কী বার্তা বয়ে আনে ষাটোর্ধ্ব একুশ? || মিনার মনসুর

প্রকাশ: ২০১৮-০২-২১ ১১:১৮:৫১ এএম
মিনার মনসুর | রাইজিংবিডি.কম

জানুয়ারির শেষ দিনটিতেও আবহ ছিল অন্যরকম। শীত, আলস্য এবং ব্যাখ্যাতীত এক রুক্ষতা আর স্থবিরতার জটিল রসায়ন। মনকে ধরে-বেঁধেও বসাতে পারিনি লেখার টেবিলে। আমি ভাবি এ অবসাদ কি ব্যক্তিক? ভাবতে ভাবতে হাঁটি ধানমন্ডি লেকের হাঁটা পথ ধরে। সকাল। কিন্তু কোথাও কোনো তাজা ভাব নেই। নেই নড়াচড়া। বরং টি এস এলিয়টের কবিতার বিখ্যাত সেই পঙ্‌ক্তির মতো- লেকের জল থেকে বৃক্ষের শাখা অবধি পিঠ ঘষতে দেখি সর্ববিস্তৃত এক রুক্ষতাকে- যা দেখে মনে হতে পারে সৃজনশীলতার সঙ্গে বুঝি এ জন্মে আমাদের আর দেখা হবে না। কিন্তু বিস্ময়করভাবে পরদিনই অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথম দিবসেই দেখি একেবারেই ভিন্ন এক ছবি।
চোখেমুখে মাতৃস্নেহের মতো আশ্চর্য এক স্পর্শের শিহরণ অনুভব করি। লেকের নিস্তরঙ্গ জলে- বৃক্ষদের শাখায় শাখায়ও তার মৃদু আন্দোলন। নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারি এ হাওয়া উত্তরের নয়। একটি নয়, এক সঙ্গে পার্কের দুই প্রান্ত থেকে দুটি কোকিল উদাত্ত কণ্ঠে জানিয়ে দেয়- মিথ্যে নয় আমার অনুমান। এ সবই হলো ফেব্রুয়ারির জাদু। অনেকে মনে করেন, ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা নড়েচড়ে বসি। পত্রপত্রিকা-লেখক-প্রকাশক সবাই সরব হয়ে ওঠেন। আমার কিন্তু উল্টোটাই মনে হয়। বস্তুত ফেব্রুয়ারিই আমাদের জাগিয়ে তোলে- যেভাবে বাঙালির ঘুমন্ত সত্তা জাগিয়ে তুলেছিল বায়ান্নোর একুশে ফেব্রুয়ারি। 


একথা অনস্বীকার্য যে, একুশে ফেব্রুয়ারিই আমাদের পথ দেখিয়েছিল। দিয়েছিল স্বরূপের সন্ধান- যাকে আমরা বাঙালিত্ব, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি নানা নামে চিহ্নিত করে থাকি। তবে শুধু এটুকু বললে একুশের তাৎপর্যটা ঠিক ধরা যাবে না। পথ অনেকেই অনেকভাবে দেখাতে পারে। পথ দেখালেই যে সবাই সেদিকে ধাবিত হবে- সেই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শুধু পথই দেখায়নি, বরং বাঙালির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধর্ম-বর্ণ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত এবং ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে একতাবদ্ধ করে পথে টেনে এনেছিল। আর সেই পথই আমাদের পৌঁছে দিয়েছে পরম আরাধ্য স্বাধীনতার সোনালি বন্দরে।
হাজার বছরের ইতিহাসে যা ঘটেনি, ঘটবে এমনটা কল্পনা করার দুঃসাহস পর্যন্ত জাগেনি কারো মনে- মাত্র দু দশকের মধ্যে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছিল একুশে ফেব্রুয়ারি। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা যে আরও কঠিন তা উপলব্ধি করার জন্যে আমাদের বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের ব্যবধানে সপরিবারে স্বাধীনতার মহান স্থপতিকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাকে ঘিরে অন্ধকারের যে প্রেতনৃত্য শুরু হয়েছিল তা থেকে আজও আমাদের পরিত্রাণ মেলেনি পুরোপুরি। স্বাধীনতাপরবর্তী সেই অন্ধকারেও একুশই আমাদের পথ দেখিয়েছে। এখনো দেখাচ্ছে।

একুশের কাছে আমরা মাতৃভাষার অধিকার চেয়েছিলাম। একুশ আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আমাদের কি আর কিছু চাওয়ার থাকে তার কাছে? কিন্তু কোনো বঙ্গসন্তানই তা মানবে বলে মনে হয় না। এখনো একুশকে ঘিরে কত প্রত্যাশা কত অতৃপ্তি কত অনুযোগ-অভিযোগ আমাদের! আর এসবের উৎস যে ভাষার প্রতি আমাদের অনন্য অদম্য এক ভালোবাসা তা কে না জানে! অতৃপ্তি বলি আর অভিযোগই বলি সবচেয়ে বড় আক্ষেপটি যে সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন না হওয়ার তা নিয়ে দ্বিমত নেই। বায়ান্ন থেকে ধরলে ৬৬ বছর আর স্বাধীনতার পর থেকে হিসাব করলে কেটে গেছে দীর্ঘ ৪৬টি বছর! তার পরও সর্বস্তরে বাংলা চালু না হওয়াটা সত্যি খুব হতাশার। তবে এও কম গৌরবের বিষয় নয় যে, আমরা ছাড়া বিশ্বে আরও যে কমপক্ষে ১০ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে তারাও অকপটে স্বীকার করেন যে বাংলা ভাষার মশালটি কিন্তু আমাদের হাতে।


বিশ্ববরেণ্য বাঙালি পণ্ডিত নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিকে ‘আত্মঘাতী’ অভিধা দিয়েছিলেন। অকাট্য সব উদাহরণ তুলে ধরেছিলেন তার এ বিস্ফোরক মন্তব্যের অনুকূলে। স্বজাতি বিষয়ে বাঙালির চিরকালের সূর্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিজ্ঞতাও খুব সুখকর ছিল না। নিন্দুকেরা বলেন, জাতি হিসেবে বাঙালির সুনামের চেয়ে দুর্নামের পাল্লাই বেশি ভারী। এসব নিয়ে তর্ক করা যায়। তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত। সেটি হলো, বাঙালি বড় বিস্মৃতিপরায়ণ জাতি। নিকট অতীতেও আমরা এর অঢেল প্রমাণ পেয়েছি। সবচেয়ে মর্মান্তিক প্রমাণটি বোধ করি যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে গলাগলি ঢলাঢলি। যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে যিনি শহীদের রক্তস্নাত পতাকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি একজন সেক্টর কমান্ডার এবং তার দল তাকে এখনো একজন বড় মুক্তিযোদ্ধা বলেই মনে করে। এমন উদাহরণ এত বেশি যে লোম বাছতে গেলে কম্বল উজাড় হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।
এমন যে-জাতি তারা কেন ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে একুশের জন্যে অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু করে? একদিন-দুদিন নয়, টানা ৬৬ বছর ধরে ব্যতিক্রমহীনভাবে তারা এ কাজটি করে আসছে। এর মধ্যে কত না দুর্যোগ-দুর্বিপাক হানা দিয়েছে, আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তার অস্তিত্বসুদ্ধ বিপন্ন হবার- তারপরও তাকে নিরস্ত করা যায়নি। বন্ধ হয়নি একুশের জন্যে তার অধীর অপেক্ষার পালা। এখানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, পাকিস্তানি জান্তা একুশের স্মারক শহীদ মিনারটিকে ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চেয়েছিল। একবার নয়, বারবার। পিছিয়ে ছিলেন না আমাদের সামরিক স্বৈরশাসকরাও। ‘বিশ্ববেহায়া’ নামে খ্যাত সামরিক একনায়ক লে. জে. এরশাদ তো শহীদ মিনারে সামরিক প্রহরা বসিয়ে প্রভাতফেরি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। তার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আমাদের সহপাঠী মোজাম্মেলরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে। কিন্তু বন্ধ হতে দেয়নি শহীদ মিনার অভিমুখী জনস্রোত। এও লক্ষণীয় যে বায়ান্ন-পরবর্তী যে-কাল তার বেশিরভাগ সময়ই বন্দুকের নল তাক করা ছিল শহীদ মিনারের দিকে। তারপরও থামেনি একুশমুখী জনতার ঝরনাধারা।
কিন্তু কেন? এটা ভোগবাদশাসিত নিরঙ্কুশ বাণিজ্যের  যুগ। প্রায়শ শোনা যায়, বাঙালি নাকি এখন নিজের লাভের বাইরে এক পাও ফেলে না। কিন্তু এমন তো বলা যাবে না যে একুশের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো বৈষয়িক লাভের সম্পর্ক আছে। সস্তা ও চটকদার যেসব বস্তু ও বিনোদনের প্রতি ইদানীং বাঙালির আগ্রহ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে শোনা যায়- একুশকেন্দ্রিক যত কার্যক্রম প্রচলিত আছে সেগুলোর সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্কও খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। তারপরও যুগ যুগ ধরে একুশের জন্যে বাঙালি এমন উতলা কেন? কিসের আকর্ষণে সে ছুটে যায় একুশের বইমেলায় কিংবা শহীদ মিনারের বেদিমূলে? এ কি তবে তার আর দশটা হুজুগের মতো আর একটি হুজুগ?

না, এটা যে হুজুগ নয় তার প্রমাণ অনেক। সবচেয়ে বড় প্রমাণটি হলো একুশ ফেব্রুয়ারি কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। ১৯৫২ থেকে ২০১৮- মোটেও কম সময় নয়। এ সময়ে বাঙালিজীবনে বানের জলের মতো বহু হুজুগ এসেছে, আবার ভাটার টানে তা মিলিয়েও গেছে। কিন্তু আমরা যদি একুশের দিকে লক্ষ করি দেখবো-একুশের প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে ততই বইমেলা ফুলেফেঁপে উঠছে। বই বিক্রি হয় না- প্রকাশকদের এ অভিযোগ যত উচ্চকণ্ঠই হোক না কেন, প্রকাশিত বইয়ের পাশাপাশি প্রকাশকদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং বাংলা একাডেমির চৌহদ্দি ছাড়িয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেকটাজুড়ে বইমেলার পরিসরের বিস্তৃতি বলছে ভিন্ন কথা। চাহিদা না থাকলে- মুনাফার আকর্ষণীয় হাতছানি না থাকলে প্রকাশকদের কেউ যে পথ ভুলেও বইমেলামুখী হতেন না- তা বোঝার জন্যে অর্থনীতির পণ্ডিত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
শুধু কি বই? শহীদ মিনারও ছড়িয়ে গেছে দেশব্যাপী। এখন প্রত্যন্ত গ্রামেও শহীদ মিনারের দেখা মেলে। একুশের প্রভাতে সেখানেও পুষ্পাঞ্জলি নিবেদিত হয় শহীদদের স্মরণে। অজস্র অনুষ্ঠান হয় সারা দেশে। আগে যে-কাজটি কেবল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো করতো, এখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তাতে অংশ নেয়।  অতএব, যে-প্রশ্নটি দিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম তা আবারও আমাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়। বিস্ময় আরও বেড়ে যায়, যখন দেশের বর্তমান হতাশাব্যঞ্জক প্রেক্ষাপটের বিপরীতে আমরা একুশের এই চির অমলিন সৌম্য রূপটি দেখি। দেশ ধনে যত বড় হচ্ছে, মনের দিক থেকে যেন ততটাই ছোট হয়ে যাচ্ছে ক্রমে। বিশ্বায়নের ভোগবাদী দর্শনের প্রভাবে গোটা দেশ যখন নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের দিক থেকে ক্রমেই রসাতলে যেতে বসেছে, তখনো একুশ কীভাবে রাজহংসের পালকের মতো আশ্চর্য শুভ্রতা ধরে রাখে তারা পাখায়? একুশের জাদুটা তাহলে কোথায়?


সম্প্রীতি বাংলাদেশ সফরে এসে খুবই তাৎপর্য একটি কথা বলে গেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বিদগ্ধ বাঙালি রাজনীতিক প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ধরিত্রীর দূষণ নিয়ে অতি উদ্বেগজনক যেসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবৎ তার চেয়েও বহুগুণ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে মানুষের মনের দূষণ। পৃথিবীব্যাপী নানাভাবে এ দূষণ ছড়ানো হচ্ছে। এ হলো জাতিগত ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার দূষণ। বর্ণবাদের দূষণ। শুধু জাতি, ধর্ম কিংবা বর্ণগত ভিন্নতার কারণে আজ মানুষ মানুষকে হত্যা করছে। করছে দেশছাড়া। এটা কিন্তু আপনাআপনি হচ্ছে না। পরিকল্পিতভাবে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে উগ্রবাদের। প্রণব মুখার্জি বলেছেন, এটাই এ মুহূর্তে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যে সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিপদ থেকে বাঁচার মহৌষধটির নামও তিনি বলে গেছেন। সেটি হলো-বই।

সৌভাগ্যক্রমে একুশ আমাদের আজ থেকে সাড়ে ছয় দশক আগে দূষণবিনাশী এ বিশল্যকরণীর সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছিল। একুশের বর্মে সুরক্ষিত হয়েই আমরা পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসনকে রুখে দিয়েছি সফলভাবে। প্রতিহত করেছি স্থানীয় সামরিক স্বৈরশাসকদের যাবতীয় দূষণকেও। এখন আরও ভয়াবহ এক দূষণের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছি আমরা- যার কথা প্রণব মুখার্জি বলেছেন; যার বীভৎস নমুনা আমরা দেখেছি গুলশানের হলি আর্টিসান হত্যাকাণ্ডে। দেখেছি হুমায়ূন আজাদ ও অভিজিৎ রায়সহ আরও অনেকের ওপর ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন তাণ্ডবে। গোটা দেশ এখন যেভাবে উগ্রবাদের এ দম বন্ধ করা দূষণে আক্রান্ত- এমনটি আমরা ইতঃপূর্বে আর কখনো দেখিনি। এমনকি ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে জন্ম নেওয়া চরম সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তানের সূচনালগ্নেও নয়। 
সর্বব্যাপী এ দূষণের বিপরীতে একুশ আমাদের নিরাপদ আশ্রয়- মরুভূমিতে মরূদ্যান যেমন। একুশ শুধু যে দূষণ থেকে আমাদের সুরক্ষা দেয় তাই নয়, দূষণ বিনাশের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবেও রয়েছে তার অবিসংবাদিত ভূমিকা। এ কারণেই প্রাণের টানে এদেশের দূষণকবলিত মানুষ সব বাধাবিপত্তি অগ্রাহ্য করে বারবার একুশের শরণাপন্ন হয়। একুশ আমাদের অবিনাশী বাতিঘর। তার কাজ শেষ হয়নি। কখনো শেষ হবার নয়।

লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/তারা  

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

স্বপনকে ৭ টুকরো করে রত্মা ও পিন্টু

২০১৮-০৭-১৯ ১০:৩৯:৩৯ পিএম

সুযোগের অপেক্ষায় আল-আমিন

২০১৮-০৭-১৯ ১০:২১:১২ পিএম

রংপুরে সেই ওসি স্ট্যান্ড রিলিজ

২০১৮-০৭-১৯ ৯:৫৭:০২ পিএম

রিয়ালে এখন ফ্রি-কিক নেবেন কে?

২০১৮-০৭-১৯ ৮:৫৮:২২ পিএম
চাল আত্মসাৎ

খুলনায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

২০১৮-০৭-১৯ ৮:০৩:১৪ পিএম