একটা ফোনও ছিল না, এখন ঘরে টিভি-ফ্রিজ-এসি

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৪ ৫:১৬:৩৫ পিএম
জাকির হুসাইন | রাইজিংবিডি.কম

মো. ওমর ফারুকের হাতে লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার ও অন্যান্য পণ্য তুলে দেওয়া হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজের একটা মোবাইল ফোন পর্যন্ত নাই। দিনমজুর মো. ওমর ফারুক বহু কষ্টে কিছু টাকা জমালেন। পরিবারের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে স্ত্রীর আবদারে প্রথমেই কিনলেন একটি মার্সেল ফ্রিজ। সেই ফ্রিজ কিনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার। যা দিয়ে কিনেছেন প্রয়োজনীয় সব পণ্য। আগে একটা ফোন পর্যন্ত না থাকলেও, এখন তার ঘর টিভি-ফ্রিজ-এসিসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ভরপুর।

‘ফারুক অন্যের খেত-খামারে কাজ করে। সারা দিনের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে যে রোজগার, সেই টাকায় চার সদস্যের সংসার চলে তার। ভালো খাবার, ভালো পোশাক এমনকি জীবনে ভালো কোনো জিনিসও ব্যবহার করার সুযোগ হয়নি তার। দিন আনে দিন খায় অবস্থা। অথচ অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে মার্সেল কোম্পানির একটি ফ্রিজ কেনে সে। সেই ফ্রিজে সৌভাগ্যের দরজা খুলে গেল ফারুকের।’

কথাগুলো মো. ওমর ফারুকের প্রতিবেশী মো. মনির হোসেনের। তিনিই ফারুককে মার্সেল শোরুমে নিয়ে যান। ফ্রিজ কেনার পর ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করতে মনিরের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেন ফারুক। লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার পর ক্রয়কৃত পণ্যের একটিও নেননি মনির হোসেন। এমনকি ওমর ফারুক জোর করে কিছু দিতে চাইলেও তিনি নিতে অস্বীকার করেন।

মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লার লাকসামের ছিলইনের বাসিন্দা তিনি। নিজের কিছু জমির পাশাপাশি অপরে জমিতে বেশিরভাগ সময় কাজ করেন। তাতে যে রোজগার হয়, তা দিয়ে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ের ছোট পরিবার কোনোমতে চলে।

তিনি বলেন, ‘অনেক দুঃখ-কষ্টের সংসার আমাদের। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আমি মেজ। বড় পরিবারে অভাব-অনটন লেগে থাকত। ভাই-বোনদের মধ্যে কেউই তেমন লেখাপড়া করতে পারি নাই। ছোটবেলা থেকেই সবাই চাষ-বাস করে সংসার চালাই।’

ওমর ফারুক বলেন, ‘নিজেরা কোনো দিন টিভি-ফ্রিজ ব্যবহার করতে পারি নাই। আমার স্ত্রী প্রায়ই একটা ফ্রিজ কেনার কথা বলত। তার স্বপ্ন ছিল সবার মতো তারও একটা ফ্রিজ থাকবে। তাতে ইচ্ছামতো মাছ-মাংস রাখতে পারবে। সুবিধামতো সময়ে তা বের করে রান্নাও করতে পারবে। কিন্তু ফ্রিজ কিনতে অনেক টাকা লাগে। তাই আমার মতো গরিব মানুষের কাছে স্ত্রীর সেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব ছিল না। তবে একটু একটু করে অনেক দিন ধরে টাকা জমাতে থাকি। জমেও যায় প্রায় ২০ হাজার টাকা। ভাবলাম এবার ফ্রিজ কেনা যায়।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু কোন কোম্পানির ফ্রিজ কিনব বুঝতে পারছিলাম না। তাছাড়া বেশি টাকার এসব জিনিস কিনতে বুঝ-জ্ঞানওয়ালা লোক লাগে। এ সময় জানতে পারি আমাদের নিকট আত্মীয় ও প্রতিবেশী মো. মনিরের কথা। ১৭ বছর ধরে সে সৌদি আরবে থাকে। কাজও করে টেকনিশিয়ানের। সে এখন ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। আমার স্ত্রী বলল, মনিরকে সাথে নিলে ভালো হবে। ফ্রিজ কেনার বিষয়টি মনিরকে খুলে বললে সেও সাথে যেতে রাজি হয়।’

ফারুক জানান, তিনি ও মনির গত ৭ জানুয়ারি দীর্ঘদিনের সঞ্চিত টাকার সঙ্গে আরো কিছু টাকা নিয়ে কুমিল্লার লাঙ্গলকোট বাজারে যান। এ সময় মনির তাকে জানান, ওয়ালটন ও মার্সেল ফ্রিজ খুবই ভালো। বাজারে যাওয়ার পর তারা প্রথমে মার্সেলের শোরুম মেসার্স মা-মনি ইলেকট্রনিক্সে যান। ওই শোরুমের ম্যানেজারসহ বেশিরভাগ লোকই মনিরের পরিচিত। তাই অন্য কোথাও না গিয়ে সেখান থেকে দেখে শুনে ১১ সিএফটি আয়তনের একটি ফ্রিজ পছন্দ করেন। ২৪ হাজার টাকা দিয়ে তারা ফ্রিজটি কিনে নেন।

মনির বলেন, ‘মার্সেল পণ্য কিনে উপহার পাওয়া যাবে, তা আগে থেকে জানা ছিল না। শোরুমের ম্যানেজার জানান, এর আগে এমন অফার দেওয়া হয়নি। এই প্রথম মার্সেল ও ওয়ালটন এমন উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের কথা শোনার পর রেজিস্ট্রেশন করতে যাই। কিন্তু ওমর ফারুক এত গরিব যে তার একটা মোবাইল ফোন পর্যন্ত নাই। তাই নিয়ম অনুযায়ী আমার মোবাইল নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করি। এর পরপরই ১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচারের এসএমএস আসে আমার মোবাইলে। যা দেখে আমরা অবাক। মাত্র ২৪ হাজার টাকার এক ফ্রিজেই ওমর ফারুক ১ লাখ টাকা পেয়েছেন। এটা আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার দিয়ে ওমর ফারুককে অনেক কিছু কিনে দেওয়া হয়েছে। সেসব পণ্যে তার শূন্য ঘর ভরে গেছে। গরিবের ঘর এখন আধুনিক পণ্যে জ্বলজ্বল করছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে একটা এসি, আরো একটা ফ্রিজ, দুটি এলইডি টিভি, কয়েকটি ফ্যান, রাইস কুকার, গ্যাসস্টোভ, আয়রন এবং ব্লেন্ডার।’

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওমর ফারুক বলেন, ‘মার্সেলের কারণে যেসব দামি দামি জিনিস পেয়েছি, তা জীবনে কোনদিন হয়তো নিজের টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব হতো না। তাদেরকে ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য, ক্রেতাদের দোরগোড়ায় অনলাইনে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করেছে মার্সেল। এই কার্যক্রমে ক্রেতাদের অংশগ্রহণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার। মার্সেল শোরুম থেকে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি মূল্যের পণ্য কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করে সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার পাচ্ছেন ক্রেতারা। ক্যাশ ভাউচার পাওয়ার এই সুযোগ থাকবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/অগাস্টিন সুজন/রফিক

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শোডাউন ছাড়া কোনো চমক নেই এরশাদের

২০১৮-১০-২০ ৮:৫৯:২৫ পিএম

রূপসায় হেইয়ো হেইয়ো, পাড়ে করতালি

২০১৮-১০-২০ ৮:৪৮:৫৪ পিএম