মওলানা আকরম খাঁ প্রয়াণের ৫০ বছর

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৮ ১:০৫:২৬ পিএম
শাহ মতিন টিপু | রাইজিংবিডি.কম

শাহ মতিন টিপু: মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ বাঙালি মুসলিম জাগরণের এক অবিস্মরণীয় যুগপুরুষ। বঙ্গীয় মুসলমানের আধুনিক সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তিনি অবিস্মরণীয়।

এই কিংবদন্তি যুগপুরুষের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬৮ সালের ১৮ আগস্ট তিনি ঢাকার বংশালে ১০১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।তার জন্ম ১৮৬৮ সালে ৭ জুন পশ্চিম বঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বশিরহাটে। ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন এবং ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক সংবাদপত্র দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৩৬ সালের অক্টোবরে মুসলিম সমাজকে জাগাবার জন্যই এই পত্রিকার প্রকাশ। বাঙালি মুসলমানের ভাষা হিসেবে বাংলার পক্ষে মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর ভূমিকা তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের প্রেক্ষিতে ছিল ঐতিহাসিক। শুধু বঙ্গীয় মুসলিম রেনেসাঁ নয় বৃহত্তর বাঙালি চেতনা বিকাশেও তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তার রচিত মোস্তফা-চরিত যেমন মহানবী (স.)-এর বস্তুনিষ্ঠ জীবনী তেমনি তার রচিত মোসলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস গ্রন্থটি আমাদের সামাজিক ইতিহাস প্রণয়নে একটি অন্যতম আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

আকরম খাঁ সম্পাদিত মোহাম্মদী, আজাদ ইত্যাদি সংবাদপত্রকে নিয়ে আজকের সাংবাদিকদের যেমন অনুপুঙ্খ গবেষণা করা প্রয়োজন তেমনি তার স্মৃতি রক্ষার্থে তার নামে স্মারক বক্তৃতাও চালুও জরুরী। এছাড়া তার দার্শনিক প্রজ্ঞামণ্ডিত রচনাবলির একটি নির্বাচিত সংকলন প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি যার মাধ্যমে উত্তর প্রজন্ম এই বিশিষ্ট বঙ্গীয় মনীষার চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। বিশিষ্ট অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমিতে এক বক্তব্যে বলেন, ‘বিভাগ পূর্বকালের বৃহৎ বাংলাকে বুঝতে হলে মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁকে অনিবার্যভাবে স্মরণ করতে হবে।’

মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সমাজ-সংস্কারক, ধর্মশাস্ত্রবিদ ও সুপন্ডিত। বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা-আন্দোলনের অন্যতম নেতা, অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতা।

তার সমসাময়িক উল্লেখযোগ্য অনেক মুসলমান খ্যাতিমান লেখক-সাংবাদিক মাসিক, ত্রৈমাসিক, দৈনিক ইত্যাদি পত্রিকা প্রকাশ করলেও সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মওলানা আকরাম খাঁ প্রকাশিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে মুসলিম বাংলা সাংবাদিকতার একটা দীর্ঘস্থায়ী ভীত রচনা করেন। তার প্রকাশিত ‘দৈনিক আজাদ’ ও মাসিক ‘মোহাম্মদী’ বৃটিশ আমলে আত্মপ্রকাশ করে সুদীর্ঘকাল টিকে থাকে। পাকিস্তান আমল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরও কিছুকাল এই পত্রিকা দু’টির অস্তিত্ব বর্তমান ছিল।

মুসলিম বাংলার নবজাগরণে, বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে, সামাজিক সংস্কারে, লেখক সৃষ্টিতে ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় এবং ৫২’র সালের ভাষা-আন্দোলনে দৈনিক আজাদ ও মাসিক মোহাম্মদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মুসলমান সমাজের নবজাগরণ তথা রেনেসাঁর তিনি অন্যতম পথিকৃৎ। মওলানা আকরাম খাঁ রচিত গ্রন্থাদি, বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় রচনা একজন সুপন্ডিত ব্যক্তি, চিন্তাশীল-মননশীল লেখক ও শক্তিমান গদ্যশিল্পীকেই চিনিয়ে দেয়।

১৩২৫ বঙ্গাব্দেই মওলানা আকরাম খাঁ লিখেছিলেন- ‘দুনিয়ায় অনেক রকম অদ্ভুত প্রশ্ন আছে, বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা কি? উর্দু না বাংলা? এই প্রশ্নটা তাহার মধ্যে সর্বাপেক্ষা অদ্ভুত। নারিকেল গাছে নারিকেল ফলিবেনা, বেল?... বঙ্গে মুসলিম ইতিহাসের সূচনা হইতে আজ পর্যন্ত বাংলা ভাষাই তাদের লেখ্য, কথ্য ও মাতৃভাষা রূপে ব্যবহৃত হইয়া আসিতেছে এবং ভবিষ্যতেও মাতৃভাষারূপে ব্যবহৃত হইবে।’ (বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা, মাঘ, ১৩২৫)

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা-আন্দোলনকালে ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং কয়েকজনকে হত্যার প্রতিবাদে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যপদ ত্যাগ করেন।

মওলানা আকরাম খাঁ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা প্রভৃতি থেকে নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার ১৯৮১ সালে তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার (মরনোত্তর) স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ আগস্ট ২০১৮/টিপু

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

কুমুদিনী হাসপাতালে নবজাতক বদল

২০১৮-০৯-১৮ ৮:০৩:২০ পিএম

আবারও বিপুল পরিমাণ ‘খাত’ জব্দ

২০১৮-০৯-১৮ ৭:৪১:৫০ পিএম

মেসিকে বদলে দিয়েছে অধিনায়কত্ব

২০১৮-০৯-১৮ ৭:২৩:১০ পিএম