‘মাশরাফি-মোসাদ্দেক-নাসির ভাইয়ের উইকেট পেয়ে বেশি ভালো লেগেছে’

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৪ ৫:৩০:০২ পিএম
ইয়াসিন | রাইজিংবিডি.কম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ৮.১-১-৪০-৮। যেকোনো বোলারের জন্য এ যেন এক অরাধ্য বোলিং ফিগার। মনে হতে পারে আলাদিনের সেই জাদুর চেরাগ হয়তো পেয়েছিলেন হাতের মুঠোয়। জিনের কাছে চাওয়া তিনটি ইচ্ছের একটি ছিল এমন বোলিং কীর্তি।

রূপকথার মতো এমন চাওয়া বাস্তব হয়েছে। ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দেখল এমন কীর্তি। বুধবার ফতুল্লায় মুখোমুখি হয়েছিল আবাহনী লিমিটেড ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। গাজী গ্রুপের পেসার ইয়াসিন আরাফাত মিশু বল হাতে একাই পেয়েছেন ৮ উইকেট। তার বোলিং তোপে পুড়েছে আবাহনী। গুটিয়ে যায় মাত্র ১১৩ রানে।

প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৮ উইকেট পাওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের এ পেসার। তার বোলিং তোপে আবাহনীর পাঁচ ব্যাটসম্যান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। শান্ত, মোসাদ্দেক, নাসির, মাশরাফি, মানান শর্মার উইকেট পেয়ে উচ্ছ্বাসিত মিশু। তবে সবথেকে বোলারের মনে ধরেছে মাশরাফির উইকেট।

ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া এ ক্রিকেটার মুখোমুখি হন রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া প্রতিবেদক ইয়াসিন হাসানের। নিজের বোলিং ও গড়া কীর্তি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন…

প্রশ্ন: এর আগে কি এতো ভালো বোলিংয়ের রেকর্ড আছে?
ইয়াসিন আরাফাত মিশু: আমার জাতীয় লিগের অভিষেক ম্যাচে পাঁচ উইকেট আছে। তবে পাঁচ উইকেটের বেশি উইকেটও পেয়েছি একবার। ২০১৫ সালে প্রথম বিভাগে বিকেএসপির হয়ে সাত উইকেট পেয়েছিলাম। এছাড়া ফাস্ট ক্লাসে এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট এবং পরের ইনিংসে দুই উইকেটও ছিল। আট উইকেট তো এবারই প্রথম।

প্রশ্ন: আট উইকেটের মধ্যে সবথেকে ভালো লেগেছে কোন উইকেট পেয়ে?
ইয়াসিন আরাফাত মিশু:  মোটামুটি সবার উইকেট পেতেই ভালো বল করতে হয়েছে। তবে শুরুর দিকে যারা ছিলেন বড় বড় ব্যাটসম্যান তাদের উইকেট পেয়ে বেশি ভালো লাগছে। এর মধ্যে আলাদা করে বললে, সৈকত ভাইয়ের উইকেট পেয়ে ভালো লেগেছে। নাসির ভাই ও মাশরাফি ভাইয়ের উইকেট পেয়েও ভালো লেগেছে।মাশরাফি ভাইয়ের উইকেট পেয়ে তো পাঁচ উইকেট পেয়েছিলাম। ওটাও দারুণ ছিল।

প্রশ্ন: এই উইকেটগুলোতে বাড়তি কি করেছিলেন?
ইয়াসিন আরাফাত মিশু: আমি সেভাবে বাড়তি কিছু করতে চাইনি। বোলিংয়ে আজ বেশ গতি ছিল। স্বাভাবিক বোলিংই করতে চেয়েছি। উইকেট থেকে সাহায্য পেয়েছি। তাতেই সাফল্য এসেছে।

প্রশ্ন: আপনি তো অনেকগুলো ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। হঠাৎ ফিরেই এমন দারুণ বোলিং। এর পিছনে কি জেদ কাজ করেছিল কোনো?
ইয়াসিন আরাফাত মিশু: আসলে আমি একটা ম্যাচ খেলার পর চারটি ম্যাচে বাইরে ছিলাম। টিম কম্বিনেশনের কারণে আর ফেরা হয়নি। আজকে যখন সুযোগ পাই…উইকেট দেখে মনে হয়েছে ভালো কিছু করা সম্ভব।ওই বিশ্বাস থেকেই কাজটা হয়েছে।বাড়তি কোনো জেদ কাজ করেনি।

প্রশ্ন: প্রত্যাশা কি এতো বড়ছিল,  মানে আট উইকেটের?
ইয়াসিন আরাফাত মিশু: না মোটেও এতটা প্রত্যাশা ছিল না।প্রত্যাশার থেকে বেশি উইকেট পেয়েছি। চেষ্টা ছিল ভালো বোলিং করে ২-৩ উইকেট পাওয়া। কিন্তু প্রথম দিকে ৪ উইকেট পাওয়ার পর ক্ষুদা বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ব্রেক নিয়ে ফিরে এসেই পেয়ে যাই ৫ উইকেট। এরপর ভালো করে ফিনিশ করার ইচ্ছা ছিল। সেই চেষ্টাতেই ৮ উইকেট।

প্রশ্ন: হ্যাটট্রিকের সুযোগও তো হয়েছিল…
ইয়াসিন আরাফাত মিশু: দুবার পেয়েছিলাম হ্যাটট্রিকের সুযোগ। কিন্তু একবারও হয়নি।



প্রশ্ন: আফসোস হচ্ছে নাকি হ্যাটট্রিক না পাওয়ায়?

ইয়াসিন আরাফাত মিশু: না না। হ্যাটট্রিক পেয়ে ৩ উইকেট দিয়ে শেষ করলে তো লাভ হতো না। ৫ উইকেট পাওয়া তো মাইলফলক সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে। আর ৮ উইকেট পেয়ে তো রেকর্ডই করেছি। তবে আমার একটা হ্যাটট্রিক আছে।

প্রশ্ন: সেটা কবে?
ইয়াসিন আরাফাত মিশু: অনূর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেটে আমার অভিষেক হয় সিএবির বিপক্ষে। ওই ম্যাচে আমার হ্যাটট্রিক আছে।

প্রশ্ন: আপনার কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আপনাকে নিয়ে কি কি কাজ করছেন?
ইয়াসিন আরাফাত মিশু: সালাউদ্দিন স্যার আমার বেসিক নিয়েই বেশি কাজ করছে। একদম স্বাভাবিক যেই কাজটা সেটাই। স্যার সব সময় বলে শুধু জায়গামতো বোলিং করার জন্য। লাইন এন্ড লেন্থ মেনে বোলিং করার জন্য।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সবথেকে ভালো বোলিংয়ের রেকর্ড আপনার। এটার অনুভূতিটা কেমন?
ইয়াসিন আরাফাত মিশু: আসলে এটা তো সবার জন্যই আনন্দের। আমার কাছে ভালো লাগছে যে আমি ইনজুরির পর ফিরেই এতো ভালো কামব্যাক করতে পারলাম। এজন্য আমার কাছে বেশি ভালো লাগছে। আমার ব্যাক ইনজুরি ছিল। এজন্য দীর্ঘদিন খেলতে পারিনি। বিপিএল এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও মিস করি। এখন সব কিছু ভালো আছে। রিদমে ফিরে এসেছি। আশা করি সামনেও ভালো করতে পারব।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ মার্চ ২০১৮/ইয়াসিন/শামীম

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

পুরুষের মেনোপজ : যা জানা জরুরি

২০১৮-১০-১৭ ৯:০৩:৫৩ পিএম

সুজি দিয়ে তালের বড়া

২০১৮-১০-১৭ ৮:৫১:১৮ পিএম

মনোবিদের ক্লাসে ক্রিকেটাররা…

২০১৮-১০-১৭ ৮:৩৫:৫৩ পিএম