হেনরি ডুনান্টের জন্মদিন ও রেডক্রস দিবস

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৮ ১১:০৬:৪০ এএম
শাহ মতিন টিপু | রাইজিংবিডি.কম

শাহ মতিন টিপু : যুদ্ধাহতের সেবায় ১৮৬৩ সালে যিনি রেডক্রসের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে অমর হয়ে আছেন, মানবদরদী জিন হেনরি ডুনান্ট এর জন্মদিন আজ।

তিনি ১৮২৮ সালে ৮ মে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।১৯১০ সালের ৩০ অক্টোবর ৮৩ বছর বয়সে সুইজারল্যান্ডের নিভৃত পল্লী হেইডেনে মৃত্যুবরণ করেন। ছোট বড় অনেক সৃষ্টির মধ্যে রেডক্রস প্রতিষ্ঠা তার সবচেয়ে বড় অবদান, এই জন্য তিনি ১৯০১ সালে সর্বপ্রথম শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত হন। প্রতিবছর তার জন্মদিন ৮ মে কে ‘বিশ্ব রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

ইতালির সালফারিনোর মাঠে ১৮৫৯ সালে সংঘটিত ফ্রান্স-অস্ট্রিয়া যুদ্ধের পর সেখানে পড়েছিল কমবেশি ৪০ হাজার নিহত-আহত উভয়পক্ষের সৈন্য- যাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ সেখানে ছিল না। জিন হেনরি ডুনান্ট ওই সময় সে স্থান পার হচ্ছিলেন। যুদ্ধমাঠের মর্মান্তিক দৃশ্য তার হৃদয় স্পর্শ করে। তিনি আশপাশের গ্রামবাসীদের নিয়ে উভয়পক্ষের আহত সৈন্যদের সেবায় নিয়োজিত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পানি ও হাল্কা খাবারের ব্যবস্থা করেন। এই সেবা পেয়ে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা পায় হাজার হাজার সৈন্য। ‘ডুনান্ট’ সৈন্যদের যার যার দেশে পাঠিয়ে দেন। এ কাজ করে বিরল আনন্দ কুড়ান ডুনান্ট। তিনি ভাবতে থাকেন এমনিতর যুদ্ধ ভবিষ্যতেও দেশে দেশে আরও হবে। তাই এমন একটি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার, যার দায়িত্বই হবে যুদ্ধাহত সৈন্যদের নিরপেক্ষভাবে সেবাদান।

সেদিনের সে ভাবনারই ফসল রেডক্রস বা রেডক্রিসেন্ট। ১৬টি দেশ নিয়ে রেডক্রস তার যাত্রা শুরু করলেও রেডক্রস রেড ক্রিসেন্টের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮৮ এবং বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী মানবতাবাদী প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৯৮ মিলিয়ন সমান সংখ্যক নিবেদিত নারী-পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক সম্পৃক্ত রয়েছে রেডক্রসের সঙ্গে। রেডক্রসও তার সফল মানবিক কর্মকান্ডের জন্য ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে।

রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট আজকের বিশ্বে অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। যুদ্ধ কবলিত এলাকার বিপন্নরা মুমূর্ষকালে যাকে প্রথম পাশে পান তিনি এই প্রতিষ্ঠানেরই একজন কর্মী। যুদ্ধাহতদের স্বজনদের পরম চাওয়া, উদ্ধারকার্যে কখন ছুটে যাবে রেডক্রস বা রেডক্রিসেন্ট টিম। বিশ্বব্যাপী রেড ক্রস আন্দোলনের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়েই চলতি বছর ‘বিশ্ব রেড ক্রস রেড ও ক্রিসেন্ট দিবস’ উদযাপনের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারিত হয়েছে ‘সবর্ত্র, সবার জন্য’।

দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন বিশ্বব্যাপী বিপন্ন মানুষের পাশে থেকে মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তা প্রদান করে এ প্রতিষ্ঠান যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা খুবই প্রশংসনীয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ১৯৭১ সাল থেকেই বাংলাদেশে বিপন্ন মানুষের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করছে। এই সোসাইটি বাংলাদেশে জরুরি ত্রাণ, দুর্যোগে সাড়াদান প্রস্তুতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, রক্তদান কর্মসূচি, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা অর্জন, জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন, সহশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আজ দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। সকাল ১০ টা থেকে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাপাতাল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এবং সদস্য এবং তহবিল সংগ্রহ অভিযান চলছে। দুপুর ১২টায় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ করা হবে।

বিকাল ৪ টায় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, রেড ক্রিসেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মাননীয় খন্দকার মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার।

এছাড়াও বাংলাদেশের সকল জেলা সদরে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সংশ্লিষ্ট জেলা ইউনিটসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস উদযাপন করছে।

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ মে ২০১৮/টিপু

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শাড়ির বন্দনায় কঙ্গনা

২০১৮-১২-১২ ৫:০০:৫৪ পিএম

‘আপন মন’

২০১৮-১২-১২ ৪:৩১:২৩ পিএম