বাঙালির তাম্বুলবিলাস

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-১১ ৮:৩২:০৪ এএম
কাজী জাহিদুল হক | রাইজিংবিডি.কম

পুরনো ঢাকায় এখন আগুন-পান বিক্রি করতে দেখা যায়

কাজী জাহিদুল হক : বাঙালি সমাজে পান গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা দখল করেছিল। খাওয়ার শেষে এক খিলি পান মুখে দেওয়া চাই-ই চাই। এছাড়া সকল প্রকার সামজিক অনুষ্ঠানেও এর প্রয়োজন হতো। পান চুক্তিপত্র দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত করত এবং অন্যান্য বহু সামাজিক উদ্দেশ্য সাধন করত। অতিথিকে পান দিয়ে আপ্যায়ন করা সম্মানজনক বিবেচনা করা হতো। যে কারণে সম্মানীয় অতিথির জন্য থালাভর্তি মিষ্টি ও সুগন্ধির সঙ্গে পান ছিল অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ। প্রত্যেক উৎসব অনুষ্ঠানে পানের যোগান দেওয়া হতো। সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে পান বিতরণের মধ্য দিয়ে আতিথেয়তার সমাপ্তি ঘটত। উভয় পক্ষের পান বিনিময়ের মাধ্যমে বিবাহের শর্ত হতো পাকাপাকি।

আনুমানিক আড়াই-তিন হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে সমগ্র বাংলা তথা ভারতবর্ষে পান খাওয়া এক প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল; যা আজও চলমান।আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্যের ‘চিরঞ্জীব বনৌষধি’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ থেকে জানা যায় বৈদিকযুগ থেকে বঙ্গদেশে পান ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জাতকের গল্পে এবং একাধিত পালি গ্রন্থেও তাম্বুল বা পান ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘হিতোপদেশ’-এও পানের উল্লেখ আছে। প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে রচিত আয়ুর্বেদ গ্রন্থকার সুশ্রুত রচিত ‘সুশ্রুত-সংহিতা’য় ভুক্তবস্তু পরিপাকের আলোচনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, গুরুভোজকারীরা যেন আহারান্তে কোন কোষ্ঠরোধক বা কটূস্বাদফল কিংবা সুপারি, কর্পুর, জায়ফল,লবঙ্গ প্রভৃতি সহযোগে তাম্বুল চর্বণ করেন। পানের উপকরণের এই তালিকা থেকে বোঝা যায় সুশ্রুতের কালেই পান খাওয়া বিলাসিতায় রূপান্তরিত হয়েছিল এবং তা কতখানি পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল।

পণ্ডিতেরা প্রাচীনকালের আরও যে-সব গ্রন্থে তাম্বুল বা পানের নজির পেয়েছেন তার মধ্যে ‘চরক-সংহিতা’ ও কালিদাসের বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। খ্রিস্টীয় ষোলো শতকের প্রথম দিকে রচিত ‘জ্যোতির্নিবন্ধ’ নামের ধর্মশাস্ত্র বিষয়ক এক গ্রন্থে পরপর চব্বিশটি স্তবকে পান খাওয়ার শুভ মুহূর্ত, ব্রাহ্মণকে তাম্বুল দানের পূণ্য, দেবতার প্রীতার্থে পানের ভূমিকা, মিত্র অথবা শত্রুর জন্য পান সাজাবার বিভিন্ন প্রক্রিয়া, নানা শ্রেণির পানের গুণাগুন প্রভৃতি বিষয়ে বিস্তৃত নির্দেশ দেওয়া আছে। পণ্ডিতদের দেওয়া এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা তথা সমগ্র ভারতবর্ষে পান খাওয়ার প্রথা এক গার্হস্থ্য শিল্পকলায় রূপ নিয়ে প্রায় সর্বজনীন হয়ে উঠেছিল।

এর আরও প্রমাণ পাওয়া যায় বাংলায় আগত বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ বিবরণ থেকে। মার্কো পোলো (আনুমানিক ১২৯৫ খ্রি.), দুয়ার্তে বারবোস (১৫১৩ খ্রি.), মাহুয়েন, ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়েরসহ অন্যান্য পর্যটকদের ভ্রমণবৃত্তান্তে ভারতবর্ষে পানের ব্যবহার, এর ঔষধি গুণাগুন, পান খাওয়ার পদ্ধতি, পান খাওয়ার সরঞ্জাম ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে। স্বনামখ্যাত ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়েরের বিবরণটি বেশ চমকপ্রদ। পানে বিষ মিশিয়ে শত্রু বা অপ্রীতিভাজনকে যে হত্যা করা হতো সে কাহিনি বর্ণনা করেছেন বার্নিয়ের। সম্রাট শাহজাহান একদা সন্দেহ করেন, তাঁর বড় মেয়ে জাহানারার সঙ্গে নজর খাঁ নামের এক উচ্চবংশীয় সুপুরুষ যুবা গোপন প্রেমে লিপ্ত। দরবারে বাদশাহ কাউকে নিজের হাতে পান দিলে তা অতি উচ্চসম্মান বলে গণ্য করা হতো। একদিন সম্রাট রাজসভায় সকলের সামনে সেই অসন্দিগ্ধ যুবককে মহাসম্মানসূচক একটি পানের খিলি উপহার দিলেন। প্রথা অনুযায়ী তাকে তখনি তা মুখে দিয়ে চিবাতে হলো। ... সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি পানে বিষ দেওয়া ছিল। ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সম্ভাবনায় মশগুল হয়ে সে দরবার ছেড়ে তার পালকিতে গিয়ে উঠল। কিন্তু তীব্র বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হলো বাড়ি পৌঁছানোর আগেই।
 


বার্নিয়ের তাম্বুল বিলাসের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত চীনামাটি বা রূপার তৈরি পিকদানের কথাও বলেছেন। পান যে বিদেশে রপ্তানি হতো সে তথ্যও আছে কারো কারো বিবরণীতে। তবে পানে বিষ না মেশালেও ঝাল মিশিয়ে নতুন জামাইকে বিব্রত করার রেওয়াজ আমাদের সমাজেও ছিল এক সময়। বিয়ের আসরে বরের জন্য পানের খিলি তৈরি করে ডালায় সাজিয়ে পরিবেশন করতেন কনে পক্ষের লোকজন। সাধারণত কনের ছোট বোন বা বান্ধবিরাই এ-কাজের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। কয়েকটি নির্দিষ্ট খিলির মধ্যে কাঁচা মরিচ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়; বর যদি না বুঝে মরিচসহ পানের খিলি মুখে পুরে নেন সেই আশায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বর সতর্ক থাকতেন। খিলি খুলে দেখে তারপর মুখে দিতেন।

আবার বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের পদাবলী-আখ্যানকাব্য হয়ে হালের কবি, সাহিত্যিক, গীতিকারদের বিভিন্ন লেখায় তাম্বুল তথা পানের প্রসঙ্গ এসেছে নানাভাবে। চর্যাপদের ২৮ নাম্বার চর্যায় তাম্বুলের উল্লেখ রয়েছে। আনুমানিক খ্রিস্টীয় এগারো-বারো শতকে রচিত ‘ময়নামতির গান’-এর নায়িকা ময়না যে-পান খেতেন তার উপকরণ ছিল গুয়ামুরি (সুপারি ও মৌরি), ধনিয়া, জৈষ্ঠমধু, লং, জায়ফল, এলাচ, দারুচিনি ও কর্পুর। এ-থেকে বোঝা যায় সুদূর অতীতেও বাঙালির গার্হস্থ্য জীবনে পান-প্রকরণ রীতিমত শিল্পে পরিণত হয়েছিল। এছাড়া বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’, কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’, ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরের ‘অন্নদামঙ্গল’সহ বিভিন্ন গ্রন্থে পানের প্রসঙ্গ এসেছে নানাভাবে। মহাকবি আলাওল ‘পদ্মাবতী’ কাব্যে পদ্মাবতীর রূপবর্ণনা করতে গিয়ে অসাধারণ একটি পঙ্‌ক্তি সৃষ্টি করেছেন পান নিয়ে। পানের রং সেখানে পদ্মাবতীর ঠোঁটের মহিমায় রঙিন হয়েছে। আলাওয়েল ভাষায়: ‘তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে’। বাংলা ছড়ায়ও পানের উল্লেখ পাই নানান প্রসঙ্গে। যেমন: ‘আয় রে আয় নিদান বুড়ি/ নিদের পাড়া যাবি।/বাটা ভরে পান দেব/গলা ভরে খাবি।’ অথবা ‘ঘুম পড়ানি মাসি পিসি ঘুমের বাড়ি যেয়ো।/বাটা ভরে পান দেব, গাল ভরে খেয়ো।’

পান নিয়ে উপমাবহুল লোককথা পল্লীবাংলায় মুখে মুখে আজও ফেরে। যেমন: ‘ভালোবাসার এমনি গুণ, পানের সঙ্গে যেমনি চুন; বেশি হলে পোড়ে গাল, কম হলে লাগে ঝাল।’ আবার ‘ছাগলের মুখে পড়লো পান, পান বলে মোর গেল জান!’ অথবা ‘পানের সজ্জা পানের ডাবর পান মশলার বাটি, কন্যারে পাঠালাম আমি করি পরিপাট।’ এ থেকে প্রতীয়মান হয় বাঙালির জীবনে পানের সমাদর সবার আগে; সেই বৈদিক যুগ থেকে চলে আসছে।

সৈয়দ মুর্তাজা আলী তাঁর প্রবন্ধ-বিচিত্রা গ্রন্থে লিখেছেন: ‘তখনকার দিনে [মুঘল আমলে] পান খাওয়ার খুব রেওয়াজ ছিল। পূর্ববঙ্গে সাচি ও অন্যান্য প্রকার পান ও সুপারী পর্যাপ্ত পাওয়া যেত। কিন্তু পানের মশলা আসত বিদেশ থেকে। বিহার থেকে আসত বিখ্যাত জনকপুরী। সাচি পানের এত চাহিদা ছিল যে, ঢাকার সাচি পানের জন্য আলাদা বাজার বসেছিল। এই বাজারের নাম ছিল সাচিপান দরিয়া।’ অন্যদিকে জেমস টেলর-এর ‘কোম্পানী আমলে ঢাকা’ (মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান অনূদিত) গ্রন্থ থেকে জানা যায় তখন ঢাকায় ‘তাম্বলী সম্প্রদায়’ নামে এক পেশাজীবী শ্রেণির কথা; যারা পান-সুপারি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
 


পান খাওয়া কারও কাছে বিলাসিতার অংশ, কারও কাছে নেশা, কারও কাছে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি আবার কখনও কখনও রোগ নিরাময়ের ওষুধ। বিলাস তখনই যখন মুক্তোর চুন আর কস্তুরী চুয়ার মশলা দিয়ে পান খেয়ে থাকেন নবাব বাদশারা এবং পান বিলাসিরা; আবার সারাদিন ঘ্যাসঘ্যাস করে ২০-২৫টা পান যাদের খেতেই হয় তাদের ক্ষেত্রে এটি নেশা বলা যেতে পারে। সুস্থ সবল মানুষের ক্ষেত্রে তিন বেলা খাওয়ার পরে একটু পান খাওয়ার অভ্যাসকে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি বলা যেতে পারে। আর পানের ঔষধি গুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবারই জানা।

পান আজও খাওয়া হয়; কিন্তু পানের সেই সামাজিক মর্যাদা ও অপরিহার্যতা আগের মতো নেই। তেমনিভাবে পানের বাটা, পানদান, পানের ডিবে, চুনের কৌটা, পিকদানি, জাঁতি প্রভৃতি সরঞ্জাম প্রস্তুতের জন্য একদা বিরাট কারুশিল্প গড়ে উঠেছিল। আজ তারও অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে প্রায় সব কারিগর ভিন্ন বৃত্তি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন বহুকাল আগেই। সোনা, রূপা, কাঁসা, পিতল, ভরণ প্রভৃতি উপাদান বা তাদের মিশ্র ব্যবহারে নির্মিত এ-জাতীয় সরঞ্জামের গায়ে সূক্ষ্ম তার ও ঝালরের অলঙ্কার এবং বহুবর্ণ মীনার কাজের উচ্চ নৈপুণ্য দেখলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। রাজা-বাদশাদের নজর কাড়ার জন্য মণিমুক্তাখচিত সরঞ্জামও তৈরি হতো অল্পবিস্তর। বস্তুত নবাবী আমল থেকে ঢাকা শহরের এক কারিগর পল্লীর নামই ছিল ‘জড়োয়া-পটি’  যেখানে জহরতের গহনা ছাড়া বহুমূল্য পানের সরঞ্জামও তৈরি হতো। এছাড়া জাঁতির দুই পাটিতে যেসব প্রাণিমূর্তি উৎকীর্ণ হতো তাও বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। কখনো কখনো এক পাটিতে থাকত মায়ের মূর্তি আর অন্য পাটিতে শিশুর। সুপারি কাটার সময় দুই পাল্লার ওঠানামায় শিশু একবার এসে বসত মায়ের কোলে আবার বিচ্ছিন্ন হতো পরমুহূর্তেই। রাধাকৃষ্ণ বা প্রণয়ী-যুগলের মিলন-বিচ্ছেদও ঘটত একইভাবে। ধাবমান হরিণ বা ঘোড়সওয়ার, চিত্রগ্রীব মরাল বা ময়ূর, জলচারী মাছ বা কুমির–প্রাণিজগতের বহু নিদর্শনই এভাবে উৎকীর্ণ হতো জাঁতির গায়ে। এ-সব অপরূপ শিল্পসামগ্রী এখন একান্তই দুর্লভ। কিছু কিছু অবশ্য জাদুঘরে স্থান পেয়েছে।

একালেও পানের বাটা, পানদান, পানের ডিবে, চুনের কৌটা, পিকদানি, জাঁতি প্রভৃতি ব্যবহৃত হয়। তবে এগুলোতে অলঙ্করণ তেমন থাকেই না। যা-দিয়ে কাজ চলে; কিন্তু তাম্বুলবিলাস যদি বলি; তা কি আর প্রকাশ পায়? আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, আদর আপ্যায়নের উপকরণ হিসেবে পান বহুল ব্যবহৃত। অতিথি অভ্যাগত বিশেষ করে সধবা মহিলাদের পান দিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর রীতি ছিল। পূর্বে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল এখনও কিছু কিছু আছে। ভোজনান্তে অতিথিকে পান দেওয়ার রীতি আছে। পান সাজা মেয়েদের কর্তব্য কর্মের মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হতো। অতিথিকে পান সাজিয়ে দেয়ার নিয়ম সর্বত্র ছিল না। অতিথিরা নিজেরাই পান সাজিয়ে নিতেন। পরিশীলিত রীতিনীতি অনুসারে পান সাজা ও পরিবেশন এবং তাম্বুল সেবনের নানাবিধ মনোহর সরঞ্জাম প্রতি গৃহস্থের ঘরেই কম-বেশি থাকত। এগুলো হয়ত এখনো কোন কোন প্রবীণের মনে আছে। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে তাঁরা গত হলে বঙ্গসংস্কৃতি ভাণ্ডার থেকে সে ললিতকলাটি লুপ্ত হবে। পান ও তার বিবিধ মশলা পরখ করা, ঝাড়াইবাছাই করা ও পানের বাটায় যথাস্থানে তাদের রক্ষা করা শুধু পরিশ্রম সাধনই নয়, অভিনিবেশ ও অভিজ্ঞতা সাপেক্ষও ছিল। তারপর পান সাজা। সেখানেই প্রয়োজন হতো প্রকৃত শিল্প প্রতিভার। কোন্ শ্রেণির পানে কী কী মশলা কতখানি করে দিতে হবে তা জানতে হলে শিক্ষানবিশী করতে হতো বেশ কিছুকাল। আগে, সম্ভ্রান্ত সমাজে পানের যখন বিশেষ সমাদর ছিল, কখন কনে দেখার সময় পাত্রীকে নিজের হাতে পান সাজিয়ে পরীক্ষা দিতে হতো পাত্রপক্ষের বয়স্কজনদের কাছে। যথাযথভাবে পানের খিলি তৈরি করে বহু খিলি পান একসঙ্গে গেথে মনোহর সব নকশা সৃষ্টি করা হতো। আর এ-কাজে ব্যবহার করা হতো লবঙ্গ। এ জাতীয় নকশি কাজে অতি মিহি ঝকঝকে তবক ছিল আরেক প্রধান সহায়ক। পানের গাঢ় বা ফিকে সবুজ আর তবকের উজ্জ্বল শুভ্রতার সুষম প্রয়োগে কারুকৃতির নানা দিগন্ত উন্মোচিত হতো আগত অতিথিদের সামনে।

এতো গেল কনে দেখা পর্ব। কনে পছন্দ হলে শুরু হতো বিয়ের আয়োজন। বাঙালি হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বিয়েতে পানের ব্যবহার অপরিহার্য। বিয়ের একাধিক আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে পানের সম্পৃক্ততা ছিল। এ-সব আচার অনুষ্ঠানের নামের সঙ্গেও যুক্ত ছিল পান। যেমন পানকড়াল, পানখিলি, পানচিনি, পান-পত্তর, পান-বাতাসা, পানশল্লা, পানের আলাপ ইত্যাদি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিবাহকেন্দ্রীক এ-সব আচার-অনুষ্ঠানের অধিকাংশই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রাম বাংলার কোথাও কোথাও হয়তো বা এগুলো চর্চা থাকলেও থাকতে পারে।

বিয়ের পর কন্যা যখন শ্বশুরালয়ে গমন করতো তখন নববধূর সঙ্গে তার বাবার বাড়ি থেকে মিষ্টি ও অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে অবধারিতভাবে পান-সুপারি ও পান খাওয়ার অন্যান্য উপকরণ পাঠাতে হতো। শ্বশুরবাড়ির লোকজন কনের সঙ্গে পাঠানো পান-সুপারি দিয়ে নতুন বউ দেখতে আসা অতিথি ও পাড়া-প্রতিবেশীদের আপ্যায়ন করত। কিছু পান-সুপারি প্রতিবেশীদের বাড়িতে বিতরণও করা হতো।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ এপ্রিল ২০১৮/তারা

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

রোনালদোর পাশে জুভেন্টাস সভাপতি

২০১৮-০৯-২১ ৪:৪২:১২ পিএম

বিরাটের বড় পর্দায় অভিষেক?

২০১৮-০৯-২১ ৪:৩৩:১৪ পিএম

‘ইন্দ্র দা খুবই হেল্পফুল’

২০১৮-০৯-২১ ৩:৪৬:৫৪ পিএম