ভুয়া দুদক কর্মকর্তা হতে সাবধান

প্রকাশ: ২০১৯-০৩-১৪ ৩:৪৫:৫৫ পিএম
এম এ রহমান | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে টেলিফোনে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে নিকটজন পরিচয়ে বিভিন্ন কৌশলে ভয় দেখিয়ে সরকারি-বেসকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ ধরণের বেশ কিছু ঘটনার প্রমাণ পাওয়ার পর সর্ব সাধারণকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দুদক।

একইসঙ্গে দুদক পরিচয়ে প্রতারণা থেকে প্রতিকার পেতে  তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের পরিচালক (গোয়েন্দা) মীর মোঃ জয়নুল আবেদীন শিবলী ( মোবাইল ০১৭১১-৬৪৪৬৭৫) অথবা  উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য ( মোবাইল নং-০১৭১৬-৪৬৩২৭৬) এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতারক চক্র থেকে সাবধান হওয়ার পাশাপাশি প্রতিকারের বিষয়টি জানিয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘অনেক প্রতারক রয়েছেন যারা কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারি এমনকি কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থায় বিভিন্ন অনৈতিক তদবির করছেন। প্রতারকচক্র কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের কর্মকর্তাদের আত্মীয়, বন্ধু কিংবা অন্য কোনো স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক তদবির করছেন। কমিশন এ জাতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধে বহুমাত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, কমিশনের নিজস্ব গোয়েন্দা উৎসসহ বিভিন্ন উৎস হতে কমিশন অবহিত হয়েছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে একাধিক প্রতারক বা প্রতারকচক্র কমিশনের মামলা অথবা কমিশনের কাল্পনিক মামলা অথবা কাল্পনিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি অথবা অভিযুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে অনৈতিক অর্থ দাবি করছে। কমিশন এ জাতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

দুদক জানায়, কমিশনের গোয়েন্দা তৎপরতায় ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’র রাজ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে থেকে প্রতারক ফয়সল রানা ওরফে মোঃ ফয়েজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গত ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর  ৩০ নয়াপল্টন, ভিআইপি রোডে ‘গোল্ডেন প্লেট রেস্টুরেন্ট’ এলাকা থেকে দুদক কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী ভুয়া দুদক কর্মকর্তা হাসান মুন্না ওরফে রফিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এছাড়া গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-২ এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল (এনটিএমসি) এর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আরেক ভুয়া দুদক কর্মকর্তা নাজমা, যার প্রকৃত নাম রাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার ও মামলা করা হয়।

একইভাবে ২ ফেব্রুয়ারি, ভুয়া দুদক কর্মকর্তা কথিত সিরাজুল ইসলাম ওরফে হাজী জহিরুল হুদা ওরফে প্রশান্ত ওরফে সুশান্ত ওরফে মনিরুজ্জামান মিয়া ওরফে শহিদুল ইসলাম, যার প্রকৃত নাম আনিসুর রহমান বাবুল, তাকে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দুদক আরো জানায়, প্রতারকদের আইন-আমলে আনা একটি জটিল প্রক্রিয়া যা কমিশন নিরলসভাবে পরিচালনা করছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কারণ, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুসারে কোনো একক ব্যক্তির অভিপ্রায় অনুসারে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যেমন কোনো সুযোগ নেই, তেমনি অভিযুক্ত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া কমিশনের কর্মকর্তাদের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত বিষয়ে শুধু পত্রের মাধ্যমেই যোগাযোগের নির্দেশনা রয়েছে, টেলিফোন বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নয়। এ প্রেক্ষাপটে যদি কোনো ব্যক্তি কমিশনের কর্মকর্তা কিংবা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে টেলিফোন করে বা ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে কমিশনের কর্মকর্তা বা তাদের স্বজন পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কোনো বিষয়ে তদবির করে তাহলে ওপরের মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ মার্চ ২০১৯/এম এ রহমান/শাহনেওয়াজ

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে

২০১৯-০৩-২৩ ৭:০৬:৪২ পিএম

বিকেএসপির দ্বিতীয় জয়

২০১৯-০৩-২৩ ৬:৫৭:০৪ পিএম

আনোয়ারুল স্মরণে ডিআরইউতে শোক বই

২০১৯-০৩-২৩ ৬:১২:৫৯ পিএম