সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালোবাসা দিবসের পরামর্শ

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১২ ৩:৫১:৩৮ পিএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসকে রাঙাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ভূমিকা রাখতে পারে। এদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লোকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ পোস্ট করে থাকে। যদি আপনার ইচ্ছে থাকে, তাহলে আপনিও বা বাদ যাবেন কেন?

এদিনটাতে লোকজন অন্তরঙ্গ ছবি, আবেগী ক্যাপশন থেকে শুরু করে ভালোবাসা সম্পর্কে তথ্য, যেকোনো কিছু শেয়ার করে। ভালোবাসা দিবসে কাটানো মুহূর্ত এবং সঙ্গী সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু শেয়ার করাটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলেও সীমালঙ্ঘন করা উচিৎ নয়।

কিছু লোক জীবনের প্রত্যেকটি ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতে পছন্দ করে, তাই তাদের পক্ষে সম্পর্কের যেকোনো ছবি ও খুঁটিনাটি শেয়ার করাটা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু এমনটা করা উচিৎ নয়, কিছু বিষয় আছে যা প্রকাশ্যে আনা ঠিক নয়। মনে রাখবেন যে আপনাদের সম্পর্কটা গড়ে ওঠেছে দুজনের মধ্যে, তাই আপনি এর কিছু অংশ শেয়ার করলেও কিছু বিষয় আছে যা গোপন থাকাই ভালো। তাই আপনাদের সম্পর্কের কিছু প্রকাশের পূর্বে বিবেচনা করুন যে শেয়ার করা সমীচীন হবে কিনা।

* কমই বেশি
প্রথমে মনে রাখবেন যে, ভালোবাসা দিবসে সবকিছু শেয়ার করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। কখনো কখনো কমই বেশি। আপনি হয়তো ১৪ ফেব্রুয়ারি কিংবা এর আশপাশের সময়টাতে ভ্যালেন্টাইন’স ডে পোস্ট করবেন, হয়তো আপনি ভালোবাসার মানুষ থেকে দূরে থাকলেও। কিন্তু আপনার সম্পর্কের প্রথম দেখা থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যা হয়েছে তার প্রত্যেকটি ঘটনাই শেয়ার করা সংগত নয়। চুম্বনের ছবি, আবেগবশত কলহ ও ক্ষমা-মার্জনার কথা কিংবা অতি স্পর্শকাতর কিছু ব্যাপার প্রকাশ্যে আনা থেকে বিরত থাকুন, অন্যথায় সম্পর্কে জটিলতা শুরু হতে পারে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনার সঙ্গে যুক্ত থাকা কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে।

* সম্পর্কের বয়স বিবেচনা করুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালোবাসা বিষয়ক পোস্ট করার আগে বিবেচনা করুন যে, আপনারা কতদিন ধরে একত্রে আছেন। কয়েকদিনের সম্পর্ক নিয়ে পোস্ট করলে তা সঙ্গীর কাছে বাড়াবাড়ি হিসেবে মনে হতে পারে এবং সম্পর্কের শেষ হতে পারে সেখানেই। আপনার জন্য চারদিকে অদ্ভুত পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে, আপনার মন যতই সরল হোক না কেন পৃথিবীটা ততটা সরল নয়- তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু শেয়ারের আগে সম্পর্কের দৈর্ঘ্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের সম্পর্কের দৈর্ঘ্য ও লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে পোস্ট করা উচিৎ, অন্যথায় সামাজিক বাস্তবতায় আপনার সরল মনে কঠিন আঘাত পড়তে পারে।

* সঙ্গীর কথাও ভাবুন
ভ্যালেন্টাইন’স ডে পোস্ট করার পূর্বে শুধু আপনার ফ্রেন্ডলিস্ট কিংবা ফলোয়ার লিস্টে লোকজন কি বলবে তা নয়, আপনার সঙ্গীর প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে তাও মাথায় রাখুন। আপনি হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশি ব্যবহার করেন, বিপরীতে আপনার সঙ্গীর এর প্রতি থাকতে পারে অনীহা- তিনি হয়তো সম্পর্ককে প্রকাশ্য আনা পছন্দ করবেন না। আপনার সঙ্গীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আকর্ষণ থাক কিংবা না থাক, তিনি হয়তো তার অনুমতি ছাড়া সম্পর্কের কোনো অন্তরঙ্গতা শেয়ার করাকে সমর্থন করবেন না, ফলে সম্পর্কে ধরতে পারে ফাটল কিংবা সৃষ্টি হতে পারে কোনো বিরূপ পরিস্থিতি। ভালোবাসার গভীরতা যেমনই হোক, অনেকে চায় না যে ভালোবাসা খোলামেলাভাবে প্রকাশ্যে আসুক। আপনার পোস্টের লেভেল তেমনই হওয়া উচিৎ, যাতে আপনার সঙ্গী স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করতে পারেন। কাপলদের ভালোবাসা বিষয়ক পোস্টের পূর্বে অনেক কথা বিবেচনা করতে হয়, এটি শুধু লাইক কিংবা শেয়ারের বিষয় নয়।

* গোপন বিষয় গোপনই থাক
কিছু লোক প্রতিবার পোস্টের সময় তাদের সম্পর্কের ধারাবিবরণী দিতে পছন্দ করে, কিন্তু তা করতে হবে কৌশলের সঙ্গে কিংবা কিছু বিষয় এড়িয়ে। আপনাদের দুজনের সম্পর্ক কেমন অথবা আপনারা একে অপরকে কতটুকু ভালোবাসেন তা সম্পর্কে লেখার বিষয়টি সম্পূর্ণ আপনাদের এখতিয়ারে, কিন্তু গোপন কিছু গোপন রাখার চেষ্টা করুন। আপনার সঙ্গী আপনার কোথায় কামড় বসিয়েছে কিংবা কিভাবে কি করেছে তা সবাইকে জানানোর প্রয়োজন নেই। আপনার সঙ্গী হয়তো ঘুমের সময় আপনার ভালো লাগে এমন কিছু করে, যেমন- আপনার শরীরে নাক ঘষে কিংবা মধুর শব্দ করে, কিন্তু আপনার এ পছন্দকে পাবলিক করার কোনো প্রয়োজন নেই। গোপন বা যৌন হাস্যরস ভুলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করবেন না, কারণ এগুলো অন্তরঙ্গ সম্পর্কের জন্য স্পেশাল মুহূর্ত- এসব মুহূর্ত গোপন না থাকলে তারা তাদের সেই কোয়ালিটি হারায় যা আপনাদের দুজনকে গভীর অনুভবে সাহায্য করে।

* অনুপযুক্ত মনে হলে পোস্ট করবেন না
যদি আপনি শেয়ারের জন্য ইতোমধ্যে কোনো পোস্ট রেডি করে থাকেন, কিন্তু নিশ্চিত নন যে এটি সীমালঙ্ঘন করেছে কিনা, তাহলে সবগুলো দিক আবার বিবেচনা করুন। আপনাদের সম্পর্কের কোনো বাঁকা দিক কিংবা সঙ্গী পছন্দ করবে না এমন কোনো বিষয় পোস্টে আছে কিনা দেখুন। যদি মনে করেন যে আপনার পোস্টটি আপনার সঙ্গীর মনোভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলবে তাহলে তা পোস্ট করবেন না। মাথায় রাখুন আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের কথা, তারা বিষয়টিকে কিভাবে দেখবে তাও বিবেচনা করুন। পোস্ট করার পূর্বে ভাবুন যে আপনার সঙ্গী এটি পোস্ট করলে আপনি কেমন অনুভব করবেন। যদি এতে আপনার মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিরাজ করে, তাহলে পোস্টটি শেয়ার করার প্রয়োজন নেই। মনে রাখবেন যে, মূল লক্ষ্য হচ্ছে খাঁটি ভালোবাসা। সবাই ভালোবাসা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করবে এমনটা নয় এবং তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। আবার কেউ তার ও তার সঙ্গী সম্পর্কে পোস্ট করলে সেটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়- শুধু বিবেচনায় রাখতে হবে ফ্রেন্ডলিস্ট ও সঙ্গী কি ভাববে তা। আপনি কি শেয়ার করছেন তা কোনো ব্যাপার নয়, শুধু কিছু গোপনীয়তা বজায় রাখলেই হলো। সবসময় মনে রাখবেন যে, কমই বেশি- এতে মনে সন্তুষ্টি আসবে।

তথ্যসূত্র : ব্রাইডস্

পড়ুন : * ভালোবাসা দিবসে গোলাপের ৭ বিকল্প
* ভ্যালেন্টাইন’স ডে সম্পর্কে পাঁচ তথ্য
* কেন ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন’স ডে?
* দেশে দেশে ভালোবাসা দিবসের প্রথা
* কিউপিড কেন ভালোবাসার প্রতীক?
* ভ্যালেনটাইন’স ডে নিয়ে মজার তথ্য
* ভিন্নভাবে করতে পারেন ভ্যালেন্টাইন’স ডে উদযাপন
* ভালোবাসা দিবসে কোন পোশাকের রঙের কী মানে




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ফিরোজ

   
 


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বইমেলায় বক্তৃতা শেখার বই

২০১৯-০২-২০ ১০:১৪:৪৪ পিএম

বিএনপিতে নতুন নেতৃত্ব আনার দাবি

২০১৯-০২-২০ ৮:২৩:৫৭ পিএম