শিল্পকলা আন্দোলনে এক অবিস্মরণীয় নাম সৈয়দ জাহাঙ্গীর

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৬ ৮:৩০:৫০ পিএম
আবু বকর ইয়ামিন | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক : চিত্রশিল্পী হাশেম খান বলেছেন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের শিল্পকলা আন্দোলনে এক অবিস্মরণীয় নাম। শুধু চিত্রশিল্পে নয়, এদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনেরও তিনি এক অগ্রণীজন। তার মানুষ ও মৃত্তিকালগ্ন শিল্পকাজ এবং অঙ্গীকার জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শনিবার গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মইনুদ্দীন খালেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফরিদা জামান, নিসার হোসেন এবং মলয় বালা।

প্রাবন্ধিক বলেন, শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর পঞ্চাশের দশকের নিরীক্ষানিষ্ঠ শিল্পীদের মধ্যে স্বাতন্ত্র্যের বৈশিষ্ট্যে সুচিহ্নিত। তাঁর জীবন-পাঠ ও শিল্পকৃতির বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন সময়ের আরো  আবর্তনে স্পষ্টতা পাবে। তাঁর শিল্প নিয়ে আজও তেমন গবেষণা হয়নি। যদিও তিনি পঞ্চাশের প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক একক প্রদর্শনী করেছেন।

আলোচকরা বলেন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের জগতে এক অনন্য নাম। তার চিত্রকাজে বাংলাদেশের ভূবৈচিত্র্য অসামান্য শৈল্পিক ব্যঞ্জনায় অভিষিক্ত হয়েছে। সৈয়দ জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী স্মৃতির মানচিত্র বাংলাদেশের পঞ্চাশ দশকের শিল্পসাহিত্য জগতের এক বিশ্বস্ত ভাষ্য।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি কাজী রোজী এবং মারুফ রায়হান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মুস্তাফা ওয়ালিদ এবং কাজি মাহতাব সুমন। নৃত্য পরিবেশন করেন মৈত্রী সরকারের পরিচালনায় নৃত্যসংগঠন ‘স্বপ্নবিকাশ কলা কেন্দ্র’-এর নৃত্যশিল্পীরা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী লীনু বিল্লাহ, চম্পা বণিক, বশিরুজ্জামন সাব্বির, প্রিয়াংকা বিশ্বাস, অপু আমান। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন চন্দন দত্ত (তবলা), মো. মনিরুজ্জামান (বাঁশি), রিচার্ড কিশোর (গীটার), মো. মানিক (অক্টোপ্যাড) এবং বিনোদ রায় (কী-বোর্ড)।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন আসাদ মান্নান, শাকুর মজিদ, পাপীয়া জেরিন, আবদুল্লাহ আল ইমরান, মাহফুজ রিপন।

শনিবার মেলায় নতুন বই এসেছে ২০৬টি। গ্রন্থমেলায় আজ ছিল শিশুপ্রহর। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়।

সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব : সকাল ১০টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত নির্বাচন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ২১ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় মো. মুনতাজিম রহমান সায়মন (প্রথম স্থান), তাইয়্যেবা ও নুসাইবা নাজমী খান (দ্বিতীয় স্থান) ও মো. শাহারিয়ার আহম্মেদ (তৃতীয় স্থান) অধিকার করে। উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় নিসার বিন সাইফুল্লাহ জাহিন (প্রথম স্থান), কাশফিয়া কাওসার চৌধুরী (দ্বিতীয় স্থান) ও শাঁওলী সামরিজা (তৃতীয় স্থান) অধিকার করে। প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অণিমা মুক্তি গমেজ, হাসান মাহমুদ এবং ক্রীড়াবিদ রঞ্জিত চন্দ্র দাস।

রোববারের অনুষ্ঠান সূচি : মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক : শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন খালেদ হোসাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মফিদুল হক, আসাদ মান্নান, শিহাব সরকার, আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন  কবি মনজুরে মওলা। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ইয়ামিন/সাইফ

   


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ