত্ব অত্যাধিক। প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি শিক্ষা জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করে। প্রকৌশলীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীল চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসে টেকসই উন্নতমানের রূপরেখা। তাই প্রকৌশলীদের চিন্তা চেতনায় থাকবে দূরদৃষ্টির সুস্পষ্ট প্রতিফলন।  

তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতিনিয়তই প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই আমাদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিকমানের উন্নীত করে এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনে উদ্যোগী হয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষার প্রতিটি স্তরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে ময়মনসিংহের ভালুকায় বিস্ফোরণে নিহত কুয়েটের চার শিক্ষার্থীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। এতে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ  প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আসগর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান।

সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ স্নাতক পর্যায়ে ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে ৩৮ জন কৃতী গ্রাজুয়েটকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ প্রদান করেন। সমাবর্তনে ২৭৯৫ জনকে স্নাতক ও ২২৮ জনকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়।



রাইজিংবিডি/খুলনা/০৪ এপ্রিল ২০১৮/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/বকুল

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে কোহলির

২০১৮-০৯-২১ ৮:০২:১৯ পিএম

১৬ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি

২০১৮-০৯-২১ ৬:১৮:০৭ পিএম