শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে মৃত্যু কাম্য হতে পারে না

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৫ ৬:০৪:০৩ পিএম
নজরুল মৃধা | রাইজিংবিডি.কম

নজরুল মৃধা: শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে মৃত্যু কখনও কাম্য হতে পারে না। গত ৫ জানুয়ারি থেকে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের মানুষ শীতে কাতর হয়ে পড়েছে। শীতকাতর মানুষগুলো একটু উত্তাপের জন্য খড়কুটো জ্বেলে আগুন পোহাতে গিয়ে ঘটাচ্ছে বিপত্তি। অসাবধানে অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। আবার অনেকে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় সাবধানতা। এই সতর্কবার্তা এখনই গ্রামাঞ্চলের মানুষকে জানাতে হবে। নিতে হবে এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ। এগিয়ে আসতে হবে এলাকার তরুণদের।

গত ৫ জানুয়ারি থেকে ১০ দিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিতে এসে মৃত্যুবরণ করেছে ১৩ নারী শিশু। দগ্ধ অবস্থায় এখনো চিকিৎসা নিচ্ছে অর্ধশত নারী ও শিশু। হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। আহত দগ্ধদের যন্ত্রণায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকরাও চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক রংপুরের চিত্র যদি এমন হয় তাহলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় এ ধরনের সংবাদ পড়তে হচ্ছে।

কিন্তু কেন এই দুর্ঘটনা? বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় অসাবধানতার কথা। অসাবধানতার কারণেই অকালে চলে যেতে হয়েছে শীতের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে উত্তাপ নিতে যাওয়া এই মানুষগুলোকে। অগ্নিদগ্ধ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর সময় অসাবধানতাবসত তারা অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। শীত আর আগুন এই দুটোই তাদের সব স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। চিকিৎসার পাশাপাশি সংসারে শুরু হয়েছে অনেকের টানাটানি। যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা ছেড়ে গেছেন প্রিয় স্বজন। কেন অকালে এই চলে যাওয়া?-এই প্রশ্ন এখন অনুশোচনায় পরিণত হয়েছে। কেননা একটু সাবধান হলেই বাঁচানো যেত প্রাণ। শীতের কারণে আগুন এখন বড় বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে। হিতে বিপরীত ঘটনা ঘটছে।  বেশ কদিন থেকে শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্বিসহ যন্ত্রণা। শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে গ্রামগঞ্জের সর্বত্রই আগুনের উত্তাপ নেয়ার চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষ। কেউ পোয়াল, কেউ খড়কুটো জ্বেলে আগুনের তাপে শীত মোকাবেলার চেষ্টা করছেন। প্রতিবার শীত মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে এভাবেই অনেকে শীত নিবারণের চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, শহরেও নিম্ন আয়ের মানুষ রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহান। এ যেন এক সাধারণ দৃশ্য।

মানব সভ্যতার বড় আবিষ্কার আগুন। এক কথায় আগুন ছাড়া সভ্যতা অচল। কিন্তু আমরা মাঝে মাঝে ভুলে যাই আগুনের সুফলের পাশাপাশি কিছু কুফলও রয়েছে। এই ভুলে যাওয়াটাই ঘটাচ্ছে বিপদ। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে অনাকাঙ্খিত এসব বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। এটা অনেকেই ভাবতে চান না। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। প্রকৃতিতে প্রতিবছর শীত আসবে এটাই স্বাভাবিক। এটাকে প্রকৃতির নিয়ম বলে মেনে নিতে হবে। তবে এবারের অবস্থাটা অন্যান্য বছরের চেয়ে ব্যতিক্রম। গত কদিন থেকে দেশের উত্তরের আকাশে সূর্যের দেখা মিলছে খুব অল্প সময়। তুলনামূলক কুয়াশাও বাড়ছে। বইছে ঠান্ডা বাতাস। শ্রমজীবী মানুষ ঠান্ডায় স্বাভাবিক কাজের গতি হারিয়ে ফেলেছেন। গত ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গেছে  এবারের শীত। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে উত্তরাঞ্চলে স্থান ভেদে ৭ থেকে ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। বলা চলে শীত এবার ভালোভাবেই জেঁকে বসেছে। তাই শীতজনিত অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে আমাদের কিছু ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করি।

শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় শীত বস্ত্রের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে সমাজের বিত্তবানদের। সাধারণ মানুষকে ভাবতে হবে, শীতের চেয়ে আগুন বেশি শক্তিশালী। শীতের হাত থেকে বাঁচা গেলেও আগুনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। তাই খড়কুটো জ্বেলে উত্তাপ নেয়ার সময় শতভাগ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সচেতনতা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে সমাজকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনেরও এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করি। এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কার প্রচারণা চালালে অনেকেই সাবধান হবে। বিশেষ করে কোমলমতি চঞ্চল শিশুরা এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয় বেশি। বয়স্কদের উচিত তাদের সাবধান করা।

এছাড়া শীতের সময় শীতার্ত মানুষের শীত বস্ত্রের চাহিদার কথাও মনে রাখতে হবে প্রশাসনসহ সমাজপতিদের। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকার কারণেই মানুষ আগুন জ্বেলে তাপ পোহায়। ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স যেমন শুষ্ক মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ায় জনগণকে আগুনের হাত থেকে রক্ষার জন্য সতর্ক করে বিভিন্ন প্রচারণা চালান, তেমনি শীতের মৌসুমেও জনগণকে সতর্ক করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

লেখক: কবি ও সাংবাদিক




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৫ জানুয়ারি ২০১৮/তারা

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

এবার সাদা রঙের ইয়াবা

২০১৮-১০-২১ ৮:৪৮:৫৮ পিএম

ঢাকা-মস্কো কমিশনের বৈঠক সোমবার

২০১৮-১০-২১ ৮:১৬:০৯ পিএম

ধরন পাল্টেছে কিশোর অপরাধের

২০১৮-১০-২১ ৮:০৪:৩৭ পিএম