নারী টিম নিয়ে এগিয়ে চলা এক ব্যারিস্টার

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০৮ ৮:৫৪:২৮ এএম
মেহেদী হাসান ডালিম | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব চেম্বারে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও তার টিম

মেহেদী হাসান ডালিম: সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবন থেকে অ্যানেক্স ভবন, অ্যানেক্স ভবন থেকে আইনজীবী ভবনে প্রতিনিয়ত তিনি ছুটে চলেন। তার পেছনে পেছনে মামলার ফাইল হাতে থাকেন সুটেড-বুটেড তিন/চার জন জুনিয়র।  যাদের সবাই নারী। সর্বোচ্চ আদালতে যারা আসেন তাদের প্রত্যেকের চোখেই এ দৃশ্য ধরা পড়ে। বলা হচ্ছে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের কথা। যিনি নিজের চেম্বারে জুনিয়র সহকর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের প্রাধান্য দেন বেশি। জুনিয়র সহকর্মীদের সন্তানের মত আগলে রাখেন। তাসমিয়া প্রধান এন্ড এসোসিয়েটসে কাজ করে আসা তাসফিয়া, মাইশা, অরোরা ও ফারজানার ভাষায় ‘ম্যাম শুধু আমাদের সিনিয়র নন, ম্যাম আমাদেরকে মায়ের মত, অভিভাবকের মত ভালবাসেন। আমাদের টেক কেয়ার করেন, আগলে রাখেন সবসময়। শুধু তাই নয়, কোন মামলায় জিতলে লাভের অংশ জুনিয়রদের মধ্যে ভাগ করে দেন কম বয়সে সিনিয়র হওয়া এই আইনজীবী।

আইন পেশাকে ঘিরে ব্যারিস্টার তাসমিয়ার স্বপ্ন অনেক। বাংলাদেশের প্রথম নারী অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। উচ্চ আদালতে আইন পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে চান এই আইনজীবী। তাসমিয়ার ভাষায়, ‘আমি এইরকম একটা দিনের স্বপ্ন নিয়েই জুনিয়রদের প্রমোট করি যখন আপিল বিভাগের ফাস্ট বেঞ্চ ভর্তি নারী আইনজীবী থাকবেন, সিনিয়র আইনজীবীরা হবেন নারী।’

শৈশব-কৈশোরের সোনালী দিন, জীবনের নানা স্মৃতি, ব্যক্তিগত জীবন, ভবিষ্যত পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই প্রথম গণ্যমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম।

রাইজিংবিডি : যেভাবে বেড়ে উঠেছেন ...

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: আমার জন্ম বগুড়ায় নানার বাড়িতে। বেড়ে উঠা ঢাকায়। আমি মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এস এস সি পাশ করি। তারপর ১৯৯৮ সালে ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করি। তারপর ভূইঁয়া একাডেমী থেকে এ লেভেল করে ইংল্যান্ডে চলে যাই ২০০০ সালে। ওখানে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি পাশ করি। তারপর সিটি ল স্কুলের অধীনে লিংকন্স ইন থেকে বার এট ল পাশ করে দেশে আসি।

আমার বাবা প্রয়াত শফিউল আলম প্রধান জাতীয় গনতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আমার মা রেহেনা প্রধান। উনি লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অধ্যাপক পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। আমার একটা ভাই ইঞ্জিনিয়ার এবং গাজী গ্রুপের মার্কেটিং এর হেড। ভাইয়ের স্ত্রী নাফিসা প্রধান বর্ষা। তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। ব্যবসা দেখাশোনা করেন।

রাইজিংবিডি: আপনি আইন পেশা বেছে নিলেন কেন?

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান : দুটো মেইন কারণ। একটা হচ্ছে আমার দাদা গমির উদ্দিন প্রধান ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের শেষ স্পিকার। আইনজীবী ছিলেন তিনি। দাদার খুব ইচ্ছে ছিল উনার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কাউকে আইনজীবী বানানোর। যে কোন কারণেই হোক তার ছেলে মেয়েরা কেউ আইনজীবী হননি। আমার আইনজীবী হওয়ার এটা একটা কারণ। রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়েছি তাই  আমি অনুভব করতাম রাজনৈতিক পরিবারে একজন আইনজীবী খুবই প্রয়োজন। এই দুটো কারণেই মেইনলি আইন পেশায় আসা।

রাইজিংবিডি: ইংল্যান্ডে কাটানো দিনগুলো ...

ব্যারিস্টার তাসমিয়া: আমি টোটাল ৭ বছর ইংল্যান্ডে ছিলাম। ইংল্যান্ডে ভাল লাগতো ব্রিটিশদের ম্যানার্সগুলো। একটা জিনিস খুব ভাল লাগতো। আমরা ট্রেনে ট্র্যাভেল করতাম তখন দেখতাম বয়ষ্ক মানুষদের দেখলে যারা ইয়াং বসে আছেন তারা উঠে জায়গা করে দিতেন। এটা খুব ভাল লাগতো।

আবার ট্র্যাভেল করার সময় দেখতাম মানুষজন দাঁড়িয়ে আছেন তারপরও হাতের মধ্যে বই পড়ছেন। এই যে পড়ার প্রবণতা এটা খুব শিক্ষণীয়। এটা দেখে বই পড়ার অভ্যাস আমার মধ্যে গড়ে উঠেছে।
 

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও তার টিম
 

রাইজিংবিডি: দেশে এসে আইন পেশার শুরুটা জানতে চাই ...

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: ২০০৭ সালে বার এট ল শেষ করে দেশে আসি। তারপর ড. কাজী আখতার হামিদ স্যারের চেম্বারে জয়েন করি। এক বছর ওই চেম্বারে ছিলাম। উনার কাছে অনেক কাজ শিখেছি। উনার কাছ থেকে সিভিল-ক্রিমিনাল সব শিখেছি। আমার বেসিকটা ওখানে ডেভেলপ করেছি। ড্রাফটিং ওইখানে শিখেছি। এরপর ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের চেম্বারে জয়েন করি। ওইখানে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা কাজ করেছি। তারপর আমি নিজে চেম্বার দিয়ে কাজ শুরু করি। এখনও মাঝে মাঝে সিনিয়র হিসেবে স্যারকে নিয়ে থাকি।

রাইজিংবিডি: হাইকোর্টে শুনানির বিশেষ কোন স্মৃতি …

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: আমি আইন পেশায় আসার পরে আমার বাবার একটা কেস আমি নিজেই করেছিলাম। এটা আমার ভাল লেগেছে। ৫৪ জন নেতা গ্রেপ্তার হয়েছিল বিরোধী দলের। তার মধ্যে আমার সিনিয়র ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও ছিলেন। অন্যান্য সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ স্যার মুভ করতেন। উনি যেহেতু জেলে ছিলেন। তখন আমি নিজে মুভ করলাম বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি জাকির হোসেনের কোর্টে। ওই বেঞ্চ ৫৩ জনকেই জামিন দেয়নি। শুধু আমি আমার বাবার জন্য বেইল মুভ করেছিলাম এই গ্রাউন্ডে আমার বাবাকে বেইল(জামিন) দিয়েছিল। আদালত বলেছিল ‘আপনি খুব ভাল সাবমিশন করেছেন এবং আপনি আপনার বাবার জন্য করেছেন এই কারণে জামিন দেওয়া হলো। এটা ছিল আমার আইনজীবী হওয়ার একটা সার্থকতা।’

রাইজিংবিডি: আইন পেশায় যাদের অনুসরণ করে থাকেন …

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: আমার সিনিয়র ব্যারিস্টার মওদুদ স্যারের বলার ভঙ্গিটা খুব ভাল লাগে। উনি আস্তে আস্তে বলেন। মওদুদ স্যার যে কথাটি বলতেন কোর্টের সাথে সব সময় বিনয়ী ব্যবহার করবে। মানে কোর্টের সাথে কখনও ঝগড়া করতে হয় না। আমি স্যারের ওই বিষয়টা ফলো করি। সিভিলে এখন কামরুল হক সিদ্দিকীর সাবমিশন খুবই ভাল লাগে। উনি অনেক পড়াশুনা করে সাবমিশন রাখেন। এছাড়া এ জে মোহাম্মদ আলী স্যার, ফিদা এম কামাল স্যারের সাবমিশন খুব ভাল লাগে।

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের সঙ্গে কথা বলছেন রাইজিংবিডির প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম


রাইজিংবিডি: আপনার টিম সম্পর্কে জানতে চাই ...

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: আমার দুটো টিম কাজ করে। একটা চেম্বারে কাজ করে। করপোরেট ড্রাফটিং, লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো এইগুলো চেম্বারে করা হয়। আরেকটা টিম কোর্টে আমাকে সাহায্য করে।

আমার জুনিয়রদের মধ্যে ব্যারিস্টার মায়িশা বার এট ল করে এসেছে। আমার সঙ্গে কাজ করছে। তাসফিয়া খন্দকার  ইংলিশ ল করেছে, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেছে। ফারজানা জালাল ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক থেকে অনার্স ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেছে। অরোরা মোহাম্মদী ইসলামী ইউনিভার্সিটি থেকে ল তে অনার্স মাস্টার্স করেছে। এছাড়া আমার ছেলে জুনিয়রও আছে।

রাইজিংবিডি: জুনিয়র নেওয়ার সময় কোন বিষয়গুলো দেখে থাকেন ?

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: জুনিয়র নেওয়ার ক্ষেত্রে আমি মেয়েদেরকে বেশি প্রমোট করি, প্রায়োরিটি দেই। এক্সপেরিয়েন্স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের প্রতি আগ্রহ কতটুকু- এটা দেখে থাকি। কারণ, আইন পেশাটা সাধনার বিষয়, চর্চার বিষয়। এখানে অনেক সময় দিতে হবে। এই স্পিরিটটা যার মধ্যে আছে জুনিয়র নেওয়ার সময় আমি এটাও দেখি।

রাইজিংবিডি: আইন পেশা থেকে নারীদের ঝরে পড়ার কারণ কি বলে আপনি মনে করেন?

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: আমার মনে হয় কোর্টে ভাল চেম্বার, ভাল সিনিয়র- এটার একটু অভাব রয়েছে। মেয়েদের একমোডেট করার মত যথেষ্ট চেম্বার নেই। মেয়ে সিনিয়র হাইকোর্টে খুব কম। একটা মেয়ে একজন মেয়ে সিনিয়র পেলে তাদের সমস্যাগুলো সহজে বলতে পারে। মেয়ে সিনিয়র হলে সহজভাবে কাজ করতে পারে। আবার অনেক চেম্বারে দেখা যায় জুনিয়র যারা আসেন তাদেরকে দীর্ঘদিন পেমেন্ট করা হয় না। আইন পেশায় যতই ডেডিকেশন থাকুক দিনের পর দিন কোন টাকা ছাড়া কাজ করতে হলে তখন বাধ্য হয়ে অনেকেই ঝরে পরে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক-পারিবারিক কারণে অনেক মেয়ে শেষ পর্যন্ত আইন পেশায় টিকে থাকতে পারেন না।

স্বামী এস বি এ সিদ্দিকীর সাথে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান


রাইজিংবিডি: নারীদের উৎসাহিত করার জন্য কি করা যেতে পারে ?

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: আমার কর্মজীবনেই দেখেছি বিচারপতি শামীম হাসনাইন যখন বেইল মেটারগুলো শুনতেন মেয়েদের জন্য আলাদা একটা দিন রাখতেন। অনেক সময় ক্রিমিনাল কোর্টগুলোতে মেয়েদের ঢুকতে প্রবলেম হয়। উনি এই জন্য মেয়েদের জন্য আলাদা একটা দিন রাখতেন। এক দিন সিনিয়রদের, একদিন জুনিয়রদের একদিন মেয়ে লইয়ারদের। এটা কিন্তু একটা ভাল দিক ছিল।

এছাড়া জুনিয়রদেরকে উৎসাহিত করার জন্য শুরুর দিকে অন্তত যাতায়াত ভাড়াটা দেওয়া উচিত। আমি মনে করি জুনিয়রের আসা যাওয়ার খরচ ও খাওয়ার টাকা দেওয়া সিনিয়রের দায়িত্ব। এটুকু করলে আইন পেশায় অনেক জুনিয়র টিকে যাবে। ভাল জুনিয়র তৈরি করতে চাইলে অর্থনৈতিক বিষয়টা সিনিয়রদেরকে দেখতেই হবে। জুনিয়রদেরকে ড্রাফটিং ও হেয়ারিং এর সুযোগ দিতে হবে।

রাইজিংবিডি: আপনাদের প্রেম, বিয়ে সম্পর্কে জানতে চাই ...

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান : আমি ভূইয়া কম্পিউটারে কম্পিউটার শিখতাম। সে সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন আমার হাজবেন্ড এস বি এ সিদ্দিকী। সেখানে থেকেই ধীরে ধীরে তার সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি বাবাকে আমার পছন্দের কথা জানালাম। বাবা ছিলেন খুব ফেন্ড্রলি। বাবা বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। তবে আমাদের ফ্যামিলিতে ডিসিশন মেকার ছিলেন আমার দাদী। উনি যেটা বলবেন সেটাই। এদিকে আমার চাচারা ভাবছিলেন যে, মেয়ে ব্যারিস্টারি পড়তে যাচ্ছে, তাড়াতাড়ি বিয়ে দিলে পড়াটা শেষ হবে তো? এই নিয়ে চিন্তা ছিলো তাদের। আমি জানতাম যে, আমার দাদী যে ডিসিশন দেবেন আমার বাবা-চাচারা তা মেনে নেবেন। একদিন ওকে দাদীর কাছে নিয়ে গেলাম ও পরিচয় করিয়ে দিলাম। ওর ব্যবহারে আমার দাদী খুব খুশি হলেন। দাদী বললেন যে, তাসমিয়ার ব্যারিস্টারি যেন কমপ্লিট হয়- এই কথা তোমাকে দিতে হবে। আমার হাজবেন্ড বললেন, আমি কথা দিচ্ছি তাসমিয়া ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফিরবে। তখন আমার দাদী রাজি হলেন আর সবাই রাজি হয়ে গেল। ২০০১ সালে বিয়ে পড়ানো হল।

আমাদের প্রথম বাচ্চা সুমাইরা সিদ্দিকীর জন্ম ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডে। ২০০৯ সালে এসে আমার জমজ বাচ্চা হয়।  ওদের নাম হল জারা সিদ্দিকী, জাইমা সিদ্দিকী।

রাইজিংবিডি: আপনার এই পর্যায়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান …

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: আমার জীবনে আমার বাবার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এছাড়া আমার মা আমার জন্য খুব কষ্ট করেছেন। বিয়ের পরে আমার হাজবেন্ডের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এখন আমরা একজন আরেকজনকে সহযোগিতা করি। অনেক সময় আমার কোর্ট থেকে আসতে দেরি হলেও বাচ্চাদের অনেক বিষয়ে সেই সহযোগিতা করে। আবার তার ব্যবসায়িক কাজে আইনগত পরামর্শ দিতে হলে সেখানে আমি সহযোগিতা করি। আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে চাই।

রাইজিংবিডি: আইন পেশায় কতদূর যেতে চান …

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: আমার স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম নারী অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়া। জাস্টিস বাংলাদেশে অনেক মেয়ে হয়েছেন, অনেক জায়গায় গিয়েছেন মেয়েরা। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল কখনও মেয়েরা হননি। আইন পেশা তো একটা সাধনার বিষয়। একদিনে কোন কিছু অর্জন করা সম্ভব না। আমিও সাধনা করে যেতে চাই।

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও তার টিম


রাইজিংবিডি: সমাজের অবহেলিত মানুষের জন্য আপনার পরিকল্পনা …

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: প্রতিমাসে আমাদের চেম্বার থেকে কিছু মামলা ফ্রিতে করার পরিকল্পনা আছে। এটা আমার চেম্বারের সবাইকে বলে দিয়েছি। অবহেলিত মানুষের জন্য একটা ফান্ডও করবো; যেটা দিয়ে আমাদের এলাকার বা অন্য এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য আইনি সহায়তা দেব।

রাইজিংবিডি: এবার একটা ভিন্ন প্রশ্ন। আপনার সমসাময়িক আইনজীবীদের জুনিয়র নেই বললেই চলে কিন্তু আপনি সবসময় তিন/চার জন জুনিয়র নিয়ে মুভ করেন। এটা কেমন লাগে …

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: প্রথমত হচ্ছে হাইকোর্টে নারী সিনিয়রদের সংখ্যা খুবই কম। আমি জুনিয়রদের সুযোগ দিতে চাই। এই কারণে জুনিয়রদের সব সময় সাথে রাখি।

অনেকে ভাবেন টাকার ভাগ জুনিয়রদের দেব কেন। অনেক সিনিয়র লইয়ারকে দেখা যায়, ছোট ছোট মেনশনও তারা করেন। টাকার ভাগ না দেওয়ার প্রবণতার কারণেও  অনেকে জুনিয়র নাও রাখতে পারেন। কিন্তু আমি যেটা করি, আমার চেম্বারে ফিস সাধারণত সবার মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। দেখা গেল, একটা বড় কেস করলাম সেখানে সবার একটা শেয়ার থাকলো। একটা বড় কেস জিতেছি ওরা কিছুই পেল না আমি সব টাকা নিয়ে চলে গেলাম এই বিষয়টা ওদেরকে নিরুৎসাহিত করবে।

রাইজিংবিডি: আইন পেশায় আসতে নতুনদের জন্য পরামর্শ …

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: প্রথম কথাটা হচ্ছে প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে, পরিশ্রম তো করতেই হবে। ধৈর্য রাখতে হবে, লেগে থাকতে হবে। আমার জুনিয়রদের মধ্যে যারা এনরোল হয়েছে তাদেরকে বলি সাহস করে কোর্টে দাঁড়াও। বকা খেতে খেতেই অনেক কিছু শিখতে পারবে।

রাইজিংবিডি: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে এবং আপনার টিমকে ধন্যবাদ ...

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান: আপনাকে এবং রাইজিংবিডির সকল পাঠককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ এপ্রিল ২০১৮/মেহেদী/শাহনেওয়াজ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সিনেমায় অভিষেক হচ্ছে কোহলির

২০১৮-০৯-২১ ৮:০২:১৯ পিএম

১৬ হাজার টাকা মজুরি ঘোষণার দাবি

২০১৮-০৯-২১ ৬:১৮:০৭ পিএম