সঙ্গীতার জন্য কয়েক ছত্র

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২১ ৬:৩৪:৪৫ পিএম
দীপংকর গৌতম | রাইজিংবিডি.কম

দীপংকর গৌতম : ফেসবুক আসার পরে নতুন একটা অভিযোগ বারবার শুনে যাচ্ছি। মায়েরা-বোনেরা এসব অভিযোগ করেই যাচ্ছে। কখনো বলি ব্লক করে দাও, কখনো এমন পরিস্থিতি দাঁড়ায় যে বন্ধু -বান্ধব যারা আইন-শৃঙ্খলা বিভাগে আছে তাদের শরণাপন্ন হতে হয়। এই অভিজ্ঞতা বাড়ছেই। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো এর সাথে যারা যুক্ত তাদের আমরা নিঃশর্তে সম্মান করি, সমীহ করি। যখন এদের নাম আমার বোনের মুখ থেকে শুনতে হয় আমি যেমন বিব্রত হই, তেমনি হতাশ হই। আইরিশ নাট্যকার আইজেন ইউনেস্কির নাটক ‘রাইনোসোরাস’ পড়ে আমার মনে হয়েছিলো, এ সমাজতো রাইনোসোরাস নাটকের দিকে যাচ্ছে।

আইরিশ শব্দ রাইনোসোরাস মানে গণ্ডার। শহরে একদিন একটা গণ্ডার দেখা দেয়। ধীরে ধীরে প্রতিটি মানুষ গণ্ডার হতে থাকে। এই নাটকের নায়িকাও গণ্ডার হয়ে যায়। তবু নায়ক সেই গণ্ডারদের বিরুদ্ধে লড়তে থাকে। অ্যাবসার্ড ধারার এ নাটক রিয়েলিস্টিক রূপ নিচ্ছে। বছর দুয়েক আগে আমার ছেলেবেলার বন্ধু নীলু জানিয়েছিলো, তার আর কোনো মতেই সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বাসা রাখা সম্ভব নয়। মোবাইলে কিছু ছেলে বিরক্ত করে যা চরম আকার ধারণ করেছে। আমি আমার গোয়েন্দা বিভাগের এক পদস্থ বন্ধুকে বললে তখন এটা বন্ধ হয়। গত কয়েকদিন আগে সাংবাদিক এক আপা জানালেন ইনবক্সের অশ্লীলতার কথা। বলেছি ব্লক করে দেন। কতজনকে বলবো? কী করবো? কারণ ধীরে ধীরে যাদের নাম শুনেছি তাদের কীভাবে বলবো- এসব ভাবতে না ভাবতেই নতুন ইস্যু এলো।

আমাদের ছোটবোন, আন্দোলনের সহযোদ্ধা সঙ্গীতা। বেশ প্রাণবন্ত। কোন আন্দোলন সংগ্রামে পেছনে থাকা লোক সে নয়। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে সক্রিয়। মানুষের জন্য তার মায়ার শেষ নেই। ওর একটা কাজ দেখে ভালো লেগেছিল। সেই থেকে এই ছোটবোনটাকে রীতিমতো শ্রদ্ধা করি। তার কাছে আছে, সব কমিউনিটি সেন্টারের নাম্বার। সেখানে যেসব খাবার রাতে উদ্বৃত্ত হয় সেসব খবার সে ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে বিতরণ করে। ভলান্টারি সার্ভিসের জন্য ফেসবুকে জানান দেয়। সবাই হাত তোলে। নিরন্ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে তার এই প্রচেষ্টা দেখে যাদেরই উৎসব অনুষ্ঠানে খাবার উদ্বৃত্ত হয় তারা  সঙ্গীতাকে খবর দেয়। ফুটপাতের নিরন্ন মানুষের অন্নপূর্না আমাদের এই সঙ্গীতা। কোন কিছুকে ভয় পাবার লোক সে নয়। কয়েকদিন আগে সঙ্গীতার একটা পোস্ট দেখলাম। খুবই অস্বস্তিতে ভুগছিলাম ব্যক্তির নাম দেখে। এ লোক এ কাজ করবে এটা ভাবিনি। কিন্তু একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘আজ রাতটা আমার সাথে ফ্রি হওনা’ শীর্ষক এক রিপোর্ট করে বসল। তাতে জানলাম  গত ৪-৫ দিন আগে একদিন মধ্যরাতে ম্যাসেঞ্জারে তাকে নক করেন এক ব্যক্তি। বছরখানেক আগে ওই ব্যক্তিই তাকে খুঁজে বের করে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান।

ওই নারী আরও বলেন, তিনি ওই ব্যক্তির অভিনয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। সে এক রাতে তার নিজস্ব আইডি থেকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। এখন ওই ব্যক্তি একবার বলছেন যে, তার আইডি হ্যাক হয়েছে তো আবার বলছেন তার ম্যাসেঞ্জার ঘনিষ্ঠ একাধিকজন ব্যবহার করতো। ভেবেছিলাম এ সংকট কেটে যাবে। কিন্তু ঘটনা ঘটলো অন্য জায়গায়। আমাদের সঙ্গীতার বিরুদ্ধে মামলা হয়ে গেল। এখন আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

ব্যক্তিটি সম্বন্ধে আগে কিছু বলিনি। আমার ধারণা ইতিমধ্যে অনেকে বিষয়টি জেনেছেন।  ব্যক্তির নাম গাজী রাকায়েত। বয়স তার ৫১ বছর বা তারও বেশি। এই মাঝবয়সে এসেও রাতবিরাতে তরুণীদের সাথে রাতভর প্রেমালাপ করতে ইচ্ছে করে তার! ঝড় দেখতে, জোৎস্না পান করতে ইচ্ছে হলে তার আমরা কি করতে পারি? তবে হ্যাঁ, এটুকু বলতে পারি, হঠাৎ এত বড় জঘন্য মনোবিকার কারো হয় না। এটা সে হাড়ের ঘরে পুষছে বহুদিন। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘প্রাগৈতিহাসিক’ গল্পের ভিকুর মতো সে ঘা সারিয়ে দেয়াটাকে প্র্যাকটিসে পরিণত করেছে। এম রাকায়েত এখন হাত বাড়ালেই মেলে। এ সমস্যা শুধু রাকায়েতের নয়, এটা রাকায়েতদের মতো অজস্র ভদ্রবেশী মানুষের সমস্যা। আমি সঙ্গীতার পক্ষে একটা স্ট্যাটাস দেয়ার পর উদীচীর বড় ভাই, প্রাজ্ঞজন, নাট্যকার মোফাখারুল ইসলাম জামান একটা কমেন্ট করেছেন: ‘আমি যতদূর জানি, গাজী রাকায়েত একজন সজ্জন এবং রুচিশীল ভদ্র মানুষ। দেখেছিও তাই। কিন্তু একি কথা শুনছি রে দীপঙ্কর !! তাকে নিয়ে আমি একটা প্যাকেজ নাটক করেছিলাম। তানভীর ভাইয়ের সিনেমায় কাজ করার সময় পরিচয়। একই এলাকায় বসবাস করি। কামনা করি, এগুলো যেন সত্য না হয়।’

তারপর আমি ফোন করে তার সঙ্গে কথা বলি। শুনে তিনি বলেন, আমরা তাহলে যাবো কোথায়? কি হচ্ছে এসব? তোমরা এগিয়ে যাও। তবে রাকায়েত সাহেব কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকেছেন মামলাটা করে। কিছু করেননি তো মামলা করেছেন কেন? কার বিচার চান? কেন? ঠাকুর ঘরে কে আমি কলা খাই না। অথচ এই ব্যক্তি এখন পর্যন্ত (২০১৭ সাল) এক বছরে সর্বাধিক পাঁচটি বিভাগে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ২০১৫ সালে ‘অনিল বাগচীর একদিন’ চলচ্চিত্রে আইয়ুব আলী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনি যদি এ ধরনের কাজ করতে দ্বিধা না করেন, একেক সময় একেক কথা বলেন তাহলে আমরা কোথায় যাবো? গাজী রাকায়েতের সেই  স্ক্রিনশট প্রকাশের পর, সে বিষয়টি মিটমাটের জন্য অপরাজিতা সংগীতাকে আলোচনার প্রস্তাব দেয়। আলোচনার এক পর্যায়ে গাজী রাকায়েত থানায় জিডি করেছেন যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। আমরা অতীতেও বলেছি আইসিটি এ্যাক্টের ৫৭ ধারার অপব্যবহার হচ্ছে বারবার। এখন আইসিটি এ্যাক্টের উপর ভর করে অভিযোগ থেকে পার পেতে চাইছেন এই যৌন বিকারগ্রস্ত।

গাজী রাকায়েতের কুরুচিপূর্ণ ও যৌন লালসাময় আবেদন ‘আজ রাতটা আমার সাথে ফ্রি হওনা’ যাকে আবেদন করেছিলেন, তার শিকার মেয়েটির জন্য ন্যায়বিচার করা জরুরি।  এবং অবিলম্বে গাজী রাকায়েতকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। অপরাজিতা সংগীতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, বিলোপ করতে হবে ৫৭ ধারার কালাকানুন । নতুবা মুখোশধারী লম্পটরা, দিনে দিনে পার পেয়ে যাবে, এ আইনের ব্যবহার করে ভয় দেখাবে তরুণীদের। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। পার্থক্য করতে হবে কাক ও কোকিলের মধ্যে। সঙ্গীতার পাশে আমরা আছি-থাকবো।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ মার্চ ২০১৮/তারা

   



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

স্ট্যানলেকের আইপিএল শেষ

স্ট্যানলেকের আইপিএল শেষ

২০১৮-০৪-২৪ ৯:২২:০৪ পিএম
রাজধানীতে বাস চালকের গলায় ফাঁস

রাজধানীতে বাস চালকের গলায় ফাঁস

২০১৮-০৪-২৪ ৯:১৮:১১ পিএম