বুঝতেই পারিনি কোন অপরাধে অপরাধী হলাম : সোহেল রানা

প্রকাশ: ২০১৮-১২-০৫ ৮:১৭:৪৯ এএম
রাহাত সাইফুল | রাইজিংবিডি.কম

রাহাত সাইফুল : ঢাকাই চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় নাম সোহেল রানা। তার প্রকৃত নাম মাসুদ পারভেজ। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনি। ’৭০ ও ’৮০-এর দশকে পর্দা কাঁপানো নায়ক সোহেল রানার চলচ্চিত্রে আগমন প্রযোজক হিসেবে। একাধারে তিনি প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেতা। পর্দায় তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য ভক্ত। এখন মাঠে নেমেছেন ভোটারের মন জয় করতে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য চিত্রনায়ক সোহেল রানা। গত ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪ হাজার ১ শ’ ৪৭ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে আপিল করেছেন সোহেল রানা। মনোনয়নপত্র বাতিল, মহাজোট থেকে মনোনয়নসহ বর্তমান রাজনীতির নানা বিষয়ে রাইজিংবিডির এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সোহেল রানা। এ আলাপচারিতার বিশেষ অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

রাহাত সাইফুল : কেমন আছেন?

সোহেল রানা : আসলে শরীরের সঙ্গে মনের সম্পর্ক রয়েছে। মনটা ভালো নেই। কারণ কিছু বুঝে উঠতে পারলেও হতো। কিছুই তো বুঝতেছি না। যদি বুঝতাম অঙ্কে ভুল করেছি, তা হলে মেনে নিতাম। আমি তো ভুল করিনি। আমি তো বুঝেই উঠতে পারিনি কোন অপরাধে অপরাধী হলাম।

রাহাত সাইফুল :  আপনার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে….।

সোহেল রানা : এ বিষয়ে পদক্ষেপ একটাই। সে পদক্ষেপ অনুযায়ী (৪ ডিসেম্বর) আপিল করেছি।

রাহাত সাইফুল : আপিলের রায় আপনার পক্ষে কতটা আসবে বলে মনে করছেন?

সোহেল রানা : এটা তো আমি বলতে পারছি না। আপিল বোর্ড বিষয়টি দেখবেন, বিশ্লেষণ করবেন তারপর রায় দিবেন।

রাহাত সাইফুল : মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করছেন। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

সোহেল রানা : আমার মনে হচ্ছে-মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে পেপার পত্রিকায় যা বলা হয়েছে, সেখানে ছোট গ্যাপ রয়েছে। আর বিষয়টি পুরোপুরি নিচ তলা পর্যন্ত পৌছায়নি। এই গ্যাপের কারণে কিছু কিছু জায়গায় ভুলভ্রান্তি হচ্ছে। যেমন মনে করেন, গতবার বলা হয়েছিল-টেলিফোন বিল, বিদুৎ বিল, গ্যাস বিল এসব দিতে হবে। টেলিফোন হাজারজন লোকের আছে। তাই টেলিফোন বিল দিচ্ছেন কিন্তু এখন মুঠোফোনের বিলটাও জমা দিতে হবে। আর তা না হলে সেটা বাদ দিয়ে দিতে হবে। এমন ছোট ছোট ভুলগুলো করে ফেলেছে।

আমার যে ভুল হয়েছে সেটা তো ভুলই না। কারণ ওটা আমার মায়ের সম্পত্তি। আমি ঋণখেলাপী নই। আমি তো কারো কাছ থেকে জীবনে পাঁচ টাকাও নেইনি। বিদুৎ বিলটা যে মার্কেটের, সে মার্কেটির মালিক হচ্ছেন আমার মা। তারা বলছেন, মিটারগুলো নাকি আমার নামে। ওটা যদি আমার নামেই থেকে থাকে তবে গত বিশ বছরে মিটারের লাইন কেটেছে, টাকা দেয়নি ইত্যাদি ঝামেলা হয়েছে, তখন তো কখনো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। এর কাগজে লেখাই ছিল বিদুৎ বিল দিবেন ভাড়াটিয়ারা।

বিদুৎ বিল সাধারণত গ্রামের লোকেরা ১২-১৫ তারিখে দেয়। যেহেতেু আমাকেই মালিক মনে করা হয়েছে-এইবার তোমরা যে সময় বেঁধে দিয়েছো সেগুলো আমাকে জানানো দরকার ছিল। যেদিন চেক করা হয়েছে সেদিন সব টাকা পরিশোধ করা হয়। কোনো বকেয়া নেই। ৭ তারিখেই বিল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলতে পারেন, এটা আমার নামে আছে। আমি বলব, হতে পারে। কারণ ওখানকার মানুষগুলো ভাবতে পারেন আমি যেহেতু সিনেমার লোক। তাই কোনো সুবিধা পেতে পারেন। তাই হয়তো আমার নাম দিয়ে রেখেছে। এতে আমার কোন স্বাক্ষরও নেই। গত বিশ বছরে কোনো দিন আমি পেমেন্ট দেইনি এবং কোনো কাগজে আমার কোনো স্বাক্ষরও নেই। এখন আমার নামে মিটার এই হচ্ছে দোষ? তা হলে আমার নামে অনেকগুলো মিষ্টির দোকান আছে, বাস আছে কমপক্ষে ৫ শ, সোহেল রানা বাস। আমার নামে ছেলে মেয়ে আছে হাজারো। এসব কি আমার!

এটা আমার মাথায় ঢুকে না। আমি বুঝতেছি না। কি কারণে এটা করেছে, তা আমি জানি না। আইনের বিষয়টি আইনের মাধ্যমেই জবাব দিব। তবে বিষয়টা আমাকে হতবাক করেছে। সারে চার হাজার টাকা। এখানে দশটা দোকান। ভাগে কত টাকা করে পড়ে? দেখুন নির্বাচন করার জন্য আমাকে ২৫ লাখ টাকা খরচ করার অনুমতি দিয়েছে। আর ৪ হাজার ৫০০ টাকার ডি-ফল্টার হয়ে গেলাম!

রাহাত সাইফুল : বরিশার-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে একজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে মহাজোট থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

সোহেল রানা : মনোনয়ন তো মহাজোট আমাকেই দিয়েছে। আবার একদিন আগে অন্য একজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখন কী হয়েছে, এটা তো আমি বলতে পারছি না।

রাহাত সাইফুল : রাজনৈতিক ও নেতৃত্ব দেয়ার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আপনি চাইলে অনেক আগেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে এখন কেন নির্বাচনে আসলেন?

সোহেল রানা : এর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দুইবার মনোনয়ন দিয়েছিলেন। একবার যে সময় নির্বাচন হয়েছিল তখন আমি হজে গিয়েছিলাম। সে বছর নিয়ত করেছিলাম এই বছর হজে যাব। নির্বাচন আমার কাছে বড় ব্যাপার না। যে কারণে তখন আর নির্বাচন করা হয়ে উঠেনি। দ্বিতীয়বার নির্বাচনটা আমার পক্ষে ছিল না। কারণ বিএনপির প্রেসিডেন্টের বিপরীতে আমাকে দেওয়া হয়েছিল। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বললাম-এ আসনে যে কেউ দাঁড়ালেই ফেল করবে। তখন তিনিই বললেন, হ্যাঁ, মুশকিল। এরপর অন্য একজনকে দেয়া হয়েছিল। পরে সে জামানত হারিয়েছিল। সে কারণে দ্বিতীয়বার নির্বাচন করা হয়নি। তাই এবার নমিনেশন পেপার জমা দিলাম।

রাহাত সাইফুল : নির্বাচিত হলে প্রথম কোন কাজটি করতে চান।

সোহেল রানা : ফিল্ম যখন করেছি তখন আমি একজনের জন্য করেছি? দেশের জন্য করেছি। স্বাধীনতা যুদ্ধ যখন করেছি তখন কী মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বা বিশেষ কারো জন্য করেছি? না দেশের সকল মানুষের জন্য করেছি। আমার জীবনে যা কিছু করার ছিল সেগুলা আমি সবার জন্য করেছি। রাজনৈতিক মঞ্চে আমাকে যে কোনো জায়গা থেকেই দেয়া হোক না কেন আমি সেটাকে মনে করব এটা আমার দেশ। সারা দেশটাই আমার। আমি সেভাবেই ভাবি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল-সোনার বাংলার। যেখানে মানুষ খাবে, লেখাপড়া করতে পারবে, বাসস্থান পাবে এবং সমস্ত কিছুর অধিকার তার (জনগণের) থাকবে। কথা বলার অধিকার থেকে শুরু করে সব কিছুর অধিকার থাকবে। আমিও সেই স্বপ্নই দেখি। সেই স্বপ্ন নিয়েই আমি কাজ করব। আমি কোনো প্রতিজ্ঞা করতে চাচ্ছি না।

রাহাত সাইফুল : যতদূর জেনেছি আপনার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় জনগণের মধ্যে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

সোহেল রানা : এটা সবসময়ই ছিল। আমি যখন সিনেমায় কাজ করেছি তখনো ছিল। আমি বাংলাদেশে কেনাকাটা করতে পারিনি। আমাকে দেশের বাইরে গিয়ে কেনাকাটা করতে হয়েছে। কারণ দেশে কেনাকাটা করতে গেলেই মানুষ জমে যেত। বিয়ের পর আমার স্ত্রী আমার জন্য কেনাকাটা করেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি মানুষের ভালোবাসা সবসময় পেয়ে আসছি। এর মধ্যে আমার বাহাদুরির কিছু নেই।

রাহাত সাইফুল : জাতীয় পার্টির মহাসচিব হঠাৎ করেই পরিবর্তন করা হয়েছে। এই বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

সোহেল রানা : বিষয়টি আমি বুঝতে পারছি না। যিনি মহাসচিব ছিলেন তার মনোনয়নপত্রও বাদ দেয়া হয়েছে। এগুলো তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে আমি নিশ্চিত নই। কারণ মাননীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়নি। আর আমি নিজেই বোঝার চেষ্টা করছি আমার সঙ্গে কি হলো। মনোনয়নপত্র বাতিলের পর এ পর্যন্ত একই কথা বলতে বলতে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। উজিরপুর আর বানারীপাড়া থেকে ফোন আসতেই আছে। ভাই কি হলো? কেন হচ্ছে? এইটা করব ওইটা করব। এটা হতে দেব না ইত্যাদি। আমি তাদের বললাম, ভাই আল্লাহর ওয়াস্তে তোমরা শান্ত হও। দেখ আল্লাহ তা’লা কোন পথে নেয়।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ ডিসেম্বর ২০১৮/রাহাত/শান্ত

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সেরা দশেও ঠাঁই হয়নি নেইমারের

২০১৯-০২-১৭ ১০:৫১:০৭ পিএম

অনুমোদন পেল আরো তিন ব্যাংক

২০১৯-০২-১৭ ১০:০৫:২৪ পিএম

৫৮ ধাপ এগোলেন পেরেরা

২০১৯-০২-১৭ ৯:২২:৫০ পিএম

কুমিল্লায় ৩ কোচিং সিলগালা

২০১৯-০২-১৭ ৯:১০:১৫ পিএম

বইমেলায় ইসহাক খানের তিন বই

২০১৯-০২-১৭ ৯:০৯:৫৬ পিএম