মা দিবসে ১৩ তথ্য

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৩ ৯:২১:২১ এএম
মাহমুদুল হাসান আসিফ | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

মাহমুদুল হাসান আসিফ : মে মাসের দ্বিতীয় রোববার, মায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে সারা বিশ্বে পালন করা হয় ‘মাদার্স ডে’ বা ‘মা দিবস’। আজ মা দিবস উপলক্ষে চলুন জেনে নেওয়া যাক, অজানা ১৩ তথ্য।

১. দিবসটির প্রবর্তক ছিলেন একজন মা

মা দিবস প্রবর্তনের শুরুটা হয়েছিল একজন মায়ের মাধ্যমেই। ১৮৬০ সালের দিকে অ্যান রিভস জার্ভিস আমেরিকার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে মায়েদের বন্ধুত্ব দিবসের আয়োজন করেন। ১৩ জন সন্তানের মা জার্ভিস ছিলেন একজন সমাজকর্মী এবং তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য সামনে রেখেই কাজটি করেন। আমেরিকাতে গৃহযুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ইউনিয়ন সৈন্য এবং মিত্রবাহিনীর মধ্যে বেশ শত্রুভাবাপন্ন অবস্থা বজায় ছিল; এমনকি তাদের প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজনদের মধ্যেও এরকম মনোভাব বিরাজমান ছিল। জার্ভিস আশাবাদী ছিলেন বিশেষ এই দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে তাদের মধ্যকার এই শত্রুতা দূর হবে। এভাবেই জার্ভিস মা দিবস প্রবর্তনে মূখ্য ভূমিকা রাখেন।

২. জার্ভিসে মেয়ে ‘মা দিবস’ জাতীয়করণ চেয়েছিলেন

১৯০৫ সালে অ্যান রিভস জার্ভিসের মৃত্যুর পর তার মেয়ে আনা এম. জার্ভিস দিবসটির জাতীয়করণ করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালান। আনার কোনো সন্তান না থাওলেও বলা যেতে পারে যে, মা দিবসই তার সন্তান। একটা সময় দিবসটির বাণিজ্যিকীকরণ হয়ে যায় এবং আনা এর ঘোরবিরোধী ছিলেন। তিনি বেশ কয়েকবছর ধরে এটা নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান। আনা বলে গেছেন, ‘আমেরিকার জনগণ মা দিবসকে যদি ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারেন তাহলে হয়তো মা দিবস একদিন বিশাল বাণিজ্যে পরিণত হবে এবং আমরা দিবসটির মাহাত্ম্য ভুলে যাব।’

৩. প্রেসিডেন্ট উইলসন দিনটিকে ঘোষণা করেন ছুটির দিন হিসেবে

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন তার মাকে খুব ভালোবাসতেন। তার মায়ের মৃত্যুর ২৬ বছর পর ১৯১৪ সালে তিনি দিবসটিকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। প্রেসিডেন্ট উইলসন তার স্ত্রীকে লেখা একটি চিঠিতে লেখেন, ‘আমার মনে আছে কিভাবে আমি আমার মাকে জড়িয়ে ধরতাম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নারীত্বের স্নেহ-ভালোবাসা আমার হৃদয়ে প্রবেশ করতো।’

৪. ফ্রান্সে একসময় মায়েদের দেওয়া হতো মেডেল

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্স পরাজিত হয় এবং তাদের মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ মারা যায়। ফ্রেঞ্চরা তাদের দেশকে আবার নতুন করে গড়ে তোলার জন্য মরিয়া হয়ে যায়। এ কারণে ১৯২০ সালে ফ্রান্সের সরকার মায়েদের মেডেল দেওয়ার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন। যেসব মায়েদের ৫ সন্তান তারা ব্রোঞ্জ, যেসব মায়েদের ৮ সন্তান তারা রুপা এবং ১০টি বা তার বেশি সন্তান থাকলে তাদের সোনার মেডেল দেওয়া হয়।

৫. মা দিবসের বড় উৎসব মেক্সিকোতে

মেক্সিকোতে মা দিবস হচ্ছে অন্যতম বড় একটি উৎসব। মেক্সিকোর প্রতিটি আনাচে কানাচে দিবসটি খুব ধুমধাম করে পালন করা হয়। সামাজিক প্রথা হওয়ার কারণে এবং চাহিদা বেশি হওয়াতে অন্তত একমাস আগে ব্যান্ডদল ভাড়া করে রেখে মা দিবসের দিন ‘লাস মানানিতাস’ নামক বিখ্যাত গান পরিবেশনের মাধ্যমে মায়ের ঘুম ভাঙানো হয়।

৬. খাবারের দোকানে ভিড়

মা দিবসে মায়ের সঙ্গে খাবার খাওয়ার জন্য অনেকে বিশেষ কিছু রেস্টুরেন্টে পাড়ি জমান যা বছরের অন্যান্য দিনে সাধারণত করা হয় না। আমেরিকাতে প্রায় ৯২ মিলিয়ন লোকজন মা দিবসে মায়ের সঙ্গে খাবার খাওয়ার জন্য রেস্টুরেন্টে ভিড় করেন।

* ফোনালাপ

মায়ের কাছ থেকে যারা দূরে থাকেন তারা অনেকেই মা দিবসে ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। সে কারণে এই দিনটিতে সারাবিশ্বে বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় ফোনের নেটওয়ার্ক অনেক ব্যস্ত থাকে।

* মায়ের জন্য ফুল কেনা

২০১৬ সালের মা দিবসে আমেরিকায় ২.৪ বিলিয়ন ডলারের ফুল এবং ৭৯২ মিলিয়ন ডলারের কার্ড বিক্রি হয়েছিল। আমেরিকায় মা দিবসে মায়ের জন্য বিশেষ করে এক ধরনের ফুলের তোড়া বানানো হয়। আনা জার্ভিসও তার মাকে এই ফুলের তোড়া উপহার দিতেন। আপনি হয়তো মনে করতে পারেন মা দিবসে এতো খরচ করার সামর্থ্য হয়তো সবার নেই। আপনি জেনে অবাক হবেন আমেরিকায় মা দিবসের ফুলের তোড়া মাত্র ২৯ ডলার মূল্যে বিক্রি হয়।    

৯. মায়ের কাজের মূল্য

একজন মা বাড়ির সকল কাজ যত্নসহকারে করে থাকেন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ সবই নিপুণ হাতে একজন মা সম্পন্ন করে থাকেন। এক জরিপে দেখা গেছে, একজন মা যেসব কাজ বিনামুল্যে করেন, কাজের লোক রেখে করালে বছরে ৬৭,৬১৯ ডলার পরিমাণ অর্থ খরচ হতো।

১০. ৭০ বছর বয়সে মাতৃত্বের স্বাদ

২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল তারিখে ভারতের দালজিন্দার কর নামে একজন ৭০ বছর বয়সি নারী প্রথমবারের মতো মা হন। তার ৭৯ বছর বয়সি স্বামী মোহিন্দার সিং গিল এবং তিনি কয়েক দশক ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন এবং অবশেষে উর্বরতাজনিত সমস্যার চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে তারা সমর্থ হন। এভাবেই দালজিন্দার কর মাতৃত্বের অমোঘ স্বাদ লাভ করেন।

১১. হবু মায়ের মস্তিষ্কের উন্নতি

গর্ভকালীন সময়ে নারীদের ত্বক এবং চুলেরই যে শুধু পরিবর্তন ঘটে তা নয়, তাদের মস্তিষ্কেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। ২০১০ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী গর্ভবতী হওয়ার ফলে মস্তিষ্কের ধূসর বস্তুর পরিমাণ বেশ খানিকটা বেড়ে যায় ফলে মস্তিষ্কের উপলব্ধি ক্ষমতা, যৌক্তিকতা যাচাই এবং বিভিন্ন জিনিস বিচার করে দেখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এই ক্ষমতাগুলো সন্তানের দেখাশোনা, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করা এবং জীবনের নানান পর্যায়ে মায়েদের কাজে লাগে।

১২. মা সবসময় একই

তিনি প্রতিটি মাতৃভাষায় একই নামের পেয়েছেন। পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি দেশের শিশুরা তাদের মাকে ডাকার সময় একইভাবে ডেকে থাকে। এ যেন এক আশ্চর্য মায়াবী রহস্য।

১৩. মা শব্দটি মূখ্যতার পরিচয়

মায়ের গুরুত্ব অনুযায়ী মা শব্দটিকে মূখ্যতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। যেমন কম্পিউটারের প্রধান যন্ত্রাংশের নাম মাদারবোর্ড। এরকম আরো অনেক বিষয় আছে যেখানে মা শব্দটি দ্বারা মূখ্যতা বোঝানো হয়।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ মে ২০১৮/ফিরোজ

   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শূন্য হাতেই ফিরছে মেয়েরা

শূন্য হাতেই ফিরছে মেয়েরা

২০১৮-০৫-২০ ৯:৪১:৪৯ পিএম
কূটনীতিকদের নিয়ে বিএনপির ইফতার

কূটনীতিকদের নিয়ে বিএনপির ইফতার

২০১৮-০৫-২০ ৮:৪৪:২৬ পিএম