সিনেমার অভাবে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের আশঙ্কা

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৩ ৫:৪০:২৮ পিএম
রাহাত সাইফুল | রাইজিংবিডি.কম

রাহাত সাইফুল : চলচ্চিত্রের মন্দার বাজারে আশা আর অপেক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল ২০১৮ সাল। চলতি বছরের প্রথম মাসের দুই সপ্তাহ প্রেক্ষাগৃহে চলেছে মানহীন দেশি সিনেমা। আর বাকি দুই সপ্তাহ চলেছে কলকাতার সিনেমা। তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে এসে দেশি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে ব্যর্থ হয়। সাফটা চুক্তির মাধ্যমে কলকাতার দুটি সিনেমা বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশি ও বিদেশি সিনেমা না থাকায় সিনেমা শূন্য হয়ে পড়ে প্রেক্ষাগৃহগুলো। বাধ্য হয়ে পুরোনো সিনেমা দিয়ে হলগুলো সচল রাখেন কর্তৃপক্ষ। দুই ঈদ ব্যতীত বছরজুড়ে এভাবেই সিনেমার খরায় ছিল প্রেক্ষাগৃহগুলো।

চলতি বছরের শেষে এসে আবারো সিনেমার খরায় পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হল মালিক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। এখন পর্যন্ত সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া সিনেমার তালিকায় রয়েছে-‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’, ‘আসমানী’, ‘রাত্রীর যাত্রী’, ‘ভালোবাসা ডটকম’, ‘ডনগিরি’, ‘স্বপ্নের ঘর’, ‘অর্পিতা’, ‘কালো মেঘের ভেলা’, ‘নীল ফড়িং’, ‘বীর যোদ্ধা’, ‘নামতা’, ‘চল যাই’, ‘পোস্ট মাস্টার ৭১’, ‘আলফা’, ‘রাজশাহীর রসগোল্লা’, ‘আই এ্যাম রাজ’, ‘ধ্বংস মানব’, ‘অনুপ্রবেশ’, ‘হৃদয় ছোঁয়া কথা’সহ কয়েকটি সিনেমা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক সিনেমা হাতে গোনা ৫ থেকে ৬টি। বাকি সিনেমাগুলো যে ঘরানার তাতে সাধারণত ১ থেকে ৫টি প্রেক্ষাগৃহে এসব সিনেমা মুক্তি পেয়ে থাকে। সে হিসেবে বলা যায়, চলতি বছরের শেষের দিকে হলগুলো সিনেমার খরায় থাকবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন সিনেমা না থাকায় এখনই দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে পুরোনো সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে।

২০১৮ সালের এখনো ১০ সপ্তাহ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে ২৬ অক্টোবর ‘ধ্বংস মানব’, ‘কালো মেঘের ভেলা’, ২ নভেম্বর ‘আসমানী’, ‘অর্পিতা’, ৯ নভেম্বর ‘পরানের পাখি’, ‘স্বপ্নের ঘর’, ১৬ নভেম্বর ‘দহন’ ও ২৩ নভেম্বর নতুন কোনো সিনেমা মুক্তির জন্য এখনো বুকিং করা হয়নি। ৩০ নভেম্বর ‘অনুপ্রবেশ’, ৭ ডিসেম্বর ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’, ‘ডনগিরি’, ১৪ ডিসেম্বর ‘রাত্রীর যাত্রী’, ‘হৃদয় ছোয়া কথা’। ২১ ও ২৮ ডিসেম্বর এখন পর্যন্ত খালি রয়েছে।

এ বিষয়ে হল মালিক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা হলের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘সিনেমা নেই, হলে কি চালাব? যেসব সিনেমা আছে তাতে দর্শক টানতে ব্যর্থ হচ্ছে। বছর শেষে সিনেমার সংখ্যা যা আছে তা ভালোই কিন্তু এসব সিনেমা খুব বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়। এ সব সিনেমার মধ্যে কয়েকটি সিনেমা দেশব্যাপী চলার মতো। নতুন সিনেমা মুক্তি না পেলে বাধ্য হয়ে পুরোনো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে চালাব।’

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ বলেন, ‘বছরের শেষে এসে সিনেমা নেই। এ কারণে বেশ কিছু হল বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদেরও কিছু হল নভেম্বরের পর বন্ধ করে দিব। সিনেমা না থাকলে কি চালাব?’

সিনেমার সংখ্যা কম হওয়ার কারণ কী বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সিনেমার সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য দায়ি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি আর তাদের আন্দোলন। সিনেমার কাজ করতে গেলেই বাঁধার মুখে পড়তে হয়। যৌথ প্রযোজনার সিনেমা আমরা এখন আর করতে পারছি না। বছরে ছয়টা যৌথ প্রযোজনার সিনেমা করলেও হলগুলো বেঁচে থাকত। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে সিনেমা নির্মাণ কমে গেছে।’

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বছরজুড়েই সিনেমার খরা গিয়েছে। বছর শেষে এসে, সে খরা আরো বেড়েছে।’ চলচ্চিত্রে এ খরা কেন তৈরি হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রযোজক তাদের লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না বলে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসছে না।’ এ সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন প্রযোজক তার টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পেলেই চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসবেন। সিনেমা হলে কতজন দর্শক হয়েছে সেটা কিন্তু একজন প্রযোজক দেখতে পারেন না। হল মালিকের পক্ষ থেকে যা বলা হয় তাই মেনে নিতে হয়। ডিজিটালে যুগে এটা হবে কেন? ই-টিকিটিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে প্রযোজক ঘরে বসেই জানতে পারত কয়টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে সিনেপ্লেক্সে একটি টিকিট বিক্রি হয় আড়াই শ টাকা। সেখান থেকে প্রযোজক পান মাত্র ১৭ টাকা। ব্লকবাস্টারে টিকিট বিক্রি হয় সাড়ে চার শ টাকা, প্রযোজক পায় মাত্র ৩৩ টাকা। এভাবে চললে প্রযোজক কীভাবে অর্থ লগ্নি করবেন। এসব সমস্যার সমাধান হলেই আবার সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা বাড়বে। তাছাড়া সিনেমার গল্প নির্বাচনে আমাদের প্রযোজকদের সমস্যা আছে। ভালো গল্পকারদের দিয়ে গল্প লেখাতে হবে। যাতে দর্শক হলে গিয়ে সিনেমাটি দেখে বিনোদিত হয়।’

এদিকে ‘অন্ধকার জগত’, ‘নোলক’, ‘একটা প্রেম দরকার’, ‘বাহাদুরি’, ‘প্রতিশোধের আগুন’, ‘বয়ফ্রেন্ড’, ‘আমার মা আমার বেহেশত’, ‘আমার কোন টেনশন নাই’, ‘ডেঞ্জার জোন’, ‘ভোলা’, ‘শশুড়বাড়ি জিন্দাবাদ-২’, ‘দাগ’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘মাই ডার্লিং’, ‘হৃদয় জুড়ে’, ‘পাগলামী’, ‘জান রে’, ‘বেসামাল’, ‘নদীর বুকে চাঁদ’, ‘সোঁয়াচান পাখি’, ‘এদেশ তোমার আমার’, ‘স্বামীভাগ্য’, ‘লাভ ইউ’, ‘বন্ধন’, ‘রাগী’, ‘তোলপাড়’, ‘বীরমাতা’, ‘প্রেমের বাঁধন’ সিনেমার শুটিং চলছে। এছাড়া যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে-‘তুই শুধু আমার’, ‘গাদ্দার’ সিনেমা। এ তালিকা থেকে কোনো সিনেমা এ বছর মুক্তি দেয়া সম্ভব নয় বলে শোনা যাচ্ছে। তবে একটি করে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘বেপরোয়া’ ও ‘মাতাল’ এ বছর আবারো প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে।

এভাবে সিনেমার খরা চলতে থাকলে হল মালিকদের লোকসান গুনতে গুনতে একসময় প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দিতে হবে বলে ধারণা করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। তারা আরো মনে করেন, প্রযোজকের লগ্নিকৃত অর্থের ন্যায্য অংশ ও সিনেমার টিকিট বিক্রির সচ্ছতার ব্যবস্থা থাকলে প্রযোজক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম হবে। মানসম্পন্ন নতুন সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলে দর্শক আবার হলমুখী হবেন। ফলে হল মালিকদের লোকসান গুনতে হবে না, প্রযোজকরাও ফিরে পাবেন তাদের লগ্নিকৃত অর্থ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৩ অক্টোবর ২০১৮/রাহাত/শান্ত

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

অবসরে আগ্নেয়স্কা রাদওয়ানস্কা

২০১৮-১১-১৪ ১০:৪৯:০৮ পিএম

কবে হবে মিরাজের টেস্ট সেঞ্চুরি?

২০১৮-১১-১৪ ৯:১২:৩১ পিএম

‘নির্বাচন এক ঘণ্টাও পেছাবেন না’

২০১৮-১১-১৪ ৮:২১:৫১ পিএম