খালেদার মুক্তি না দিয়ে তফসিল গ্রহণযোগ্য নয় : ফখরুল

প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৯ ৭:১৯:০৬ পিএম
তানজিমুল হক | রাইজিংবিডি.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : ‘নির্বাচন করতে হলে সবার জন্য সমান মাঠ প্রস্তুত করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিয়ে তফসিল ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।’

শুক্রবার নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। দুপুর পৌনে ২টায় রাজশাহী শহরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে এ সমাবেশ শুরু হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার বৈধ না। এ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না। তাই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা ঐক্য করেছি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে মিটিংয়ে বলেছিলেন, ‘আমি হিংসা চাই না, অশান্তি চাই না। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করবেন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ করবেন’।’’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা জানি আপনারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যে আপনাদের এই ত্যাগ। মামলা, হামলায় আপনারা জর্জড়িত। এখানে একজনও নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা নেই।’’ 

খালেদা জিয়াসহ সব নেতা-কর্মীর মুক্তি দিলে নির্বাচনে যাবেন উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘‘নইলে নির্বাচনে যাব না। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তাকে নির্বাচনের মাঠে কাজ করতে দিতে হবে। অন্যথায় তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না, হবে না।’’

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসা ছাড়াই জোর করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার কী দোষ ছিল? তিনি দেশের জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছিলেন। সেজন্য এই সরকার তাকে কারাগারে রেখেছে। কারণ এই সরকার জনগণকে ভয় পায়।

সমাবেশে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকারের ভিত নড়ে গেছে। তারা পালাবার পথ খুঁজছে। আপনারা মাঠে থাকেন। আপনাদের বিজয় সুনিশ্চিত। এবার আপনারা জয়ী হবেন, জয়ী হলে কী হবে? কৃষক-শ্রমিকদের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। কৃষকের পণ্যের মূল্য নেই, শ্রমিকের শ্রমের মূল্য নেই। এসব প্রতিষ্ঠিত হবে।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘‘আমি বিএনপির সভায় আসিনি, কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সভায় এসেছি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাইলে ঐক্যফ্রন্ট অটুট রাখতে হবে।’’

জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘‘সংলাপে গিয়েছিলাম, দেশ জাতিকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। বলছি সংঘর্ষে যাবেন না। আমরা নির্বাচনে আসতে চাই। নেত্রীকে মুক্তি দেন, নেতা-কর্মীদের মুক্তি দেন। ১৭০ দিন হরতাল করে তত্ত্বাবধায়ক দাবির সময় শেরাটনের সামনে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার কথা আমরা ভুলে যাইনি।’’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘‘নির্বাচন ২৩ জানুয়ারি হলে অসুবিধা হতো না। আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, কিন্তু শেখ হাসিনা সরকার যা শুরু করেছে তাতে নির্বাচন করা সম্ভব না। রাজশাহী বিমানবন্দর থেকে এখানে আসতে আমার গাড়ি দুবার আটকে দিয়েছে, আমি অপরিচিত কেউ না। আমার গাড়ি কেন আটকাবে?’’ 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাজশাহীর সমন্বয়ক সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।



রাইজিংবিডি/রাজশাহী/৯ নভেম্বর ২০১৮/তানজিমুল হক/বকুল

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ

তামিম ফিরছেন, সাকিবকে পাওয়ার আশা

২০১৮-১১-১৩ ৯:২৯:৩৮ পিএম