বৃষ্টি নেই, বিপাকে আম-লিচুর বাগানমালিকরা

প্রকাশ: ২০১৪-০৫-০৩ ১১:৩৫:২৭ এএম
| রাইজিংবিডি.কম

মহাসিন আলী
মেহেরপুর, ৩ মে : বৈশাখ মাসের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও মেহেরপুরে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। আম-লিচুর বাগান নিয়ে বিপাকে বাগানমালিক ও লিজগ্রহীতারা।

গরমের তীব্রতায় বোঁটা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে আম-লিচু। ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে জেলা কৃষি বিভাগ। আতঙ্কে রয়েছে বাগানমালিক ও লিজগ্রহীতারা। অনেকে বাগানে শ্যালো মেশিন বসিয়েছেন। আবার অনেকে গাছের আমে স্প্রের মাধ্যমে পানি ও বিষ ছিটাচ্ছেন।

আম-লিচুর জেলা হিসেবে মেহেরপুরের পরিচিতি অনেক দিনের। উপযোগী আবহাওয়ার কারণে দিনে দিনে এখানে বেড়েছে আম-লিচুর বাগান। এ জেলার ল্যাংড়া ও হিমসাগর আম সারা দেশে সমাদৃত। অনেকে আম-লিচুর মুকুল আসার আগেই বাগান লিজ নিয়ে ব্যবসা করেন। কিন্তু এ বছর সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া এসব বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।

মেহেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ডপাড়ার খোকন শেখ বলেন, এ বছর তিনি তিনটি আমবাগান লিজ নিয়েছেন। বাগানে জমির পরিমাণ ৮ বিঘা। তার খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। বাগানে মুকুল ও গুটি দেখে অধিক লাভবান হওয়ার আশা করেছিলেন, কিন্তু এ বৈশাখের শেষ প্রান্তে এসেও বৃষ্টির দেখা না মেলায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

তিনি জানান, গাছের আম টেকাতে বাড়তি খরচ করে বাগানে সেচ দিচ্ছেন। আম ঝরে যাওয়া রোধ করতে হরমোন স্প্রে করেছেন। কিন্তু বৃষ্টির পানির মতো উপকার হবে না বলে মনে করেন তিনি।

মেহেরপুর শহরের কাজি অফিসপাড়ার রফিক শেখ বলেন, তিনি চার বিঘা জমির একটি লিচুবাগান লিজ নিয়েছেন। এতে তার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাগানে পর্যাপ্ত মুকুল আসে ও গাছে গুটি ধরেছে প্রচুর। কিন্তু এ সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় লিচুতে পোকা ধরা ও দাগ হওয়ার ভয়ে আছেন তিনি।

সাতক্ষীরার হাসান নামের এক ব্যবসায়ী মেহেরপুর সদর উপজেলার আমদহ এলাকায় আমের বাগান কিনেছেন।

তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে মেহেরপুর এলাকায় বাগান কিনে ব্যবসা করছি। লাভবানও হয়েছি। কিন্তু এ বছর লাভের মুখ দেখতে পাব বলে মনে হচ্ছে না।’

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাবমতে, এ জেলায় ২ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে আমের ও ৪৬০ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল আসায় ও পর্যাপ্ত গুটি ধরায় জেলার বাগানমালিকদের সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগও খুশি ছিল। তবে এ মুহূর্তে অনাবৃষ্টির কারণে আম-লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক চৈতন্য কুমার দাস জানান, ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে বাগানে সুষম সার ছিটিয়ে সেচ দেওয়া জরুরি। সকাল-সন্ধ্যায় স্প্রের মাধ্যমে আম-লিচু ধুয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিলেও এ অবস্থায় হরমোন জাতীয় কোনো ওষুধ স্প্রে না করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 

 

রাইজিংবিডি/টিপু/আবু মো.

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

বিশ্ব রেফ্রিজারেশন দিবস পালিত

২০১৯-০৬-২৬ ৯:৪৬:১৩ পিএম

ভারতের বিপক্ষে ভাগ্য সহায় হয় না!

২০১৯-০৬-২৬ ৯:৩৪:৪১ পিএম

আর আমেরিকা যেতে চাইবে না তারা

২০১৯-০৬-২৬ ৯:১৬:৩৮ পিএম
জেএফএ কাপ-২০১৯

আনিকার ডাবল হ্যাটট্রিকে ঠাকুরগাঁও’র বড় জয়

২০১৯-০৬-২৬ ৮:৫৯:৩৯ পিএম

নিশামের ৯৭-এ নিউজিল্যান্ডের ২৩৭

২০১৯-০৬-২৬ ৮:৫১:৩০ পিএম