‘তামাক বিক্রেতারা আইন শতভাগ মানছে না’

প্রকাশ: ২০১৯-০৪-১৮ ৪:০৮:৪৯ পিএম
আরিফ সাওন | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ থাকলেও দেশে তামাক বিক্রি হয় এমন দোকানে আইন শতভাগ মেনে চলতে দেখা যায়নি। দোকানগুলোতে ১৮ শতাংশ  তামাক পণ্যের স্টিকার, ১৪ শতাংশ দোকানে পোস্টার, ৮ শতাংশ ব্র্যান্ডিং মার্ক, ১ শতাংশ দোকানে ব্যানার দেখা গেছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ প্রকাশিত জরিপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ জরিপ তুলে ধরেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আহমাদ খায়রুল আবরার। ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস-সিটিএফকে'র কারিগরি সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

প্রতিবেদনে তিনি জানান, জরিপে দেশের কোনো তামাক পণ্যের দোকানেই আইন শতভাগ মেনে চলতে দেখা যায়নি। দেশে তামাক বিক্রি হয় এমন দোকানগুলোর ১৮ শতাংশ তামাক পণ্যের স্টিকার, ১৪ শতাংশ দোকানে পোস্টার, ৮ শতাংশ ব্র্যান্ডিং মার্ক, ১ শতাংশ দোকানে ব্যানার দেখা গেছে। এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে তামাক পণ্যের ব্র্যান্ড সম্বলিত ডিসকাউন্ট কুপন, উপহার সামগ্রী, দোকানির গেঞ্জি ছিল, যা তামাক পণ্যের পরোক্ষ বিজ্ঞাপন। তাছাড়া আজকাল অনেক দোকানেই ‘এখানে ন্যায্য মূল্যে সিগারেট পাওয়া যায়’-এমন স্টিকার ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম লিখে প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এটাও এক ধরনের বিজ্ঞাপন, যা আইন অনুসারে নিষিদ্ধ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর যত মানুষ মৃত্যুবরণ করেন তার এক তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী হৃদরোগ। এই হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক সেবন। তামাক ব্যবহারের ফলে হৃদরোগ ছাড়াও ক্যানসার, ফুসফুসের রোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তাই জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় তামাকের বিস্তার রোধের কোনো বিকল্প নেই।

জনগণের মাঝে তামাকের বিস্তার ঠেকাতে আইন অনুসারে সব ধরনের তামাক পণ্যের (সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, সাদাপাতা ইত্যাদি) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু, তামাক কোম্পানিগুলোর ফাঁদে পড়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অনেক সময় না জেনে-বুঝেই তাদের দোকানে তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন।

বক্তারা দাবি জানিয়ে বলেন, ২০১৩ সালের সংশোধিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন’ অনুসারে তামাক পণ্যের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যেকোনো বিজ্ঞাপন প্রদর্শন, প্রচার করলে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। অন্যদিকে প্রোডাক্ট ডিসপ্লের নামে তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপনের বিষয়টি আইনে পরিষ্কারভাবে নিষিদ্ধ করা উচিৎ। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের জন্য দোকানদারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তামাক কোম্পানিকেও শাস্তির আওতায় আনতে বিদ্যমান আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক ড. নাসিরুদ্দিন আহমেদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাবেক অতিরিক্ত সচিব রুহুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন তামাক বিরোধী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ এপ্রিল ২০১৯/সাওন/সাইফ

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

২০২২ সাল পর্যন্ত রিয়ালে ন্যাচো

২০১৯-০৫-২২ ১০:০৫:২০ পিএম

ময়লার স্তূপে নবজাতকের লাশ

২০১৯-০৫-২২ ৮:৩৯:২৪ পিএম