হলি ফ্যামিলিতে অন্যরকম শিশুর জন্ম

প্রকাশ: ২০১৭-১০-১২ ৮:১৩:১৮ পিএম
আরিফ সাওন | রাইজিংবিডি.কম

আরিফ সাওন : হলি ফ্যামিলতে ভিন্ন রকমের এক শিশুর জন্ম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা জেনেটিক সমস্যা। প্রতি তিন লাখে একজন শিশু এভাবে আক্রান্ত হয়ে জন্মায়। তাই মাতৃত্বকালীন সময়ে অস্বাভাবিক কিছু অনুভব হলে আল্টাসনোগ্রাফি করে গর্ভপাত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।

জানা যায়, জন্মের পর ওই নবজাতককে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের এনআইসিউতে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে নিয়ে যান।

নবজাতকে দেখলে মনে হবে না যে সে আসলেই মানুষ! মনে হতে পারে প্লাস্টিক দিয়ে বানানো একটি ভুতুড়ে পুতুল। তার চোখ দুটো রক্তের দলা। ঠোঁট রক্তাক্ত। হাত-পায়ের আঙ্গুলগুলো জোড়া লাগানোর মতো। শরীরের চামড়ার শেফ হচ্ছে, ডায়মন্ড পাতের মতো। শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত, পুরু গভীর ক্ষতের মতো। শুকনো মৌসুমে যেমন মাটি ফেটে চৌচির হয়, তেমন নবজাতকের শরীরও ফেটে চৌরির। শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন চোখের পাতা, কান, মুখ, হাত-পা আক্রান্ত।  

বুধবার বেলা ৪টার দিকে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়েট্রিক সার্জারি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মো. আনিসুজ্জামান ওই নবজাতকের ছবি তার ফেসবুক পেজে আপলোড করেন। এর দুই ঘণ্টা পর আরো তিনটি ছবি আপলোড করেন। এরপর এ বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলা হয় ওই হাসপাতালে এনআইসিইউ বিভাগে।

এনআইসিউতে দায়িত্বরত সিস্টার জানান, এই নবজাতক সিজারের মাধ্যমে বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে জন্মগ্রহণ করে। একটি শিশুর জন্মের জন্য ৩৮ সপ্তাহ হওয়া দরকার। শিশুটির বয়স হয়েছে ৩০ সপ্তাহ।

নবজাতকের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, তাকে তো কিছুই খাওয়ানো যাচ্ছে না। মেডিসিনও দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা তাকে শুধু ২ লিটার অক্সিজেন দিয়ে রেখেছি। পা সামান্য নাড়াচাড়া করছে। নবজাতকের মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। এর চেয়ে বিস্তারিত আমাদের কাছে নেই। বিস্তারিত মায়ের ফাইলে রয়েছে। মায়ের ফাইল দেখলে জানা যাবে।

শিশুটির অবস্থা জানতে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই হাসপাতালের এনআইসিউতে টেলিফোন করলে দায়িত্বরত সিস্টার জানান, দুপুরের দিকে শিশুটিকে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে গেছে। নেওয়ার সময় শিশুটি জীবিত ছিল।

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়েট্রিক সার্জারি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, এভাবে জন্ম নেওয়া শিশুকে বলা হয় collodion baby/Herliquin ichthyosis। তিন লাখ শিশু জন্ম নিলে তার মধ্যে একজন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে জন্মায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মারা গেলেও কয়েকজন জীবিত থাকার রেকর্ড রয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাহনূর ইসলাম বলেন, এটা এক ধরনের স্কিন ডিজিজ। যেটা বাবা এবং মায়ের ক্রোমোজমের ইফেক্টের জন্য হয়। এই শিশুরা মূলত বাঁচে না। এই রোগে আক্রান্ত কিছু শিশু বাঁচলেও তাদের জন্য রেডিওয়েড থেরাপি লাগে।

প্রতিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাতৃত্বকালীন অবস্থায় অস্বাভাবিক কিছু অনুভব হলে আল্টাসনোগ্রাফি করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে যে আল্টাসনোগ্রাফে করা হয় তাতে ধরা পড়লে ‘টার্মিনেশন অব প্রেগনেন্সি’ করে দিতে পারে।

তিনি বলেন, জীবিত নেই এমন কিন্তু নয়। এভাবে জন্ম নেওয়া শিশু বিশ্বে বিভিন্ন দেশে জীবিত থাকারও রেকর্ড রয়েছে। যারা বাবাও হয়েছেন। 

উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, জন্মের প্রথম মাসেই মারা যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সাউথ কারোলিনায় ১৭৫০ সালে প্রথম এই রোগী পাওয়া যায়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭/সাওন/মুশফিক

   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

অধিনায়ক মাশরাফির ৫০

অধিনায়ক মাশরাফির ৫০

২০১৭-১০-২২ ১:৩৯:২৭ পিএম
হাইকোর্টে মিনার চৌধুরীর জামিন

হাইকোর্টে মিনার চৌধুরীর জামিন

২০১৭-১০-২২ ১:৩৫:১২ পিএম
সব রুটে নৌযান চলাচল শুরু

সব রুটে নৌযান চলাচল শুরু

২০১৭-১০-২২ ১:৩০:২৫ পিএম
ঢাকা অ্যাটাক, আশা জাগানিয়া সিনেমা

ঢাকা অ্যাটাক, আশা জাগানিয়া সিনেমা

২০১৭-১০-২২ ১:২২:৩৪ পিএম