আকস্মিক তফসিল একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত : বিএনপি

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৯ ২:২৯:০৮ পিএম
রেজা পারভেজ | রাইজিংবিডি.কম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক সংকট সমাধান না হওয়ার আগেই আকস্মিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানেরই সুষ্পষ্ট ইঙ্গিত।

তিনি বলেন, ‘সকল বিরোধীদলের দাবি ছিল মাঠ সমতল এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করে তফসিল ঘোষণা। এমনকি পর্যাপ্ত সময়ও রয়েছে কমিশনের হাতে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধে নির্বাচনের পিছিয়ে দিলে আইনের কোনো  ব্যত্যয় ঘটতো না।’

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রিজভী।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ‘সকল রাজনৈতিক দলের মতামতকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র সরকারের নির্দেশে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই। বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের পাইকারি হারে গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে।’

সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা একের পর এক সংবিধান লঙ্ঘন করছেন দাবি করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মন্ত্রী ও অন্যান্য সাংবিধানিক পদধারিরা পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা কার্যকর হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক কোনো পদে আসীন ব্যক্তি অথবা কোনো মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি বরাবরে প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাথে সাথে সেটি কার্যকর হয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি-টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেন, কিন্তু আবার দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছেন।’

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার অধিকারকেও কেড়ে নেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আবারও একতরফা নির্বাচন করতে বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে জোরপূর্বক কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কি অদ্ভুত ব্যাপার! বেগম জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল  বোর্ডের ছাড়পত্রের প্রয়োজন পড়েনি। ছাড়পত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়েছে পিজির চিকিৎসক নন এমন একজন শিক্ষার্থী-চিকিৎসক দিয়ে। এমনকি বেগম জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগরে নেওয়া হয়েছে তার মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা তা জানেনও না।’

‘বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নানামুখী চাপেরই এটি একটি অংশ। সরকার নিজ উদ্দেশ্য সাধনে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণের মাত্রা দিনকে দিন বৃদ্ধি করছে। সুতরাং চিকিৎসা শুরু না হতেই তড়িঘড়ি করে তাকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে’, বলেন রিজভী।

রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও আশপাশের জেলায় চলছে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে দাবি করেন তিনি বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা যেন সমাবেশে যোগ দিতে না পারে সেজন্য শহরে ঢোকার বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে কম্বিং অভিযান চলছে। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকতের বাসাসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীর বাসায় বাসায় গোয়েন্দা পুলিশ হানা দিয়েছে। বৃহত্তর রাজশাহী জেলায় পরিবহণ ধর্মঘট করানো হয়েছে সুপরিকিল্পতভাবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের বিপরীত কর্মকাণ্ডই চলছে। গতকাল সিইসি বলেছেন-নির্বাচনের ভূমি সমতল থাকবে। নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার হয়রানি, সমাবেশে বাধা প্রদানকে কি সমতল ভূমি বলে? মূলত রাজনৈতিক ময়দান সম্পূর্ণভাবে সরকারের অনুকূলে সমতল রাখার যাবতীয় বন্দোবস্ত করছে নির্বাচন কমিশন।’

বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভাস্থল থেকে ১৮ জনের অধিক নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানান রুহুল কবির রিজভী।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৯ নভেম্বর ২০১৮/রেজা/সাইফ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ

তামিম ফিরছেন, সাকিবকে পাওয়ার আশা

২০১৮-১১-১৩ ৯:২৯:৩৮ পিএম