মাতৃভাষা দিবস ও একুশের চেতনা

প্রকাশ: ২০১৯-০২-২১ ৬:২৭:৪৫ পিএম
আসাদ আল মাহমুদ | রাইজিংবিডি.কম

আসাদ আল মাহমুদ : একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জীবনে শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এ দিনে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রাণ দিয়েছেন রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত, শফিউদ্দিন, সালাম ও আরো অনেকে।

১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১১ মার্চ ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট ডাকে। এসময় সচিবালয়ের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ মার্চ তাঁরা মুক্তি পান। ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।

বঙ্গবন্ধুকে ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি তিনি মুক্তি পান। ১৯ এপ্রিল আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জুলাই মাসের শেষে তিনি মুক্তি পান। ১৪ অক্টোবর ঢাকায় বঙ্গবন্ধুকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগার থেকেই তাঁর দিকনির্দেশনায় আন্দোলন বেগবান হয়। সেই দুর্বার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা ভাঙতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন বাংলার দামাল তরুণরা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। বাঙালি পায় মাতৃভাষার অধিকার।

একুশে ফেব্রুয়ারির সেই রক্ত দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মানুষের প্রাণে অনুরণিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কানাডা প্রবাসী সালাম ও রফিকসহ কয়েকজন বাঙালি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে বর্তমান সরকার (আওয়ামী লীগ) সরকার এ বিষয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করে। যার ফলে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আজ সারাবিশ্বের সকল নাগরিকের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

বিশ্বের বিকাশমান ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার গবেষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক আগ্রহে ২০০১ সালে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়েছে।

একুশের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে বর্তমান সরকার দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যু, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন বৃদ্ধিসহ প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশে পরিণত করতে পারলে বাস্তবায়ন হবে একুশের চেতনা।

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ জানুয়ারি ২০১৯/আসাদ/শাহনেওয়াজ

     


Walton AC

আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

এ বছরই খুলনা জেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ

২০১৯-০৫-২১ ১১:৫২:০২ এএম

চিটাগাং চেম্বারে নতুন নেতৃত্ব

২০১৯-০৫-২১ ১০:১৯:১৬ এএম

বিশ্বকাপ জিতবে বাংলাদেশ!

২০১৯-০৫-২১ ৯:০৯:৫০ এএম

আফগান জাগরণে কাঁপবে বিশ্বকাপ!

২০১৯-০৫-২১ ৯:০৬:৪৩ এএম

টিভিতে আজকের খেলা

২০১৯-০৫-২১ ৮:৫৮:২৫ এএম