ঘরের যেসব জিনিস থেকে ক্যানসার হতে পারে

প্রকাশ: ২০১৮-০২-১৮ ১১:০৫:২০ এএম
এস এম গল্প ইকবাল | রাইজিংবিডি.কম

লেদার রিক্লাইনার

এস এম গল্প ইকবাল : আপনার সোফা, আপনার ফ্রিজ, আপনার গ্র্যানাইট কাউন্টারটপ এবং ঘরের অন্যান্য অনেক জিনিস হতে পারে আপনার মধ্যে ক্যানসার সৃষ্টির কারণ। এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

* সোফা

আপনার প্রিয় সোফা আপনার সর্বনাশ করতে পারে এবং তা কেবল এই কারণে নয় যে এটি আপনাকে কাজকর্ম থেকে দূরে থাকতে প্রলুব্ধ করে: অনেক সোফা, ম্যাট্রেস এবং অন্যান্য কুশনযুক্ত ফার্নিচারে অগ্নিপ্রতিরোধী টিডিসিআইপিপি ব্যবহার করা হয় যা ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। ২০১৩ সালের পূর্বে প্রায়ক্ষেত্রে টিডিসিআইপিপি ব্যবহার করা হতো এবং ডিউক ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের রক্তে এটি পাওয়া যায়। এ গবেষণা অনুসারে, এটি হচ্ছে দশটি কেমিক্যালের একটি, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে গৃহস্থালির ধূলিকণায় পাওয়া যায়।

আপনি যা করতে পারেন : যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের মতে, ২০১৩ সালের পূর্বে ক্রয়কৃত কুশনযুক্ত ফার্নিচার বদলে ফেলার কথা বিবেচনা করুন এবং যেকোনো নতুন ফার্নিচার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ফার্নিচার লেবেল চেক করুন।

* কার্টেন ও কার্পেট

ক্যাডমিয়াম হচ্ছে সিগারেট স্মোকের কার্সিনোজেনিক বাইপ্রোডাক্ট। যদি আপনি ঘরে ধূমপান করেন, তাহলে ক্যাডমিয়াম ও সিগারেট স্মোকের অন্যান্য বাইপ্রোডাক্ট ঘরের জিনিসের সঙ্গে লেগে থাকতে পারে, বিশেষ করে কার্টেন ও কার্পেটের মতো নরম পৃষ্ঠের ওপর- এমনকি স্মোকের ঘ্রাণ চলে যাওয়ার দীর্ঘসময় পরও। ধূমপানের ফলে ঘরের জিনিস বা বিভিন্ন অংশে ক্ষতিকারক পদার্থ লেগে থাকাই হচ্ছে থার্ডহ্যান্ড স্মোক এবং এসব পদার্থ শক্তিশালী ক্লিনিং প্রোডাক্টের প্রতি রেজিস্ট্যান্ট।

আপনি যা করতে পারেন : ধূমপান ত্যাগ করুন এবং কখনো ঘরে ধূমপানের অনুমতি দেবেন না।

* লেদার রিক্লাইনার

ক্রোমিয়াম ৬ হচ্ছে পরিচিত কার্সিনোজেন যা পাকা চামড়া, কাঠের আসবাবপত্র, টেক্সটাইলে ব্যবহৃত কিছু রঙ ও রঞ্জক পদার্থ এবং সিমেন্টে পাওয়া যায়। ডেনমার্কে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, আমদানিকৃত প্রায় অর্ধেক চামড়ার জুতা ও স্যান্ডালে ক্রোমিয়াম ৬ পাওয়া গেছে।

আপনি যা করতে পারেন : ক্রোমিয়াম ৬ আছে কিনা জানতে প্রোডাক্টের লেবেল চেক করুন।

* বাগান

ডাইঅক্সিন হচ্ছে একটি কার্সিনোজেন যা বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে উৎপন্ন হয় এবং শেষ পর্যন্ত এর ঠাঁই হয় মাটি ও পানিতে। এটি তাকের ধূলিকণা, ফ্লোরের ময়লা এবং শাকসবজির রেসিডুতে থাকতে পারে।

আপনি যা করতে পারেন : বাগানে কাজ করার সময় গ্লাভস পরুন এবং ঘরে প্রবেশের পূর্বে হাত-মুখ-পা ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া গৃহস্থালির আবর্জনা পোড়ানো থেকে বিরত থাকুন।

* পুরোনো ফ্রিজ

ক্যানসার ডট অর্গের মতে, ‘পুরোনো যন্ত্রপাতি, ফ্লোরেসেন্ট লাইটিং ফিক্সচার এবং ইলেক্ট্রিক্যাল ট্রান্সফরমারে কার্সিনোজেনিক পিসিবি আবির্ভূত হতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে পিসিবি উৎপাদিত হয় না, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশে এখনো পিসিবি উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে। পিসিবি এক্সপোজারের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে খাবার।

আপনি যা করতে পারেন : পুরোনো যন্ত্রপাতি ও ফ্লোরেসেন্ট লাইটিং ফিক্সচার দূর করুন। পিসিবি-দূষিত মাছ ও অন্যান্য খাবার বর্জন করুন।

* ক্লিনিং প্রোডাক্ট

ফরমালডিহাইড হচ্ছে একটি পরিচিত কার্সিনোজেন যা খাবার, কসমেটিক্স, বিভিন্ন ধরনের ক্লিনিং প্রোডাক্ট (যেমন- ডিসওয়াশিং লিকুইড, ফ্যাব্রিক সফেনার ও কার্পেট ক্লিনার), পেইন্ট, ফোম ইনসুলেশন এবং পার্মানেন্ট প্রেস ফ্যাব্রিকে পাওয়া যায়। এছাড়া গ্যাস কুকার এবং ওপেন ফায়ারপ্লেসের ধোঁয়া থেকে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে এটি এক্সপোজ হতে পারে।

আপনি যা করতে পারেন : ফরমালডিহাইড সমৃদ্ধ হাউজহোল্ড প্রোডাক্টগুলো চিনে রাখুন। সাবধানতার সঙ্গে আপনার ক্লিনিং প্রোডাক্ট বেছে নিন এবং রান্নাঘরে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করুন।

* ওয়ারড্রব

শুষ্ক-পরিষ্কারক কেমিক্যাল পেরক্লোরোইথাইলিন (টেট্রাক্লোইথাইলিন বা পার্ক) হচ্ছে একটি কার্সিনোজেন যা আপনি যেখানে শুষ্ক-পরিষ্কৃত কাপড় রাখেন সেখানে জমা হতে পারে। এটি স্পট রিমুভার, শো পলিশ ও উড ক্লিনারেও পাওয়া যায়।

আপনি যা করতে পারেন : জুতা পলিশ ও কাঠ পরিষ্কার করার সময় গ্লাভস পরুন। যদি আপনি নিজের কাপড় নিজে শুকান ও পরিষ্কার করেন, তাহলে পার্ক নেই এমন ড্রাই-ক্লিনার ব্যবহার করুন।

* ভিনাইল ফ্লোরিং ও মিনিব্লাইন্ড

ধারণা করা হচ্ছে, ফ্যালেইটস ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি মানব প্রজনন বা ক্রমবিকাশে প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ভিনাইল ফ্লোরিং, শাওয়ার কার্টেন, সিনথেটিক লেদার, মিনিব্লাইন্ড, ওয়ালপেপার এবং পিভিস ভিনাইল দিয়ে নির্মিত যেকোনো কিছুতে পাওয়া যায়। প্লাস্টিকের প্যাকেটজাত খাবারেও এটি পাওয়া যায়।

আপনি যা করতে পারেন :

পিভিসি ভিনাইল দিয়ে তৈরিকৃত পণ্য থেকে দূরে থাকুন। ফ্যালেইট-মুক্ত পণ্য খুঁজে দেখুন। ২০০৮ সালের পূর্বে তৈরিকৃত প্লাস্টিক খেলনা পরিহার করুন, গ্লাস ও স্টেইনলেস পাত্র ও বোতল ব্যবহার করুন। প্লাস্টিকের মোড়ক ও খাবারপাত্র ব্যবহার করবেন কিনা পুনর্বিবেচনা করুন।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/ফিরোজ

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

পুরুষের মেনোপজ : যা জানা জরুরি

২০১৮-১০-১৭ ৯:০৩:৫৩ পিএম

সুজি দিয়ে তালের বড়া

২০১৮-১০-১৭ ৮:৫১:১৮ পিএম

মনোবিদের ক্লাসে ক্রিকেটাররা…

২০১৮-১০-১৭ ৮:৩৫:৫৩ পিএম