নারীর যত অসুখ : সচেতনতা ও প্রতিকার

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৮ ৫:১৮:৫৭ পিএম
ঝুমকি বসু | রাইজিংবিডি.কম

ঝুমকি বসু : নারীকে সন্তান-সংসার সামলাতে গিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। নিজের জন্য কোনো সময় বের করা কঠিন। কিন্তু নারীর নিজেকে নিয়ে এমন অবহেলার সুযোগে তার শরীরে বাসা বাঁধে নানা অসুখ-বিসুখ। এমনকি মরণ ব্যাধি ক্যানসারও এই সুযোগ নেয়। তাই নারীকে ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই শরীর নিয়ে সচেতন হতে হবে। কিছুটা সময় বের করতে হবে নিজের জন্য। নারীর এমন কিছু অসুখ নিয়ে নারী দিবসে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেন বারডেম হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাসুমা জলিল।

স্তন ক্যানসার: নারী দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ স্তন। কিন্তু এই স্তনে বাসা বাঁধে ক্যানসারের মতো ঘাতক ব্যাধি। কর্মব্যস্ত জীবনে নারীরা নিজের দেহের প্রতি খুব কমই যত্ন নিতে পারেন। মাঝে মাঝে নারী নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করতে পারেন। স্তন ক্যানসার বর্তমানে নারীদের মধ্যে রীতিমতো একটি আতঙ্কের নাম। তবে আশার কথা হচ্ছে, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে পারলে আমরা সহজেই এর চিকিৎসা করতে পারি। স্তনের কিছু কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় তখন স্তন ক্যানসার হতে দেখা যায়।

এই রোগের লক্ষণগুলো হলো: স্তনে পিণ্ডের মতো অনুভব হয়। স্তনের বোঁটা থেকে রক্ত বের হয়। বোঁটা ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। স্তনের ত্বক লালচে হয়ে যায়, কমলার খোসার মতো হয়ে যায়। আকার-আকৃতির পরিবর্তন হয়।

রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যানসারের ধরণ, পর্যায়, ক্যানসারের কোষগুলো হরমোন সংবেদনশীল কিনা তার ওপর। অধিকাংশ মহিলাদেরই স্তন অপারেশনের পাশাপাশি কেমথেরাপি, হরমোন থেরাপি এবং রশ্মি থেরাপির প্রয়োজন হয়। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পরে মহিলাদের এই রোগ হয়ে থাকে। তাই ৪০-এর পর নারীর সচেতন হওয়া প্রয়োজন। একটি স্তনে ক্যানসার থাকলে অপরটিও আক্রান্ত হতে পারে। পরিবারে অন্য কারো স্তন ক্যানসার থাকলে আশঙ্কা থাকে।

অস্টিওম্যালেশিয়া: ৪০ বছর বয়সের পরে সাধারণত মহিলাদের এই সমস্যা দেখা দেয়। ভিটামিন ডি-এর অভাবে মূলত এই রোগ হয়। মাংসপেশী আর হাড়ে ব্যথা এই রোগের লক্ষণ। শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা হয়। পিঠেও ব্যথা হতে পারে। রাতে ব্যথা বাড়ে। প্রথম অবস্থায় এই রোগের লক্ষণ বোঝা যায় না। তাই বয়স বাড়লেই নারীর নিজের শরীর নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিন হালকা রোদে কিছুক্ষণ দাঁড়াতে পারলে ভালো হয়। ডায়েটে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

থাইরয়েড: আপনার বয়স কি ২০ থেকে ৫০ এর মধ্যে? খুব পরিশ্রম করেন, শারীরিক বা মানসিক? আপনার হাতে পাঁচ মিনিট সময় আছে? হ্যাঁ, মাত্র পাঁচ মিনিট। দুই মিনিট নিজেই পরীক্ষা করুন আর তিন মিনিট নিজেকে নিয়ে ভাবুন। কী পরীক্ষা করবেন? কী নিয়ে ভাববেন?

হাতে এক গ্লাস পানি নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ান। এক ঢোঁক পানি মুখে নিন। আয়নায় চোখ রেখে পানিটা গিলুন এবং সঙ্গে সঙ্গে খেয়াল করুন আপনার গলার সামনে থাইরয়েড গ্লান্ডের ওঠা-নামা। গ্লান্ডটা কি একটু বড় ঠেকছে? খাদ্যে আয়োডিনের অভাবে ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সিদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। গ্লান্ডটা যদি বেশি বড় হয়ে যায় তাহলে শ্বাসপথে চাপ সৃষ্টি হতে পারে, গলার স্বর পাল্টাতে পারে এবং খাবার গিলতেও অসুবিধা হতে পারে।

এবার নিজের ত্বক ও চুলের দিকে তাকান। ত্বক কি উজ্জ্বলতা হারাচ্ছে? চুল দ্রুত পড়ে যাচ্ছে? এটা সেটা না মেখে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আপনার ক্ষুধা আছে তবু ওজন কমছে? থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে এমনটা হয়। আবার ক্ষুধা নেই তবু ওজন বাড়তে পারে হরমোন কমে গেলে।

অকারণে রেগে গিয়ে বাড়ি মাথায় তুলছেন, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে, সামান্য ব্যাপার নিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ঝগড়া করছেন, কিছুই ভালো লাগছে না আপনার, আবার হঠাৎ আবেগপ্রবণ হয়ে যাচ্ছেন, কেঁদে ফেলছেন? আপনার থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা করিয়ে নিন। সমস্যা ধরা পড়লে উপযুক্ত চিকিৎসায় আপনি সুস্থ, স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ মার্চ ২০১৮/ফিরোজ/তারা

   
 



আজকের সর্বশেষ সংবাদ সমূহঃ

শোডাউন ছাড়া কোনো চমক নেই এরশাদের

২০১৮-১০-২০ ৮:৫৯:২৫ পিএম

রূপসায় হেইয়ো হেইয়ো, পাড়ে করতালি

২০১৮-১০-২০ ৮:৪৮:৫৪ পিএম