ভালোবাসা দিবসে কোটি টাকার ফুল-বাণিজ্য

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৪ ৩:০৫:৫৫ পিএম
ছাইফুল ইসলাম মাছুম | রাইজিংবিডি.কম

ছাইফুল ইসলাম মাছুম: ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ফুলের চাহিদা বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আজকের এই দিনটিতে অন্তত কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হবে। শাহবাগের পাইকারি ফুল বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটি জানা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সারা বছর ধরে ফুলের ব্যবসা চললেও, মূলত ফুলের ব্যবসা জমজমাট হয় পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি এবং পহেলা বৈশাখে।

ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে হঠাৎ ফুলের দাম বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। অন্য সাধারণ সময়ে দেশি গোলাপের দাম এক থেকে দুই টাকা হলেও ভালোবাসা দিবসে দাম বেড়ে হয়েছে ২০ টাকা। চায়না গোলাপ অন্য সময় ৫০ টাকা হলেও ভালোবাসা দিবসে ১০০ টাকা। ভারতীয় ২০ টাকা দামের গোলাপের দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল আমিন প্রান্ত জানান, দিবসকে ঘিরে ফুল দোকানিরা গলাকাটা ব্যবসা করছে। তিনি খিলক্ষেত এলাকা থেকে  চারটি লাল গোলাপ কিনেছেন ২০০ টাকা দিয়ে। যদিও অন্য সময় চারটি লাল গোলাপের দাম মাত্র ২০ টাকা।

 


রকমারি ফুলের মধ্যে শাহবাগ পাইকারি বাজারে পাওয়া যায় জারবেরা, গ্লাডিওলাস, অর্কিড, কসমস, ডালিয়া, টিউলিপ, কালো গোলাপ, ঝুমকা লতা, গাজানিয়া, প্লামেরিয়া, চন্দ্রমল্লিকা অন্যতম। অন্য সময় দাম হাতের নাগালে থাকলেও, দিবসভিত্তিক ফুলগুলোর দাম হয় আকাশ ছোঁয়া। কবি নজরুল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তাইফুর রহমান শুভ (১৫)। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি দুই বছর ধরে শাহবাগে ফুলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শুভ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘মানুষ ভালোবাসার পূজারী। আর ফুল হলো ভালোবাসার নিদর্শন। তাই ভালোবাসা দিবসে ফুলের কদর বেড়ে যায়।’

শাহবাগে দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে ফুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কালু মিয়া (৪৩)। তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে যখন রকমারি ফুল ছিল না, তখন ফুল কুড়িয়ে এনে বিক্রি করতেন তিনি। ১৯৯৫ সালে শাহবাগে ফুলের দোকান দেন। কালু মিয়া বর্তমানে শাহবাগ ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্য। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আগে ভালোবাসা দিবসের প্রচলন ছিল না। ২০০০ সালের পর থেকে ভালোবাসা দিবস আস্তে আস্তে প্রসার লাভ করে। প্রতিবছর শুধু ভালোবাসা দিবস ঘিরে শাহবাগে কয়েক কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়।’

 


সারা বছর ধরে ফুলের মালা, ঢালা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন নারী শ্রমিক শারমিন আক্তার। তিনি জানান, অন্য সময় দৈনিক চার, পাঁচ ঘণ্টা করে ফুলের মালা ও ঢালা তৈরি করলেও গত দুই দিন পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে দিন রাত একটানা কাজ করছেন তিনি।

ভালোবাসা দিবসের ফুল নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ কান্তা রেজার সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ভালোবাসা দিবস যতখানি না ভালোবাসার, তার চেয়ে বেশি ফুল বেচাকেনার বলে মনে হয়। যদিও বিষয়টা কিছু ঋণাত্মক হয়ে গেল, তাও এটাই বেশিরভাগ অর্থে সত্যি। পুজিঁবাদি সমাজে ফুলের দামেই যেন আজ ভালোবাসা বিক্রি হয়।’

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/ফিরোজ/তারা

   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বিয়ে হলে তো ছবি দেখাব : মিমি

বিয়ে হলে তো ছবি দেখাব : মিমি

২০১৮-০২-২০ ৩:২৭:১৯ পিএম