ইনসার আলীর খুদের ভাত

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-৩১ ৪:২১:৩০ পিএম
ছাইফুল ইসলাম মাছুম | রাইজিংবিডি.কম

ছাইফুল ইসলাম মাছুম : রকমারি ভর্তা দিয়ে খুদের ভাত পরিবেশন করেন ইনসার আলী। পোলাও চালের খুদে তৈরি এই ভাত খেতেও দারুন মজার। স্পেশাল খুদের ভাতের সঙ্গে ভর্তা আইটেম রয়েছে কালোজিরা ভর্তা, কাঁচা মরিচ ভর্তা, কলাপাতা ভর্তা, সরিষা ভর্তা, থানকুনি ভর্তা, বেগুন, আলু, লাউপাতা ভর্তাসহ ১৫ পদের ভর্তা। সঙ্গে আছে স্পেশাল ডিম ভাজা। ইনসার আলীর স্পেশাল ভাত খেতে প্রতিদিন কাছের দূরের অনেক মানুষ ভিড় করেন তার খাবার হোটেলে।

ঢাকার খুব কাছে কেরানীগঞ্জের রোহিতপুরে ছয় বছর আগে ‘সোহানা’ নামে ব্যতিক্রমধর্মী খাবার হোটেল গড়ে তুলেন ইনসার আলী। রাস্তার পাশে পুরোনো টিনের ঘর। ছোট চার-পাঁচখানা টেবিল পাতা, বসার জন্য আছে বেঞ্চ। এতে বসেই লোকজন বেশ আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছে খুদের ভাত।

আগে গ্রামে দাদী নানীরা খুদের ভাত রান্না করতো, তখন জনপ্রিয়তা থাকলেও, এখন আর প্রচলন নেই। বাঙালি খাদ্য তালিকায় শত রকম বাহারি খাবার যোগ হলেও, ঐতিহ্যবাহী খুদের ভাত হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই ইনসার আলী ভাবলেন ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করে কিভাবে খুদের ভাত জনপ্রিয় করে তুলে যায়। খুদের ভাত নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন ২০১২ সালে, প্রথম দিকে তেমন সাড়া পেতেন না। পরে ঢাকা থেকে আসা এক সাইকেল গ্রুপ খুদের ভাত খেয়ে যান, সেই থেকে বাড়তে থাকে খুদের ভাতের প্রচারণা, সমান তালে জনপ্রিয়তাও। ইনসার আলী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘প্রথম দিকে অল্প অল্প পাকাইতাম, মানুষজনকে ডাক দিয়ে দিয়ে খিলাইতাম। খুদের ভাত মানুষ চিনতো না। গ্রামের মানুষ কেউ কেউ খাইতো। কিছুদিন পর ঢাকা থেকে একটা সাইকেল গ্রুপ আসলো। খেয়ে মজা পেয়ে তারা জানালো, আগামী সপ্তাহে তারা ২২ জন আসবে, সঙ্গে যেন ডিম ভাজা দিই। এরপর তারা মাঝে মাঝেই খেতে আসতো। খুদের ভাতের চাহিদাও বাড়তে থাকলো।’

ইনসার আলী ও পরিবারের সদস্যরা চালিয়ে নিচ্ছে হোটেলটি। সব মিলিয়ে দোকানে কর্মী রয়েছে পাঁচজন। তার মধ্যে মেয়ে জামাই উজ্জল মিয়াও রয়েছেন। উজ্জল মিয়া জানান, দিনে ১৪ কেজির মতো খুদের ভাত রান্না করলে একশ‘র বেশি মানুষকে খাওয়ানো যায়। প্রতিদিন খুদের ভাত খেতে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, সাভার থেকে মানুষ আসে, তবে শুক্র ও শনিবার ব্যবসাটা খুব জমে, ওই সময় মানুষজন বেশি আসে। তিনি জানান, কয়েক প্রকার ভর্তা, ডিম ভাজিসহ খুদের ভাত প্রতি প্লেট ৪৫ টাকা।



খুদের ভাতের ভক্ত তরুণ সাইক্লিস্ট মোহাম্মাদ সাজ্জাদ হোসেন শাওন। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম যাই! সকাল ৭-৭:৩০দিকে। সাইকেল দিয়ে ৮জন বন্ধু। এরপর অনেক বার গিয়েছি। ইনসার আলীর খাবারের মূল আকর্ষণ খুদের ভাতের সঙ্গে দেয়া ভর্তাগুলা। এছাড়া ইনসান আলী নিজেই ভাত বেড়ে দেয়, তার ব্যবহারও অনেক ভালো।’

মাঝে মধ্যেই ইনসার আলীর খুদের ভাত খেতে আসেন স্টামফোর্ড সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র সানমুন খান। সানমুন বলেন, ‘আমি আগে কখনো কোথাও খুদের ভাত খাইনি। ইনসান ভাইয়ের খুদের ভাত খেয়ে অন্য রকম স্বাদ পেয়েছি। এখন মাঝে মাঝে এখানে খুদের ভাত খেতে আসি।’

চাল ঝাড়ার পর ভাঙা ছোট ছোট যে চালটা পাওয়া যায়, সেটাই খুদ। রান্নার এই চালকে কেরানীগঞ্জে বলে ‘খুদের ভাকা’। হাতে সময় থাকলে একদিন খেয়ে আসতে পারেন ইনসার আলীর মজার স্বাদের খুদের ভাত।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকার মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে খুব সহজে যেতে পারবেন। প্রথমে মোহাম্মদপুর থেকে মাত্র ১০ টাকা লেগুনা ভাড়ায় যেতে হবে আটির বাজার। আটিবাজার থেকে জনপ্রতি ৪০ টাকা সিএনজি ভাড়া দিয়ে যেতে হবে গোয়ালখালী রোহিতপুর। ওখানে গিয়ে ইনসার আলীর খুদের ভাকা বললে সবাই দেখিয়ে দিবে। কেরানীগঞ্জ থেকে কেউ যেতে চাইলে বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় সেতু দিয়ে গোয়ালখালী হয়ে যেতে পারেন রোহিতপুর।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩১ মার্চ ২০১৮/ফিরোজ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

২০১৮-০৭-১৯ ৯:১৬:১১ এএম

ভাষা, গল্প ও হুমায়ূন আহমেদ

২০১৮-০৭-১৯ ৮:৩৩:৩১ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৮-০৭-১৯ ৮:৩০:৩৪ এএম

এইচএসসি ও সমমানের ফল আজ

২০১৮-০৭-১৯ ৮:২৮:৪৬ এএম

দ্বিতীয় ম্যাচেও এইচপি দলের জয়

২০১৮-০৭-১৮ ১০:৩৩:৩৯ পিএম