কর ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করার নির্দেশ

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১২ ১০:৩৬:৪১ পিএম
এম এ রহমান | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক : কর ফাঁকিবাজ বিত্তশালীদের চিহ্নিত করতে কমিশনারেটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, পাশাপাশি কর ফাঁকিবাজ বাড়িওয়ালা ও ফ্ল্যাট মালিকদের করের আওতায় এনে করের পরিধি বাড়াতে হবে। এমনকি গ্রামের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা কর দিচ্ছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে।

বুধবার ঢাকার শান্তিনগরে বিসিএস (কর) একাডেমি ভবনে সহকারী কর কমিশনারদের ছয় মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশিক্ষণে ৪২ জন বিসিএস ক্যাডার অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৬তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যাডার ৩৯ জন। বাকি তিনজন ৩৪তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশের যত বড় বড় ব্যবসায়ী রয়েছে, তাদের করের আওতায় আনতে অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছি। কমিশনাররা তাদের চিহ্নিত করছেন। বর্তমানে আমাদের যে ট্যাক্সেশন জোনগুলোর রয়েছে, সেগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ করদাতাদের ফাইলগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন সহকারী কর কমিশনারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, আমাদের ওপর রাষ্ট্রীয় গুরুদায়িত্ব রয়েছে। আমাদের মেধা দিয়ে সে কাজ করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে যতটুকু সম্ভব কর আদায় করা যায় সে ব্যাপারে জোর দিতে হবে। চাপ দিয়ে বেশি কর আদায় বাহাদুরির ব্যাপার না।

এ সময় করের আওতা আরো বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

মোশাররফ হোসেন বলেন, তোমরা (নতুন সহকারী কর কমিশনার) ইটিআইএন ধারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করো। তোমরা করদাতাদের আশ্বস্ত করো যে, আমরা যতদিন এখানে আছি ততদিন আপনাদের সমস্যা নেই। করদাতাদের সংখ্যা বাড়ানো গৌরবের কাজ।  প্রতিজনে অন্তত ১০ জন করে ৪০০ জন নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত করবেন। এছাড়া, আত্মীয়-স্বজনসহ পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে কর দিতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

তিনি বলেন, গ্রামে কর প্রদানে সক্ষম অনেক ব্যক্তি রয়েছে, যারা করের আওতার বাইরে রয়েছে। তাদের করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এদের করের আওতায় আনতে আমরা দক্ষ কর্মকর্তা গ্রামে নিয়োগ দিয়েছি। তাদের কাজ হবে, কর প্রদানের সক্ষম ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে নয়, বুঝিয়ে করের আওতায় আনাতে হবে।

গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনের প্রচারণায় কোটি টাকা ব্যয় করে, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এরা নিয়ম অনুসারে কর দিচ্ছে কি না সেটা আমাদের দেখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইটিআইএন নির্বাচন অফিসে জমা দিয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো আয়কর রিটার্নপত্র জমা হয় না। সেক্ষেত্রে তাদের কর প্রদান বিষয়টি অপরিষ্কার রয়ে যায়। তাই আমাদের সেসব চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর করের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে গ্রামের বর্তমান চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কর দিচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।

বিসিএস (কর) একাডেমির মহাপরিচালক বজলুর কবির ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কর-৮ এর কমিশনার সেলিম আফজাল।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮/এম এ রহমান/রফিক

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ

তামিম ফিরছেন, সাকিবকে পাওয়ার আশা

২০১৮-১১-১৩ ৯:২৯:৩৮ পিএম