পুরুষের জন্য ভালোবাসা দিবসে ব্যতিক্রমী কিছু উপহার

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৩ ৮:২৩:৫৭ এএম
আফরোজা জাহান | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

আফরোজা জাহান : ভালোবাসা দিবস নিয়ে তর্কের শেষ নেই। তবুও ভালোবাসায় মত্ত মানুষ এই দিনে আরো বিশেষ ভাবে প্রিয় মানুষকে বুঝিয়ে দিতে চায়, সে কতটা আপন, কতটা প্রিয়। তাই সকল তর্ককে উপেক্ষা করে ভালোবাসা দিবসকে উপলক্ষ্য করে মানুষ সাজিয়ে রাখে নানা পরিকল্পনা। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, উপহার দেওয়ার রীতি।

নারীদের উপহার হিসেবে কি দেওয়া যায়, সাধারণত তা নিয়ে পুরুষদের তেমন মাথা ঘামাতে হয় না। তাদের জন্য অনেক উপহারই আছে যা পেলে নারীরা অনেক খুশি হয়ে যায়। সমস্যা হয় পুরুষের জন্য উপহার বাছাই করার ক্ষেত্রে। অনেক নারীই তা নিয়ে হিমশিম খান। তাই আজকের আয়োজন ভালোবাসা দিবসে স্বামী বা প্রেমিকের জন্য ব্যতিক্রম কিন্তু মানানসই কিছু উপহার নিয়ে।

* ক্যালেন্ডার : বেশির ভাগ প্রেমিকা বা স্ত্রীর একটা সাধারণ অভিযোগ তার ভালোবাসার মানুষটা ‘বিশেষ দিন’ গুলো ভুলে যায়। কখনো বিবাহ বার্ষিকী, জন্ম দিবস কখনোবা প্রথম দেখা হবার দিন, সবই যেন তারা ভুলে যায়। আর সেজন্য ভালোবাসার ঝকঝকে আকাশে অভিমানের মেঘ জমে কালো হয়ে যায় প্রিয়ার মন সেই সব বিশেষ দিনে। তবুও যেন তাদের ভাবান্তর নেই। তাই শুনতে অদ্ভুত লাগলেও স্বামী বা প্রেমিককে দিতে পারেন ক্যালেন্ডার। দিনতারিখ দেখার সাধারণ  ক্যালেন্ডারকেও করে তুলতে পারেন অসাধারণ।

কিভাবে তাই তো ভাবছেন? প্রিয়জনের সঙ্গে তোলা নানা ছবি দিয়ে তৈরি করুন ক্যালেন্ডার। সেই সঙ্গে বিশেষ দিনটি যেন চোখে পড়ে তার জন্য সেই দিনকে আকর্ষণীয় ভাবে ক্যালেন্ডারে উপস্থাপন করতে পারেন।

কম্পিউটারে থাকা ছবি দিয়ে নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন অসাধারণ স্মৃতিমাখা ক্যালেন্ডার। নিজে না পারলেও যেকোনো কম্পিউটারের দোকান থেকে করিয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে পার্সোনাল ছবি যেন পার্সোনাল-ই থাকে, দোকানের কম্পিউটারে সেভ না করে রাখে সেই দিকেও খেয়াল রাখুন। ভালোবাসার প্রকাশ হোক নিরাপদ ভাবেই।

* সুচিকর্ম বা হ্যান্ড পেইন্ট : আগের দিনে মানুষ তার প্রিয়জনকে রুমালে, পাঞ্জাবিতে নানা সুচিকর্ম করে উপহার দিতো। অনেক সময় রুমালে লিখাও থাকতো, ভুলো না আমায়, ভালোবাসি, এইসব নানা কিছু। এসবের এখন চল নেই। কিন্তু তবুও আপনি যদি সুচিকর্ম পারেন তাহলে প্রিয়জনের পাঞ্জাবি বা ফতুয়াতে বুকের কাছে, কলারে বা হাতায় সুচিকর্ম করে দিতে পারেন। ইচ্ছা করলে বালিশের কভারেও করে দিতে পারেন। এতে করে আপনার ভালোবাসার ছোঁয়ায় তার ঘুমটাও নিশ্চয়ই খুব ভালো হবে।

যারা ভালো ছবি আঁকতে পারেন, তারা হ্যান্ডপেইন্ট করে দিতে পারেন পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টি-শার্ট, ক্যাপ, এমনকি সে যদি বাইক চালায় তাহলে তার হেলমেটে। শুধু আপনার হাতের ছোঁয়া নয়, এর মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছে প্রকাশ পাবে আপনার নান্দনিকতাও।

* বিশেষ উপহার : খুব কম পুরুষই আছে যারা নিজের প্রতি যত্নশীল। আবার অনেকেই আছে স্ত্রী ও প্রেমিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পছন্দ করেন ইচ্ছে করেই। আর অন্যদিকে তার স্বাস্থ্য থেকে জীবন, সুস্থতা ও সুরক্ষা নিয়ে সঙ্গী থাকে চিন্তিত। সেই চিন্তা আর ভালোবাসা থেকে প্রিয়জনকে দিতে পারেন কিছু উপহার। যেমন-

সারাদিন ক্লাস, সেমিনার, আড্ডা বা অফিস এর কাজে প্রেমিক বা প্রিয় মানুষটাকে অনেক দৌঁড়াতে হয়। কোথায় কি খায় অনেক সময় তারও ঠিক থাকে না। তাই দিতে পারেন পানির বোতল থেকে শুরু করে খাবার নেওয়ার সুন্দর বক্স। ইচ্ছা করলে এর সঙ্গে এসব বহন করার ব্যাগ ও দিতে পারেন।

এছাড়াও প্রিয় মানুষটি যদি বাইক চালায় তাহলে দিতে পারেন নতুন হেলমেট। সাইকেল চালালে নিরাপত্তার জন্য দিতে পারেন হেলমেট ও হাতের গ্লাভস।

জীবন অনেক শান্তিময় হয়ে উঠে তখনই যখন প্রিয়জন থাকে নিরাপদ। তাই এসব উপহার তার সুরক্ষার পাশাপাশি আপনি তার জন্য কত ভাবেন সেই অনুভূতিও প্রকাশ করে।

* সঞ্চয়ের ব্যবস্থা : অনেক সঙ্গীরই অভিযোগ তার স্বামী বা প্রেমিক সঞ্চয়ী না। টাকা জমাতে পারে না। সঞ্চয় করো বলার পরও এখনো সঞ্চয়ী হতে পারেনি। এমন স্বামী বা প্রেমিককে সঙ্গে নিয়েই খুলে দিন সেভিংস অ্যাকাউন্ট। নয়তো কিনে দিন ছোট মাটির ব্যাংক। অল্প অল্প করে জমাতে শিখুক। আর সঞ্চয়ী না হলে জীবনের যেকোনো সময় কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন, এটা তাকে বুঝান। টাকা ধার দেওয়ার মানুষ আছে বলে অনেকেই সঞ্চয়ী হতে চায় না, এটা অনেক বড় বোকামি। তাই এবারের ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে বেহিসাবী জীবন থেকে গোছানো জীবনে নিয়ে আসুন। আর এটাই হোক ভালোবাসা দিবসের উপহার।

* আপনার উপস্থিতি, আপনার স্পর্শ :  নারীরা সংসারে ঢুকে গেলে শ্বশুরবাড়ির সকলের মন রক্ষা করা, সংসারের কাজ, সন্তানের লালন পালনের চাপে অনেক সময় স্বামীকে সময় দিতে পারে না। সংসার, সন্তান করে করেই তারা ব্যস্ত থাকে ২৪ ঘণ্টা। নিজের জীবন আছে এটা তো ভুলেই যায় সেই সঙ্গে বিশেষ নজর স্বামীকে দেওয়ার কথাও অনেকেই ভুলে যায়। এর ফলেই স্বামীর অন্য দিকে আকর্ষণসহ নানা বদ অভ্যাস গড়ে উঠে। তাই স্বামীকে সময় দিন, উপস্থিত থাকুন তার পাশে। যখনই সময় হয়, আর কিছু না হোক, তার সঙ্গে প্রতিদিন একটু সময় সংসারের নানা ঝামেলার কথা বাদ দিয়ে অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলুন। সংসারের কাজের ফাঁকে তার  হাত ছুঁয়ে দেওয়া বা মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া এমন ছোট ছোট স্পর্শগুলোই মানুষকে নতুন করে প্রাণ দেয়। তাই এবারের ভালোবাসা দিবসে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা হোক, স্বামীকে কাজের ফাঁকে একটু সময় দেওয়া। আপনার এই প্রতিজ্ঞাই প্রতিটা সাধারণ দিনকেই করে তুলবে ভালোবাসাময়। সম্পর্কটা হবে আরো সুন্দর ও মজবুত।

উপহার যাই হোক, যদি সেটা ফুলের কোনো পাঁপড়িতে লিখা বহুবার বলা ভালোবাসি শব্দটাও হয় তবুও অনেক অসাধারণ হতে পারে যদি তা আপনি তাকে মন থেকে, ভালোবেসে দেন। আর উপহারের সঙ্গে কখনো যেটা দিতে ভুলবেন না, তা হচ্ছে হাসি। একজন পুরুষের কাছে তার স্ত্রী বা প্রেমিকার হাসির চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই। সত্যি যদি সেই পুরুষ আপনাকে ভালোবাসে, অথচ উপহার দিতে না পারেন তাহলে তার সামনে দাঁড়িয়ে যান মুখে একচিলতে হাসি নিয়ে। আর দেখুন চমক।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/ফিরোজ

   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

সপ্তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

সপ্তম রোজার সাহরি ও ইফতার সময়

২০১৮-০৫-২৩ ৯:৫৫:৫০ পিএম
খসে পড়ল আরেকটি ধ্রুবতারা

খসে পড়ল আরেকটি ধ্রুবতারা

২০১৮-০৫-২৩ ৯:৫০:০০ পিএম